Thu 10th Sep 2026, 8:14 pm

নারী এশিয়া কাপ: ফাইনালের স্বপ্নে ফের ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

নারী এশিয়া কাপ: ফাইনালের স্বপ্নে ফের ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ
নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের নারী দলের এবারের পথচলা যেন এক পুনরাবৃত্তিমূলক আখ্যান। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসা, এবং তারপর গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ভারতকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া—গত আসরের ধারাবাহিকতাই যেন ফিরে এসেছে এবারও।

আজ সন্ধ্যায় দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে টাইগার নারীরা মুখোমুখি হবে সেই ভারতেরই। গত ২০২৪ সালের শ্রীলঙ্কা আসরে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে পরাজিত হয়ে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলাদেশ নারী দলের। এবারের পরিস্থিতি গতবারের চেয়ে উন্নত তো নয়ই, বরং আরও প্রতিকূল। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরাজয় এবং অন্য দুটি জয়ও তেমন সন্তোষজনক ছিল না।

এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১২৯ রান করলেও ৮ উইকেট খুইয়েছিল বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১০০ রান করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল! ব্যাটিংয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা এবার নারী এশিয়া কাপে বাংলাদেশের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রান সংগ্রহ যেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের কাছে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এই ব্যাটিং দুশ্চিন্তা সঙ্গী করেই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ অপ্রতিরোধ্য ভারত। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত ২৪ বারের মুখোমুখি দেখায় বাংলাদেশের জয় মাত্র তিনটিতে। এশিয়া কাপের সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন দলের ব্যাটার শারমিন আক্তার।

পরশুদিন আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে শারমিন বলেন, ‘তারা (ভারত) এই টুর্নামেন্টের শীর্ষস্থানীয় দল। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে এমন শক্তিশালী দলের সঙ্গেই খেলতে হবে। তাদের বিপক্ষে খেলাটা আমাদের জন্য উপভোগের, কোনো চাপের বিষয় নয়।’

২০১৮ সালে টি-টোয়েন্টি নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এরপর আর কোনো আসরে তারা ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। ২০২২ সালে সিলেটে অনুষ্ঠিত পরের এশিয়া কাপে ঘরের মাঠে থাইল্যান্ডের কাছে হেরে গ্রুপ পর্বেই থেমে যায় টাইগ্রেসদের অভিযান। আর গত আসরে সেমিফাইনালে আবারও ভারতের কাছেই হারতে হয়। ব্যাটারদের এমন কঠিন সময়ে এবার ভারতের বিপক্ষে অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হলে বাংলাদেশকে বোলারদের ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হবে।

দুবাইয়ের এই টুর্নামেন্টে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়াকে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট করা, ১১৫ রান তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ৬ উইকেট পতন ঘটানো কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৬৯ রানে (৯ উইকেট) আটকে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান অস্ত্র ছিলেন স্পিনাররাই। এর পাশাপাশি, যেকোনো কন্ডিশনেই দলের জন্য এক বাড়তি শক্তি হিসেবে রয়েছেন মারুফা আক্তার।

এবারের টুর্নামেন্টেও মারুফা দুর্দান্ত বোলিং করছেন। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই তিনি ইনিংসের প্রথম স্পেলে বল করে উইকেট তুলে নিয়েছেন। পেসারদের মধ্যে এবারের এশিয়া কাপে তিনিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

মারুফা যদি তাঁর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন এবং স্পিনাররাও তাঁদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন, তাহলে আজ বাংলাদেশের জন্য ভালো ফলের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একটি ক্ষুদ্র পরিসংখ্যান এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট করতে পারে: টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে বাংলাদেশ যে তিনবার পরাজিত করেছে, তার দুবারই প্রতিপক্ষকে যথাক্রমে ১০২ ও ১০৯ রানে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

যে নারী এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের প্রথম বড় সাফল্য এসেছিল, সেই আসরেই তারা বর্তমানে ব্যর্থতার বৃত্তে আবদ্ধ। এবার কি সেই বৃত্ত ভাঙতে পারবে বাংলাদেশ? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে আজ তাকিয়ে থাকতে হবে দুবাইয়ের দিকে, যেখানে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় ম্যাচটি শুরু হবে।