Sat 25th Jul 2026, 2:50 am

শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের অনড় অবস্থান; মোদি সরকারের সময় প্রার্থনা

শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের অনড় অবস্থান; মোদি সরকারের সময় প্রার্থনা
ভারতের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-এর নেতারা ঘোষণা করেছেন যে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাতে মোদি সরকার আগামীকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আজ শুক্রবার সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক ফলপ্রসূ বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা এই তথ্য জানান।

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ সোনম ওয়াংচুক তার ২৬ দিনের দীর্ঘ অনশন ভাঙার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা নিরসনের একটি আশার আলো দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার তরুণ সমবেত হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সামনে যুবসমাজের পক্ষ থেকে ছুড়ে দেওয়া এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তরুণ সমাজের এই আন্দোলনে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোও সমর্থন জানিয়েছে, যার ফলে চলতি সপ্তাহে ভারতের সংসদে শুরু হওয়া বর্ষাকালীন অধিবেশন বারবার মুলতবি করতে হচ্ছে।

গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছিল। তবে আজকের বৈঠকটি ছিল সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রথম বিস্তারিত আলোচনার উদ্যোগ। সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে সিজেপির নেতারা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ব্যতীত অন্য কোনো প্রস্তাব তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে তারা মন্ত্রীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সরকার আমাদের কাছে আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করছি, সরকার দ্রুত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেবে অথবা তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন। তাহলেই এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘তাঁদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে। আমরা তাঁদের বলেছি, আগামীকাল বিকেলে আবার বসব এবং দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের অপর দুটি প্রধান দাবি হলো: বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তাদের পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।