গ্রামবাংলার লোককথায় 'কানাভুলো' এমন এক রহস্যময় সত্তা, যা রাতের আঁধারে পথিকের দিশাভ্রান্তি ঘটিয়ে বারবার একই স্থানে ফিরিয়ে আনে। অন্যান্য পরিচিত বাঙালি ভূতের যেমন শাকচুন্নি, স্কন্ধকাটা, মেছো ভূত, গেছো ভূত, পেতনি, ব্রহ্মদৈত্য—এদের প্রত্যেকেরই একটি কল্পিত আকার ও রূপরেখা রয়েছে। কিন্তু কানাভুলো সম্ভবত একমাত্র প্রেতাত্মা যার শারীরিক অবয়ব বা চেহারা সম্পূর্ণ অজানা। তবে, এই কাহিনী নিছকই কানাভুলোর নয়, এটি এক নবদম্পতির জীবনকেন্দ্রিক আখ্যান।
মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর জনপ্রিয় উপন্যাস ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’-এর সূচনা এভাবেই হয়েছিল। এবার সেই উপন্যাস অবলম্বনেই নিজেদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ নির্মাণ করে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করছেন আয়মান আসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকার। গত সোমবার রাতে এক চমকপ্রদ অ্যানাউন্সমেন্ট টিজারের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। বুড়িগঙ্গা টকিজ প্রযোজিত এই ছবিটি ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল আজহায় মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন জনপ্রিয় তারকা শরীফুল রাজ ও সাবিলা নূর।
ছবিটির প্রযোজক তানিম নূর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এটিকে একটি রোমান্টিক সাই-ফাই হরর চলচ্চিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, যদিও এতে একটি ভীতিকর আবহ বিদ্যমান, তবে এর মূল আখ্যান একটি গভীর প্রেমকাহিনীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে ‘কাইজার’, ‘উৎসব’ এবং ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো সফল প্রোজেক্টগুলোতে তানিম নূরের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন স্বাধীন ও সুস্ময়। এবার তাঁরা পরিচালকের আসনে বসছেন। এই দুই তরুণকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত তানিম নূর বলেন, “ওরা অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। দুজনেই আমার সঙ্গে বহু বছর ধরে কাজ করছে এবং তাদের দুজনেরই স্বপ্ন ছিল চলচ্চিত্র পরিচালক হওয়ার। আমি বিশ্বাস করি, তারা অনেক আগেই পরিচালনার জন্য যোগ্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমাদের দেশে নবীনদের জন্য সুযোগ তৈরি করাটা খানিকটা কঠিন। সেই ভাবনা থেকেই তাদের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত।”
প্রযোজক আরও জানান যে, উপন্যাসটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা ও প্রস্তুতি চলেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “উপন্যাসটি নিয়ে আমার সঙ্গে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বড় পর্দায় আমরা সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট ধরনের চলচ্চিত্র দেখতে অভ্যস্ত, কিন্তু ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ সেই ধারা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি আখ্যান। আমাদের লোককথার অন্যান্য ভূতপ্রেতের বাহ্যিক একটি পরিচিত রূপ থাকলেও, কানাভুলোর কোনো নির্দিষ্ট অবয়ব নেই। এটি এমন এক সত্তা যা সময় ও স্থানকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। যখন সে কাউকে আবিষ্ট করে, তখন সেই ব্যক্তি তার দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলে। একই সাথে, এটি একটি অসাধারণ প্রেমের গল্প।”
দীর্ঘকাল ধরে সুস্ময় ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ধারণা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও চিন্তাভাবনা আদান-প্রদান করে আসছেন। হরর এবং সাই-ফাই—উভয় ঘরানাই তাঁদের বিশেষভাবে পছন্দের। মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ উপন্যাসটি তাঁদের দুজনকেই ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে এবং ধীরে ধীরে তাঁরা এটিকে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যে রূপান্তরিত করেন। ২০১৯ সালে তানিম নূরের ওয়েব সিরিজ ‘কন্ট্রাক্ট’-এ স্বাধীন চিত্রনাট্যকার এবং সুস্ময় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এরপর ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ সুস্ময় গল্পকার এবং স্বাধীন চিত্রনাট্যকার হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এবার তাঁরা যৌথভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নিয়ে আসছেন।
