ইসলামের গৌরবময় ইতিহাসে এমন কিছু নারী সাহাবিয়া রয়েছেন, যাঁদের জীবন ইমান, নিঃস্বার্থ ত্যাগ, অতুলনীয় ধৈর্য ও আত্মনিবেদনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। তাঁদের উচ্চ মর্যাদার একটি বিশেষ দিক হলো, তাঁরা সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ থেকে জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেছিলেন। সেই সৌভাগ্যবতী দশজন নারী সাহাবিয়া হলেন—
উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম নারী অনুসারী এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওতের সূচনালগ্নের প্রধান অবলম্বন। তিনি নিজের সর্বস্ব, সম্পদ ও অপরিসীম ভালোবাসা দিয়ে দ্বীনের প্রাথমিক প্রচারকালে নবীজিকে অবিচল সমর্থন জুগিয়েছিলেন। একদা ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) নবীজির সমীপে এসে আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এই যে খাদিজা আপনার কাছে আসছেন। তাঁর সঙ্গে একটি পাত্র রয়েছে, যাতে তরকারি, খাবার অথবা পানীয় বিদ্যমান। যখন তিনি আপনার কাছে আগমন করবেন, তখন আল্লাহ তাআলা ও আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সালাম জানাবেন এবং তাঁকে জান্নাতে মুক্তোর মতো মসৃণ উপাদানে নির্মিত এক গৃহের সুসংবাদ দেবেন, যেখানে কোনো কোলাহল বা ক্লান্তি থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮২০)
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) ছিলেন মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রথিতযশা জ্ঞানসাধিকা ও শিক্ষিকা। তাঁর সূত্রেই বিপুলসংখ্যক হাদিস সংকলিত হয়েছে। জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মর্যাদায় তিনি মুসলিম উম্মাহর কাছে এক সুউচ্চ স্থানে আসীন। একদা তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, জান্নাতে তাঁর সঙ্গে কোন স্ত্রী থাকবেন? নবীজি (সা.) তাঁকে বললেন, ‘তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।’ (আল-মুস্তাদরাক আলাস-সহিহাইন, হাদিস: ৬৭৪৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় কন্যা ফাতেমা (রা.)-এর জীবন ছিল সরলতা, গভীর ইবাদত, অনুপম লজ্জাশীলতা ও সীমাহীন ধৈর্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর অতুলনীয় মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আকাশ থেকে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন, যিনি এর পূর্বে আর কখনো অবতরণ করেননি। তিনি আমার কাছে এসে আল্লাহর অনুমতি চাইলেন সালাম জানানোর জন্য। অতঃপর তিনি আমাকে এই সুসংবাদ দিলেন যে, ফাতেমা জান্নাতবাসিনী নারীদের নেত্রী হবেন।’ (আল-হাকেম, আল-মুসতাদরাক আলাস-সহিহাইন, হাদিস: ৪৭৮৩)
উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.) ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতপরায়ণ ও নিয়মিত রোজাপালনকারী একজন নারী। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে তালাক প্রদানের ইচ্ছা করলে, জিবরাইল (আ.) এসে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘হাফসাকে ফিরিয়ে নিন। তিনি অধিক রোজাদার, অধিক ইবাদতকারী এবং জান্নাতে তিনি আপনার স্ত্রী হবেন।’ (সহিহুল জামে, হাদিস: ৪৩৫১)
উম্মে সুলাইম (রা.) ছিলেন নবীজি (সা.)-এর প্রিয় খাদেম আনাস ইবনে মালিকের মহীয়সী জননী এবং আবু তালহার ধর্মপরায়ণ স্ত্রী। ইমান, দৃঢ় ধৈর্য ও আত্মমর্যাদায় তিনি ছিলেন সত্যিই অসাধারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে জান্নাতে দেখেছেন বলে যে বর্ণনা রয়েছে, তা তাঁর জন্য জান্নাতের এক প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে জান্নাত দেখানো হলো, সেখানে আমি আবু তালহার স্ত্রীকে দেখলাম।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৫৬–২৪৫৭)
ইসলামের প্রথম দিকের একজন নারী সাহাবিয়া ছিলেন, যিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগের কারণে তাঁর দেহের কিছু অংশ অনাবৃত হয়ে যেত। একবার তিনি নবীজি (সা.)-এর কাছে রোগমুক্তির জন্য দোয়া চাইলে, নবীজি তাঁকে দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন। তিনি বলেন, ‘তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, এর বিনিময়ে তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে। অথবা, তুমি যদি চাও, আমি আল্লাহর কাছে তোমার সুস্থতার জন্য দোয়া করতে পারি।’ তিনি ইহকালীন সুস্থতার পরিবর্তে ধৈর্যের পথ বেছে নেন। শুধু এই অনুরোধ করেন যে, অসুস্থতার সময় যেন তাঁর শরীর অনাবৃত না হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য সেই দোয়া করেন। ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁকে ‘জান্নাতি নারী’ হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৫২)
