Fri 7th Aug 2026, 3:04 am

পূর্ণিমা: 'সুভা' মুক্তির ২১ বছর পরও মনে হয় এই তো সেদিন, ছবিটিকে নিজের অভিনয় জীবনের এক 'উল্লেখযোগ্য কাজ' হিসেবে আখ্যা দিলেন তিনি

পূর্ণিমা: 'সুভা' মুক্তির ২১ বছর পরও মনে হয় এই তো সেদিন, ছবিটিকে নিজের অভিনয় জীবনের এক 'উল্লেখযোগ্য কাজ' হিসেবে আখ্যা দিলেন তিনি
রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবসে চ্যানেল আইয়ে পূর্ণিমা অভিনীত 'সুভা' চলচ্চিত্রটি দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবারও প্রচারিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "একুশ বছর! মনে হচ্ছে এই তো সেদিন...।" তিনি 'সুভা'কে তাঁর অভিনয়জীবনের এক উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পূর্ণিমা জানান, মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সৌভাগ্য হয়েছিল, যা শুরু হয়েছিল রাবেয়া খাতুনের গল্পে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত 'মেঘের পরে মেঘ' দিয়ে। এরপর 'শাস্তি' এবং 'সুভা' চলচ্চিত্র দুটিও চাষী নজরুল ইসলামই পরিচালনা করেন। চ্যানেল আইয়ের সহযোগিতায় পাওয়া এই সাহিত্যভিত্তিক কাজের সুযোগগুলো তাঁকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। 'সুভা'র বিশেষত্ব উল্লেখ করে পূর্ণিমা বলেন, এটি ছিল শাকিব খানেরও প্রথম সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে অভিনয়। এর আগে তাঁরা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করলেও, রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে এই চলচ্চিত্রে অভিনয় ছিল তাঁদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। পূর্ণিমা এই ছবিতে একজন বোবা ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যা তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম কঠিন চরিত্র। একুশ বছর পর এই চরিত্রটির কথা মনে পড়লে তিনি বিস্মিত হন যে কীভাবে এত কঠিন একটি চরিত্রে তখন তিনি অভিনয় করেছিলেন।

'সুভা'র শুটিং অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে পূর্ণিমা স্মৃতিচারণ করে বলেন যে এটি তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টকর অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি জানান, চাষী নজরুল ইসলাম তাঁদের চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট সময় ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পুবাইলে ভাদ্র মাসের প্রচণ্ড গরমে তাঁরা শুটিং করেছেন, যেখানে পরিহিত পোশাক মুহূর্তেই ঘামে ভিজে যেত। টানা কাজ করে ছবিটি সম্পন্ন করা হয়। এই কষ্টের পাশাপাশি 'সুভা'র অনেক ভালো লাগার দিকও রয়েছে। এটি তাঁর জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র যার শিরোনাম তাঁর চরিত্রের নামে, যা তিনি এক 'সুন্দর প্রাপ্তি' হিসেবে দেখেন। পূর্ণিমা আরও জানান, সেই সময় নৃত্য, গান ও মারামারি–নির্ভর বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও শাকিব খান এই গল্পে কাজ করতে রাজি হওয়ার পর অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি 'সুভা'র শুটিং চলাকালীন অন্য কোনো কাজ করেননি এবং ছবি মুক্তির পর দর্শক শাকিব খানকে একজন দুর্দান্ত অভিনেতা হিসেবে আবিষ্কার করেছিলেন।

দীর্ঘ বিরতি প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে ইচ্ছুক, কারণ এই অঙ্গনই তাঁকে বর্তমান পরিচিতি এনে দিয়েছে। তবে নতুন চলচ্চিত্রের প্রস্তাব এলেও, তাঁর মনমতো বা বিশ্বাসযোগ্য কোনো গল্প তিনি পাচ্ছেন না।

চলচ্চিত্র নির্বাচনের মানদণ্ড সম্পর্কে পূর্ণিমা জানান, তাঁর কাছে পরিচালকের ভাবনাচিন্তা ও একটি সুন্দর গল্পই প্রথম প্রাধান্য পায়। পাশাপাশি গল্পে তাঁর চরিত্র কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান অবস্থান বিবেচনা করে তাঁর জন্য গল্প তৈরি হওয়া উচিত। পূর্ণিমা উল্লেখ করেন যে উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্রে তাঁর পূর্বসূরি অনেক নায়িকা এখনো সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন, কারণ প্রযোজক ও পরিচালকেরা তাঁদের সময়োপযোগী করে উপস্থাপন করছেন। তাই, নির্মাতাদেরও তাঁকে নিয়ে একইভাবে আধুনিক ও প্রাসঙ্গিকভাবে ভাবতে হবে।

চলচ্চিত্রে গল্প বলার স্বাধীনতা প্রসঙ্গে পূর্ণিমা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সেন্সরশিপ বা কাটছাঁটের প্রবণতা তাঁর সময়ে ছিল, তার আগেও ছিল এবং এখনো এর থেকে মুক্তি নেই। বিদেশি চলচ্চিত্রে গল্পের প্রয়োজনে যে কোনো দৃশ্য দেখানো সম্ভব হলেও, বাংলাদেশে তা সম্ভব হয়নি এবং এখনো হচ্ছে না। এই সীমাবদ্ধতার কারণে নির্মাতারা সুন্দর গল্প উপস্থাপন করতে পারেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাইরের বিশ্বে সত্য ঘটনা অবলম্বনে অসংখ্য দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, যা কেবল নির্দিষ্ট দেশ নয়, বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশের চারপাশে এমন অসংখ্য সত্য ঘটনা বিদ্যমান, যা দিয়ে দর্শকপ্রিয়, সুপারহিট বা বাম্পারহিট চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব, কিন্তু গল্প বলার স্বাধীনতার অভাবে তা আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছে না। এই পরাধীনতার কারণে পরিচালকেরা চাইলেও এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারেন না এবং অভিনয়শিল্পীরাও তাঁদের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পান না।

ভিলেন চরিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, দর্শক তাঁকে রোমান্টিক, সুন্দরী ও পরিপাটি নায়িকা হিসেবে দেখতেই অভ্যস্ত। তবে তিনি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের নেতিবাচক বা ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যেন তাঁর চরিত্র দেখে দর্শকের মনে ঘৃণা তৈরি হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, তাঁকে নিয়ে আজ পর্যন্ত কেউ এমন ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করার কথা ভাবেননি।