সুস্ময় Desi Media Point-কে জানান, “আমরা বুড়িগঙ্গা টকিজ-এর জন্য বহুবিধ ধারণা নিয়ে কাজ করছিলাম, এবং সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অবশেষে ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ নির্মিত হচ্ছে।” ‘বনলতা’ চলচ্চিত্রে শরীফুল রাজ ও সাবিলা নূরের জুটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। নতুন ছবিতে তাদের কাস্ট করার পেছনে পূর্বের সেই রসায়ন কি কোনো ভূমিকা রেখেছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে সুস্ময় বলেন, “উভয়েই অসাধারণ অভিনয়শিল্পী। আর আমাদের চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলোর জন্য যেমন শিল্পীর প্রয়োজন ছিল, রাজ ও সাবিলা দুজনেই সেই মানদণ্ডের সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে যায়; মূলত এই কারণেই তাদের নির্বাচন করা হয়েছে।”
লেখালেখি থেকে পরিচালনায় পদার্পণ প্রসঙ্গে স্বাধীন সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিল, কিন্তু পরিচালক হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। তাই লেখালেখি শুরু করি, কারণ এটি ঘরে বসেই করা সম্ভব। ‘কাইজার’ থেকে শুরু করে ‘বনলতা’ পর্যন্ত তানিম ভাইয়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার সুবাদে আমার মনে হয়েছিল, আমরা যেভাবে চলচ্চিত্র বা সিরিজ দেখতে চাই, ঠিক সেভাবেই কাজগুলো সম্পন্ন হচ্ছে। পরবর্তীতে তানিম ভাই, (সালেহ সোবহান) অনীম ভাই, (সৈয়দ আহমেদ) শাওকী ভাই আমাকে উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন, ‘এইবার তোমার মতো করে কিছু বানানোর এটাই সঠিক সময়।’ এভাবেই এই প্রকল্প শুরু হলো। সুস্ময় এবং আমি দুজনেই হরর, সাই-ফাই এবং টাইম ট্র্যাভেল বিষয়ক কাজ পছন্দ করি; সব মিলিয়ে একটি চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে।”
প্রযোজনা সংস্থা সূত্রে খবর, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ শুরু হবে।
মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর জনপ্রিয় উপন্যাস ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’-এর সূচনা এভাবেই হয়েছিল। এবার সেই উপন্যাস অবলম্বনেই নিজেদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ নির্মাণ করে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করছেন আয়মান আসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকার। গত সোমবার রাতে এক চমকপ্রদ অ্যানাউন্সমেন্ট টিজারের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। বুড়িগঙ্গা টকিজ প্রযোজিত এই ছবিটি ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল আজহায় মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন জনপ্রিয় তারকা শরীফুল রাজ ও সাবিলা নূর।
ছবিটির প্রযোজক তানিম নূর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এটিকে একটি রোমান্টিক সাই-ফাই হরর চলচ্চিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, যদিও এতে একটি ভীতিকর আবহ বিদ্যমান, তবে এর মূল আখ্যান একটি গভীর প্রেমকাহিনীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবে ‘কাইজার’, ‘উৎসব’ এবং ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো সফল প্রোজেক্টগুলোতে তানিম নূরের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন স্বাধীন ও সুস্ময়। এবার তাঁরা পরিচালকের আসনে বসছেন। এই দুই তরুণকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত তানিম নূর বলেন, “ওরা অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। দুজনেই আমার সঙ্গে বহু বছর ধরে কাজ করছে এবং তাদের দুজনেরই স্বপ্ন ছিল চলচ্চিত্র পরিচালক হওয়ার। আমি বিশ্বাস করি, তারা অনেক আগেই পরিচালনার জন্য যোগ্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমাদের দেশে নবীনদের জন্য সুযোগ তৈরি করাটা খানিকটা কঠিন। সেই ভাবনা থেকেই তাদের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত।”
