Fri 24th Jul 2026, 2:51 am

শিক্ষার্থীদের চলমান প্রতিবাদে সালমান খানের সংহতি

শিক্ষার্থীদের চলমান প্রতিবাদে সালমান খানের সংহতি
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান ভারতে শিক্ষার্থীদের চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁর সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। তিনি প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। একইসাথে, আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

বুধবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে সালমান খান উল্লেখ করেন, 'এটি একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় আমি মর্মাহত। আহত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি। প্রশ্নফাঁস একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, এবং আমি আনন্দিত যে দেশের শিক্ষার্থীরা একটি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে একত্রিত হয়েছে, যেখানে অভিভাবকরাও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।' তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার্থীদের এই দৃঢ় অবস্থান তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষারই সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

তার মতে, 'এই আন্দোলনই সঠিক পন্থা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি তুলে ধরেছে। তাদের সাহস ও দৃঢ়তা বাস্তবিক অর্থেই অনুপ্রেরণামূলক। শিক্ষার প্রতি এই প্রজন্মের আগ্রহ ভবিষ্যতে ভারতকে আরও শক্তিশালী করবে।' সালমান খান এই আন্দোলনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, 'এটি সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার একটি বিষয়, যার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব শিক্ষার্থীদেরই প্রাপ্য।' তিনি আস্থা প্রকাশ করেন যে সরকার তাদের দাবিগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যা সবার জন্যই কল্যাণকর হবে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে হৃতিক রোশন, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, নাসিরুদ্দিন শাহ, সোনাক্ষী সিনহা, রত্না পাঠক শাহ, শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, টোভিনো থমাস এবং অতুল কুলকার্নিসহ বহু চলচ্চিত্র তারকা শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি চাকরির পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, বিশেষত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনে পরে যোগ দেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। পরবর্তীতে, রাজধানীতে আয়োজিত 'চলো সংসদ' কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগ করে।