উম্মে আইমান (রা.) ছিলেন নবীজি (সা.)-এর শৈশবের লালনপালনকারী এবং তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন নারী সাহাবিয়া। তাঁর প্রতি নবীজি (সা.)-এর ছিল বিশেষ মমতা ও ভালোবাসা। তাঁর ব্যাপারে নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জান্নাতের কোনো নারীকে বিয়ে করে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন উম্মে আইমানকে বিয়ে করে।’ (সুয়ুতি, আল-জামেউস সগির, হাদিস: ৮৭৩০)
হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত এক অদম্য সাহসী নারী ছিলেন আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও আবু বকর (রা.) যখন মক্কা থেকে মদিনার পথে গোপনে যাত্রা করেন, তখন তিনি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের জন্য সাওর গুহায় খাবার প্রস্তুত করে পৌঁছে দিতেন। একবার খাবারের পোঁটলা বাঁধার মতো কোনো কিছু না পেয়ে তিনি নিজের কোমরবন্ধনী ছিঁড়ে দুই টুকরা করেন। এই অসাধারণ ত্যাগের কারণে তাঁর উপাধি হয় ‘জাতুন-নিতাকাইন’ তথা ‘দুই কোমরবন্ধের অধিকারিণী’। নবীজি (সা.) তাঁকে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাকে এর বিনিময়ে জান্নাতে দুটি কোমরবন্ধ দান করবেন।’ (ইমাম মিজ্জি, তাহজিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল, ৩৫/১২৪, মুয়াসসাতুর-রিসালাহ, বৈরুত, ১৪১৩ হিজরি)
উম্মে রুমান (রা.) ছিলেন উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর জননী এবং খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সহধর্মিণী। তাঁর ইন্তেকালের পর দাফনকালে নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জান্নাতি হুরের দিকে তাকিয়ে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন উম্মে রুমানের দিকে তাকায়।’ (সুয়ুতি, আল-জামেউস সগির, হাদিস: ৮৭৩১)
ইসলামের প্রাথমিক যুগের নির্যাতিত এবং প্রথম শহীদ নারী সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সুমাইয়া (রা.)। মক্কার কাফিরদের অমানবিক নির্যাতনের মুখেও তিনি তাঁর ইমানে ছিলেন অটল ও অবিচল, এবং শেষ পর্যন্ত আবু জাহেলের বর্শার আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। নবীজি (সা.) তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘হে আলে ইয়াসির, ধৈর্য ধারণ করো। তোমাদের প্রতিশ্রুত স্থান জান্নাত।’ (তাবারানি, আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস: ১৫০৮)
এই দশজন মহীয়সী নারীর জীবনপথ ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। জাগতিক মানদণ্ডে তাঁদের অনেকেই হয়তো সাধারণ নারী হিসেবে পরিগণিত হতেন, কিন্তু আসমানসমূহে তাঁদের মর্যাদা ছিল অকল্পনীয় ও অতুলনীয়।
উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম নারী অনুসারী এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওতের সূচনালগ্নের প্রধান অবলম্বন। তিনি নিজের সর্বস্ব, সম্পদ ও অপরিসীম ভালোবাসা দিয়ে দ্বীনের প্রাথমিক প্রচারকালে নবীজিকে অবিচল সমর্থন জুগিয়েছিলেন। একদা ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) নবীজির সমীপে এসে আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এই যে খাদিজা আপনার কাছে আসছেন। তাঁর সঙ্গে একটি পাত্র রয়েছে, যাতে তরকারি, খাবার অথবা পানীয় বিদ্যমান। যখন তিনি আপনার কাছে আগমন করবেন, তখন আল্লাহ তাআলা ও আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সালাম জানাবেন এবং তাঁকে জান্নাতে মুক্তোর মতো মসৃণ উপাদানে নির্মিত এক গৃহের সুসংবাদ দেবেন, যেখানে কোনো কোলাহল বা ক্লান্তি থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৮২০)
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) ছিলেন মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রথিতযশা জ্ঞানসাধিকা ও শিক্ষিকা। তাঁর সূত্রেই বিপুলসংখ্যক হাদিস সংকলিত হয়েছে। জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মর্যাদায় তিনি মুসলিম উম্মাহর কাছে এক সুউচ্চ স্থানে আসীন। একদা তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, জান্নাতে তাঁর সঙ্গে কোন স্ত্রী থাকবেন? নবীজি (সা.) তাঁকে বললেন, ‘তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।’ (আল-মুস্তাদরাক আলাস-সহিহাইন, হাদিস: ৬৭৪৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় কন্যা ফাতেমা (রা.)-এর জীবন ছিল সরলতা, গভীর ইবাদত, অনুপম লজ্জাশীলতা ও সীমাহীন ধৈর্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর অতুলনীয় মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আকাশ থেকে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন, যিনি এর পূর্বে আর কখনো অবতরণ করেননি। তিনি আমার কাছে এসে আল্লাহর অনুমতি চাইলেন সালাম জানানোর জন্য। অতঃপর তিনি আমাকে এই সুসংবাদ দিলেন যে, ফাতেমা জান্নাতবাসিনী নারীদের নেত্রী হবেন।’ (আল-হাকেম, আল-মুসতাদরাক আলাস-সহিহাইন, হাদিস: ৪৭৮৩)
উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.) ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতপরায়ণ ও নিয়মিত রোজাপালনকারী একজন নারী। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে তালাক প্রদানের ইচ্ছা করলে, জিবরাইল (আ.) এসে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘হাফসাকে ফিরিয়ে নিন। তিনি অধিক রোজাদার, অধিক ইবাদতকারী এবং জান্নাতে তিনি আপনার স্ত্রী হবেন।’ (সহিহুল জামে, হাদিস: ৪৩৫১)
উম্মে সুলাইম (রা.) ছিলেন নবীজি (সা.)-এর প্রিয় খাদেম আনাস ইবনে মালিকের মহীয়সী জননী এবং আবু তালহার ধর্মপরায়ণ স্ত্রী। ইমান, দৃঢ় ধৈর্য ও আত্মমর্যাদায় তিনি ছিলেন সত্যিই অসাধারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে জান্নাতে দেখেছেন বলে যে বর্ণনা রয়েছে, তা তাঁর জন্য জান্নাতের এক প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে জান্নাত দেখানো হলো, সেখানে আমি আবু তালহার স্ত্রীকে দেখলাম।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৫৬–২৪৫৭)
ইসলামের প্রথম দিকের একজন নারী সাহাবিয়া ছিলেন, যিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগের কারণে তাঁর দেহের কিছু অংশ অনাবৃত হয়ে যেত। একবার তিনি নবীজি (সা.)-এর কাছে রোগমুক্তির জন্য দোয়া চাইলে, নবীজি তাঁকে দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন। তিনি বলেন, ‘তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, এর বিনিময়ে তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে। অথবা, তুমি যদি চাও, আমি আল্লাহর কাছে তোমার সুস্থতার জন্য দোয়া করতে পারি।’ তিনি ইহকালীন সুস্থতার পরিবর্তে ধৈর্যের পথ বেছে নেন। শুধু এই অনুরোধ করেন যে, অসুস্থতার সময় যেন তাঁর শরীর অনাবৃত না হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য সেই দোয়া করেন। ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁকে ‘জান্নাতি নারী’ হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৫২)
উম্মে আইমান (রা.) ছিলেন নবীজি (সা.)-এর শৈশবের লালনপালনকারী এবং তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন নারী সাহাবিয়া। তাঁর প্রতি নবীজি (সা.)-এর ছিল বিশেষ মমতা ও ভালোবাসা। তাঁর ব্যাপারে নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জান্নাতের কোনো নারীকে বিয়ে করে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন উম্মে আইমানকে বিয়ে করে।’ (সুয়ুতি, আল-জামেউস সগির, হাদিস: ৮৭৩০)
হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত এক অদম্য সাহসী নারী ছিলেন আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও আবু বকর (রা.) যখন মক্কা থেকে মদিনার পথে গোপনে যাত্রা করেন, তখন তিনি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের জন্য সাওর গুহায় খাবার প্রস্তুত করে পৌঁছে দিতেন। একবার খাবারের পোঁটলা বাঁধার মতো কোনো কিছু না পেয়ে তিনি নিজের কোমরবন্ধনী ছিঁড়ে দুই টুকরা করেন। এই অসাধারণ ত্যাগের কারণে তাঁর উপাধি হয় ‘জাতুন-নিতাকাইন’ তথা ‘দুই কোমরবন্ধের অধিকারিণী’। নবীজি (সা.) তাঁকে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাকে এর বিনিময়ে জান্নাতে দুটি কোমরবন্ধ দান করবেন।’ (ইমাম মিজ্জি, তাহজিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল, ৩৫/১২৪, মুয়াসসাতুর-রিসালাহ, বৈরুত, ১৪১৩ হিজরি)
উম্মে রুমান (রা.) ছিলেন উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর জননী এবং খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সহধর্মিণী। তাঁর ইন্তেকালের পর দাফনকালে নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জান্নাতি হুরের দিকে তাকিয়ে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন উম্মে রুমানের দিকে তাকায়।’ (সুয়ুতি, আল-জামেউস সগির, হাদিস: ৮৭৩১)
ইসলামের প্রাথমিক যুগের নির্যাতিত এবং প্রথম শহীদ নারী সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সুমাইয়া (রা.)। মক্কার কাফিরদের অমানবিক নির্যাতনের মুখেও তিনি তাঁর ইমানে ছিলেন অটল ও অবিচল, এবং শেষ পর্যন্ত আবু জাহেলের বর্শার আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। নবীজি (সা.) তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘হে আলে ইয়াসির, ধৈর্য ধারণ করো। তোমাদের প্রতিশ্রুত স্থান জান্নাত।’ (তাবারানি, আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস: ১৫০৮)
এই দশজন মহীয়সী নারীর জীবনপথ ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। জাগতিক মানদণ্ডে তাঁদের অনেকেই হয়তো সাধারণ নারী হিসেবে পরিগণিত হতেন, কিন্তু আসমানসমূহে তাঁদের মর্যাদা ছিল অকল্পনীয় ও অতুলনীয়।