প্রযোজক আরও জানান যে, উপন্যাসটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা ও প্রস্তুতি চলেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “উপন্যাসটি নিয়ে আমার সঙ্গে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বড় পর্দায় আমরা সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট ধরনের চলচ্চিত্র দেখতে অভ্যস্ত, কিন্তু ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ সেই ধারা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি আখ্যান। আমাদের লোককথার অন্যান্য ভূতপ্রেতের বাহ্যিক একটি পরিচিত রূপ থাকলেও, কানাভুলোর কোনো নির্দিষ্ট অবয়ব নেই। এটি এমন এক সত্তা যা সময় ও স্থানকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। যখন সে কাউকে আবিষ্ট করে, তখন সেই ব্যক্তি তার দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলে। একই সাথে, এটি একটি অসাধারণ প্রেমের গল্প।”
দীর্ঘকাল ধরে সুস্ময় ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ধারণা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও চিন্তাভাবনা আদান-প্রদান করে আসছেন। হরর এবং সাই-ফাই—উভয় ঘরানাই তাঁদের বিশেষভাবে পছন্দের। মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ উপন্যাসটি তাঁদের দুজনকেই ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে এবং ধীরে ধীরে তাঁরা এটিকে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যে রূপান্তরিত করেন। ২০১৯ সালে তানিম নূরের ওয়েব সিরিজ ‘কন্ট্রাক্ট’-এ স্বাধীন চিত্রনাট্যকার এবং সুস্ময় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এরপর ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ সুস্ময় গল্পকার এবং স্বাধীন চিত্রনাট্যকার হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এবার তাঁরা যৌথভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নিয়ে আসছেন।
সুস্ময় Desi Media Point-কে জানান, “আমরা বুড়িগঙ্গা টকিজ-এর জন্য বহুবিধ ধারণা নিয়ে কাজ করছিলাম, এবং সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অবশেষে ‘কানাভুলো প্যারাডক্স’ নির্মিত হচ্ছে।” ‘বনলতা’ চলচ্চিত্রে শরীফুল রাজ ও সাবিলা নূরের জুটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। নতুন ছবিতে তাদের কাস্ট করার পেছনে পূর্বের সেই রসায়ন কি কোনো ভূমিকা রেখেছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে সুস্ময় বলেন, “উভয়েই অসাধারণ অভিনয়শিল্পী। আর আমাদের চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলোর জন্য যেমন শিল্পীর প্রয়োজন ছিল, রাজ ও সাবিলা দুজনেই সেই মানদণ্ডের সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে যায়; মূলত এই কারণেই তাদের নির্বাচন করা হয়েছে।”
লেখালেখি থেকে পরিচালনায় পদার্পণ প্রসঙ্গে স্বাধীন সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিল, কিন্তু পরিচালক হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। তাই লেখালেখি শুরু করি, কারণ এটি ঘরে বসেই করা সম্ভব। ‘কাইজার’ থেকে শুরু করে ‘বনলতা’ পর্যন্ত তানিম ভাইয়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার সুবাদে আমার মনে হয়েছিল, আমরা যেভাবে চলচ্চিত্র বা সিরিজ দেখতে চাই, ঠিক সেভাবেই কাজগুলো সম্পন্ন হচ্ছে। পরবর্তীতে তানিম ভাই, (সালেহ সোবহান) অনীম ভাই, (সৈয়দ আহমেদ) শাওকী ভাই আমাকে উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন, ‘এইবার তোমার মতো করে কিছু বানানোর এটাই সঠিক সময়।’ এভাবেই এই প্রকল্প শুরু হলো। সুস্ময় এবং আমি দুজনেই হরর, সাই-ফাই এবং টাইম ট্র্যাভেল বিষয়ক কাজ পছন্দ করি; সব মিলিয়ে একটি চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে।”
প্রযোজনা সংস্থা সূত্রে খবর, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ শুরু হবে।