Mon 27th Jul 2026, 2:50 am

বার্লিনে উৎসবের জনসমাবেশে প্রাণঘাতী গাড়িচাপা: ১ জন নিহত, আহত ১৬

বার্লিনে উৎসবের জনসমাবেশে প্রাণঘাতী গাড়িচাপা: ১ জন নিহত, আহত ১৬
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ উৎসবের জনসমাগমের মধ্যে একটি গাড়ি ঢুকে পড়ার ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। জার্মান পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছিল গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে, ঐতিহাসিক ব্রান্ডেনবুর্গ ফটকের কাছে টিয়ারগার্টেনের দক্ষিণ প্রান্তে। হতাহতের পরপরই কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই উৎসব বন্ধ ঘোষণা করে।

বার্লিনের স্থানীয় সংবাদপত্র টাগেস স্পিগেল পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, একটি সাদা রঙের ছোট গাড়ি আচমকা জনসমাগমের মধ্যে ঢুকে পড়ে।

বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ জানান, গাড়িটি বেশ কয়েকজন পথচারীকে চাপা দেওয়ার পর একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এরপর সন্দেহভাজন চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, হঠাৎ করেই সাইরেনের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের পাশেই স্থাপিত বিশাল মঞ্চের পর্দার ওপর বড় অক্ষরে ‘এলাকা খালি করুন’ বার্তাটি ভেসে ওঠে। এ সময় সবাইকে শান্তভাবে যার যার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশ এখনও নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে জানানো হয়েছে যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে, যদিও তাকে এখনও আটক করা যায়নি।

পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ আজ রোববার নিশ্চিত করেন যে, সন্দেহভাজনকে ধরতে শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে, ওই ব্যক্তি ‘ইসলামিক বলয়ের’ সাথে সংশ্লিষ্ট। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

বার্লিন পুলিশ এই ঘটনাটিকে একটি হামলা হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে যে, ব্যবহৃত গাড়িটি ঘটনাস্থলের কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের সুবিধার্থে, পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ঘটনার মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (পূর্বের টুইটার)-এ একটি পোস্ট করেছে।

পুলিশ আরও জানায় যে, অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে ২৫০টিরও বেশি যানবাহন প্রতিরোধক নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন করা হয়েছিল এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরাও ছিল। এত ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে একটি গাড়ি ভিড়ের মধ্যে প্রবেশ করতে পারল, তা বর্তমানে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ঘটনার পর পুলিশি হেলিকপ্টার নিচু হয়ে ওই এলাকায় চক্কর দিতে থাকে। মাঝে মাঝে সার্চলাইট ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হয়। ড্রোনও মোতায়েন করা হয়েছিল এবং কয়েকটি ড্রোনকে রাইখস্টাগ (জার্মান পার্লামেন্ট ভবন) এর কাছে অবতরণ করতেও দেখা যায়।

জার্মানিতে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ হলো সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামী ও কুইয়ার (এলজিবিটিকিউ+) সম্প্রদায়ের মানুষের বার্ষিক উদযাপন। এই দিনে তারা সমান অধিকারের দাবি, বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার পক্ষে মিছিল, সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করে। জার্মানিতে বার্লিন ও কোলন শহরে এই দিনটিতে সবচেয়ে বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বার্লিনের এই ঘটনাকে একটি ‘ভয়ংকর কর্মকাণ্ড’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি আমাদের স্বাধীন ও উন্মুক্ত সমাজের ওপর একটি সুস্পষ্ট আক্রমণ। বার্লিনের শান্তিপূর্ণ ও বর্ণিল এই জনসমাবেশকে নৃশংসভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’