Sun 2nd Aug 2026, 3:00 am

সুগন্ধি চালের বাজারে অভূতপূর্ব মূল্যস্ফীতি: এক মাসে কেজিতে ৬০-৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড দাম

সুগন্ধি চালের বাজারে অভূতপূর্ব মূল্যস্ফীতি: এক মাসে কেজিতে ৬০-৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড দাম
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিভিন্ন জাতের সুগন্ধি চালের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মানভেদে প্রতি কেজি চালে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ঘটেছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়িক মহলের দাবি, রফতানির ক্রমবর্ধমান হার স্থানীয় বাজারে সরবরাহের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে, যা বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পরিচালিত পর্যবেক্ষণ অনুসারে, খোলা পোলাওয়ের চালের দামে কয়েক মাস আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। পূর্বে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া চাল বর্তমানে মানভেদে ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় বিকোচ্ছে। অপরদিকে, প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের কেজিপ্রতি মূল্য প্রায় ২১০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

খুচরা বিক্রেতারা তাদের বক্তব্যে জানান, সুগন্ধি চালের রফতানি বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে এক প্রকার সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলস্বরূপ, এই মূল্যস্ফীতির সূচনা পাইকারি স্তর থেকেই হয়েছে।

পাইকারি বিক্রেতাদের অভিমত হলো, বিশেষত প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে চিনিগুড়া চালের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় রফতানি বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে অনৈতিকভাবে চাল মজুদ করছে।

এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে চালের কোনো প্রকৃত সংকট বিদ্যমান নেই। তার ধারণা, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চালের দাম অন্যায়ভাবে বাড়াচ্ছেন।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দফায় মোট ২৩ হাজার ৯৫৯ টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।