Wed 30th Sep 2026, 9:09 pm

বিটিভির 'নতুন কুঁড়ি'র প্রত্যাবর্তন: সামিনা, ঈশিতা, তারিন, তিশাদের উত্তরসূরি খোঁজার মহাযাত্রা

বিটিভির 'নতুন কুঁড়ি'র প্রত্যাবর্তন: সামিনা, ঈশিতা, তারিন, তিশাদের উত্তরসূরি খোঁজার মহাযাত্রা
বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে এক অনবদ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’। এই মঞ্চ থেকেই সামিনা চৌধুরী, অভিনয়শিল্পী তারানা হালিম, রুমানা রশিদ ঈশিতা, তারিন জাহান, মেহের আফরোজ শাওন, নুসরাত ইমরোজ তিশাসহ অসংখ্য গুণী শিল্পী তাদের পরিচিতি লাভ করেছেন। এক দীর্ঘ বিরতির পর গত বছর এই জনপ্রিয় আয়োজনটি পুনরায় শুরু হয়েছিল, এবং এবারও বসছে ‘নতুন কুঁড়ি’র আসর, যার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের অন্বেষণ করা হবে।

২০২৬ সালের 'নতুন কুঁড়ি' আসরের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর এবং চলবে মাসব্যাপী, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। সম্প্রতি বিটিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্ব দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু হবে, যা পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় বাছাই পেরিয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্ব ও ফাইনাল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘটবে। অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা, কৌতুক, সাধারণ ও উচ্চাঙ্গ নৃত্য, দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত, হামদ-নাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশুদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে।

বিটিভি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিযোগীদের বয়সসীমার ভিত্তিতে দুটি মূল শাখায় বিভক্ত করা হয়েছে: 'ক' শাখায় ৬ থেকে ১১ বছরের কম বয়সী শিশুরা অংশ নিতে পারবে, আর 'খ' শাখায় ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা সুযোগ পাবে। এছাড়াও, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য একটি একক 'ক্বিরাত' প্রতিযোগিতা শাখা থাকবে।

‘নতুন কুঁড়ি’র দীর্ঘ এবং গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। এটি প্রথম ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান টেলিভিশনে প্রচারিত হয় এবং স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে মুস্তাফা মনোয়ারের প্রযোজনায় বিটিভিতে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। ২০০৫ সাল পর্যন্ত এটি সাফল্যের সাথে চলে এবং এরপর দীর্ঘ বিরতিতে যায়। ২০২৫ সালে এটি পুনরায় বিটিভির পর্দায় ফিরে আসে, যেখানে গত আসরে টাঙ্গাইলের প্রেয়সী চক্রবর্তী এবং সুনামগঞ্জের শুভমিতা তালুকদার যথাক্রমে 'ক' ও 'খ' বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়। এই মঞ্চ থেকেই তারানা হালিম, রুমানা রশিদ ঈশিতা, তারিন জাহান, মেহের আফরোজ শাওন, নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং সামিনা চৌধুরীর মতো অসংখ্য গুণী শিল্পী তাদের পরিচিতি লাভ করেছেন। বিটিভি এবারও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করার এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এবার তাঁদের উত্তরসূরি হিসেবে কারা উঠে আসে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী জেসিন (Desi Media Point-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে) এই আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'আমরা এমন সব কিশোর-কিশোরীকে তুলে আনতে চাই, যারা আগামী দিনের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি। দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে চাই। একটি জাতীয় গণমাধ্যম হিসেবে, নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে জাতির মনন গঠনে উপযোগী এবং বিষয়সমৃদ্ধ কনটেন্ট তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্বজুড়ে জাতীয় গণমাধ্যমের যে পরিবর্তন হচ্ছে, আমরা তার সাথে তাল মিলিয়ে বিটিভির আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।'

বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইউটিউবকেন্দ্রিক হওয়ায় তাদের 'নতুন কুঁড়ি'র সাথে যুক্ত করতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী জেসিন বলেন, 'আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এবং এমনকি দেশের প্রান্তিক পর্যায়েও প্রচার চালিয়ে আমরা মানুষকে নতুন কুঁড়ির সাথে যুক্ত করার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছি।'

ডিজিটাল মাধ্যমের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি যোগ করেন, 'আমরা ছোটবেলায় অনেক দীর্ঘ অনুষ্ঠান দেখার জন্য টেলিভিশনের সামনে বসে থাকতাম। এখন সেই প্রবণতা নেই। তাই পাঁচ মিনিট বা তিন মিনিটের সংক্ষিপ্ত কনটেন্ট দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করতে চাই। প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিতদের গল্পগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নতুন কুঁড়িকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ তৈরি করবে।' তিনি আরও বলেন, 'যারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, তাদের আত্মীয়-পরিজনেরাও অনুষ্ঠানটি দেখবেন। ফলে নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে একটি বড় অংশের দর্শককে আবার টেলিভিশনমুখী করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি। তবে ডিজিটাল মাধ্যমকেও আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি।'