Tue 8th Sep 2026, 4:50 pm

দেড় ডিগ্রি উষ্ণতা বৃদ্ধি: পৃথিবীর জন্য অনিবার্য ও অপরিবর্তনীয় সংকট

দেড় ডিগ্রি উষ্ণতা বৃদ্ধি: পৃথিবীর জন্য অনিবার্য ও অপরিবর্তনীয় সংকট
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সংকট বর্তমানে এক অভূতপূর্ব মাত্রা লাভ করেছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির বিপজ্জনক সীমা অচিরেই অতিক্রম করতে পারে, যা প্রাকৃতিক পরিবেশের বহু অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন এই আশঙ্কার কথাই তুলে ধরেছে।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির ‘লিমিটিং ওভারশুট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের প্রান্তিক সীমা অতিক্রম করতে পারে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ চরম আবহাওয়ার ঘটনাপ্রবাহ আরও তীব্র ও ঘন ঘন হয়ে উঠবে। ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় ভুগবে। এমতাবস্থায়, তাৎক্ষণিক এবং সুদূরপ্রসারী উভয় পদক্ষেপের মাধ্যমেই গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করা অত্যাবশ্যক।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির ভারত প্রধান, বালাকৃষ্ণা পিসুপাতি উল্লেখ করেছেন যে, দক্ষিণ এশিয়া একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই অঞ্চলের উচ্চ জনসংখ্যার চাপ, আয় বৈষম্য এবং প্রযুক্তিগত অসমতা এটিকে জলবায়ু সংকটের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলেছে। ঐতিহাসিকভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে দক্ষিণ এশিয়ার অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও, এর ভয়াবহ পরিণতি এই অঞ্চলের দেশগুলোকেই অধিক পরিমাণে বহন করতে হচ্ছে। যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভৌগোলিক সীমা মানে না, তাই বহুপক্ষীয় আলোচনা এবং কাঠামোগত সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো (UNFCCC) এই সংকট মোকাবিলায় নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জলবায়ু-সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি সংকট দ্রুত ঘনীভূত হচ্ছে। যদিও উষ্ণতা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা যেতে পারে, হিমবাহের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, একবার গলে যাওয়া হিমবাহ সহজে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে না, এমনকি তাপমাত্রা কমলেও। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয়; তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।
জাতিসংঘের মতে, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়সাধন সবচেয়ে স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কোনো প্রজাতি একবার বিলুপ্ত হলে প্রাকৃতিকভাবে তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এর ব্যাপক প্রভাব বিভিন্ন দেশের কৃষকদের জীবনযাত্রার ওপর পড়েছে। খরা এবং বন্যার পুনরাবৃত্তির ফলে বহু পরিবার বাধ্য হচ্ছে তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবন ও জীবিকা ত্যাগ করতে। কয়েক দশক ধরে নিরলস প্রচেষ্টা চালালেও এই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞানীরা ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নটিকে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করছেন। তাঁদের মতে, যে সকল দেশ অতীতে অধিক পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ করেছে, তাদের দায়িত্বও তুলনামূলকভাবে বেশি। জলবায়ু সংকট এখন আর কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি মানবজাতির অস্তিত্ব এবং উন্নয়নের মৌলিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
এই প্রতিবেদনটি ইন্ডিয়া টুডে-র সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অবলম্বনে প্রস্তুত করা হয়েছে।