Wed 22nd Jul 2026, 3:39 am

মহাকাশে রাইড-শেয়ার: চাঁদে পণ্য পরিবহনে আইস্পেসের নতুন কৌশল

মহাকাশে রাইড-শেয়ার: চাঁদে পণ্য পরিবহনে আইস্পেসের নতুন কৌশল
চাঁদে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা এখন আর কেবল বৃহৎ মহাকাশ সংস্থাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানও এখন তাদের বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ও মালামাল চন্দ্রপৃষ্ঠে প্রেরণের সুযোগ পাচ্ছে। যেমনটি বাস বা বিমানে একাধিক যাত্রী একসাথে ভ্রমণ করেন, তেমনই একটি রকেটে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনের এই অভিনব সুযোগ নিয়ে আসছে জাপানি মহাকাশ সংস্থা আইস্পেস।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আইস্পেস সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের স্টারশিপকে কাজে লাগিয়ে একটি নতুন প্রজন্মের চন্দ্র কার্গো পরিষেবা শুরু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকে তুলনামূলকভাবে কম খরচে তাদের পেলোড চন্দ্রাভিযানে পাঠানোর সুযোগ করে দেবে।

এই পরিষেবার অংশ হিসেবে, আইস্পেস ২০৩০ সালের জন্য নির্ধারিত একটি স্টারশিপ মিশনে ৫০০ কিলোগ্রাম মালামাল বহনের ক্ষমতা নিশ্চিত করেছে, যার জন্য তাদের ৫ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে।

আইস্পেস এমন একটি বিশেষ চন্দ্রযান ডিজাইন করছে যেখানে একাধিক গ্রাহকের মালামাল একযোগে পরিবহন করা সম্ভব হবে। সহজ কথায়, এটি হবে চাঁদে পৌঁছানোর একটি ‘রাইড-শেয়ার’ পদ্ধতি, যেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ মহাকাশযান ভাড়া করার পরিবর্তে কেবল তাদের প্রয়োজনীয় স্থানটুকু ব্যবহার করতে পারবে।

আইস্পেসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদেয়ারি কামিয়া এই নতুন সেবাকে চাঁদে গমনকারী একটি ‘বাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাদের নিজস্ব ল্যান্ডারগুলো ‘ট্যাক্সি’র ভূমিকা পালন করবে। ‘বাস’ ব্যবহার করে সবাই চাঁদের কক্ষপথের কাছাকাছি পৌঁছাবে, এবং পরবর্তীতে ‘ট্যাক্সি’গুলো যাত্রী বা মালামালকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।

জাপানের আইস্পেসের ‘রেজিলিয়েন্স’ চন্দ্রযানের মডেল। ফাইল ছবি: রয়টার্স

তবে আইস্পেসের যাত্রা সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০২৩ এবং ২০২৫ সালে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট ব্যবহার করে চাঁদে অবতরণের দুটি প্রচেষ্টাই শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হয়। তা সত্ত্বেও, সংস্থাটি তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা ‘আল্ট্রা’ সিরিজের তিনটি নতুন ল্যান্ডার চাঁদে নামানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে একটি মিশন নাসার কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেস (CLPS) কর্মসূচির আওতাভুক্ত থাকবে।

আইস্পেসের প্রধান নির্বাহী তাকেশি হাকামাদা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, স্পেসএক্সের সাথে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব তাদের ব্যবসাকে দ্রুতগতিতে প্রসারিত করবে। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে চাঁদে গবেষণা, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান এবং স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ধরনের পরিবহন সেবার চাহিদাও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

স্পেসএক্সও এই অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক বিক্রয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেফানি বেডনারেক মন্তব্য করেছেন যে, এই ব্যবস্থার ফলে ক্ষুদ্রাকার পেলোড পরিবহনের জন্য চাঁদে পৌঁছানো আরও সহজ হবে। এর ফলস্বরূপ, বহু নতুন প্রতিষ্ঠান চন্দ্রাভিযানে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করবে।

তবে এই চুক্তি কেবল আইস্পেসের সঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়। নাসাও ২০২৮ সালে তাদের আর্টেমিস কর্মসূচির অধীনে স্টারশিপ ব্যবহার করে নভোচারীদের চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। একইসাথে, মার্কিন স্টার্টআপ অ্যাস্ট্রোল্যাবও তাদের রোভার পাঠানোর জন্য ভবিষ্যতের একটি স্টারশিপ মিশনে স্থান সংরক্ষণ করেছে।

আকর্ষণীয় তথ্য হলো, এই অভিনব ব্যবসায়িক মডেলের ধারণাটি মূলত স্পেসএক্স থেকেই এসেছিল। আইস্পেসের প্রধান নির্বাহী নিশ্চিত করেছেন যে, স্পেসএক্সই প্রথম এই ‘রাইড-শেয়ার’ মডেলের প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছিল।