Thu 30th Jul 2026, 2:53 am

ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তারে ভারতের নৌবহর সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনা: লক্ষ্য ২০০ যুদ্ধজাহাজ

ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তারে ভারতের নৌবহর সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনা: লক্ষ্য ২০০ যুদ্ধজাহাজ
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, বিশেষত চীনের ব্যাপক নৌবহর সম্প্রসারণ এবং পাকিস্তানের অত্যাধুনিক চীনা-নির্মিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিন অধিগ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে, ভারত আগামী এক দশকের মধ্যে তার নৌবাহিনীর বহর ২০০টি যুদ্ধজাহাজ ছাড়িয়ে যাওয়ার এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই পদক্ষেপটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নয়া দিল্লির ক্রমবর্ধমান কৌশলগত উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে।

এই সুবিশাল সম্প্রসারণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ভারত সম্প্রতি তার নৌবাহিনীতে স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং সাবমেরিন শিকারি আইএনএস মালভানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। উভয় যুদ্ধজাহাজই সম্পূর্ণরূপে ভারতে নির্মিত, যা বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা হ্রাস করে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতি নয়াদিল্লির অঙ্গীকারের শক্তিশালী প্রমাণ। বিশেষত, আইএনএস মহেন্দ্রগিরি ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো দ্বারা নকশাকৃত এবং মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স দ্বারা ৭৫ শতাংশ স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করে তৈরি। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর "আত্মনির্ভর ভারত" দর্শনকে প্রতিফলিত করে, যা প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জনের উপর জোর দেয়।

আইএনএস মহেন্দ্রগিরি নীলগিরি-শ্রেণির ষষ্ঠ জাহাজ, এবং এই শ্রেণির সপ্তম ও শেষ যুদ্ধজাহাজ, বিন্ধ্যাগিরি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হবে। এছাড়াও, 'প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো' সাংকেতিক নামের সাত থেকে আটটি 'পরবর্তী প্রজন্মের' যুদ্ধজাহাজ বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীতে প্রায় ১৫০টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার এবং সাবমেরিনের মতো সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ হিসেবে বিবেচিত। অতিরিক্ত প্রায় ৫০টি জাহাজ বিভিন্ন নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন রিয়ার অ্যাডমিরাল এবং বর্তমান প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্র এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, "যেহেতু এই বহরটি প্রধানত দেশীয়ভাবে নির্মিত যুদ্ধজাহাজ নিয়ে গঠিত হবে, তাই ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টি জাহাজের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। সঠিক সমর্থন ও উদ্দীপনা পেলে আমরা এই সংখ্যাটিও ছাড়িয়ে যেতে পারি।" মিশ্র আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমান কৌশলগত প্রেক্ষাপটে, ভারতের দুটি অত্যন্ত গতিশীল এবং স্বয়ংসসম্পূর্ণ নৌবহরকে স্থায়ীভাবে প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য। তবে, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অতিরিক্ত সহায়ক জাহাজেরও প্রয়োজন হবে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায়, ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের বহরে নতুন জাহাজ অন্তর্ভুক্তির গতি বাড়িয়েছে, প্রতি ছয় সপ্তাহ বা তার কিছু বেশি সময়ে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করছে। গত দেড় মাসে তারা দেশীয় উপকরণ ও প্রযুক্তিতে নির্মিত পাঁচটি জাহাজকে পরিষেবাতে যুক্ত করেছে। তবে, সমালোচকরা এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য অর্জনের পথে বেশ কিছু সম্ভাব্য বাধার কথাও উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা বিশেষায়িত ইস্পাত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের উপর ভারতের ক্রমাগত নির্ভরশীলতা, সেইসাথে দেশের অব্যবস্থিত অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলা এবং পুরোনো শিপইয়ার্ড অবকাঠামো।