Thu 30th Jul 2026, 2:53 am

বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা: নিত্যপণ্যের সম্ভাব্য সংকট শনাক্তে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার

বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা: নিত্যপণ্যের সম্ভাব্য সংকট শনাক্তে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ঘোষণা করেছেন যে, দেশের অত্যাবশ্যকীয় ও স্পর্শকাতর পণ্যের সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে তথ্য বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একটি পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বর্তমানে কৃষি, খাদ্য ও শিল্পসহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। এই পণ্যগুলোর মধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, আমদানি-নির্ভর অথবা দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয়ে পরিচালিত পণ্যগুলিকে বিশদভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সুসংহত সরবরাহ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম প্রধান কারণ প্রায়শই সরবরাহ শৃঙ্খলে সৃষ্ট সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি উৎস বিঘ্নিত হলে যাতে আকস্মিক সরবরাহ ঘাটতি সৃষ্টি না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ অপরিহার্য। তিনি আরও যোগ করেন, 'কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেলে সরকার ভর্তুকি প্রদান করে তা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কিনা, তা একটি পৃথক প্রসঙ্গ। তবে, সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যেন বাজারে কোনো প্রকার অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রাথমিক ও প্রধান উদ্দেশ্য।' মুক্তাদির আরও উল্লেখ করেন যে, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন মাত্রা, মৌসুমভিত্তিক ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানিকারক দেশসমূহের উৎপাদন সক্ষমতা নিয়মিতভাবে বিশ্লেষণ করা আবশ্যক। যদি কোনো নির্দিষ্ট বছরে দেশে ডালের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে ফসল ঘরে আসার পূর্বেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এর পাশাপাশি, যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, তাদের উৎপাদন পরিস্থিতি ও রপ্তানি সামর্থ্যও বিশদভাবে বিবেচনা করা অত্যাবশ্যক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমাদের অবশ্যই জানতে হবে কোন নির্দিষ্ট সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে কখন আমদানি করা সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে এবং কোন আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য তুলনামূলকভাবে অধিক অনুকূল থাকবে।' এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, এই উদ্ভাবনী ব্যবস্থা বিগত দশ বছরের বাজার তথ্য, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি পরিসংখ্যান এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে দ্রুত ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর সহায়তা প্রদান করবে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, বর্তমানে এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একাধিক বৈঠক আয়োজন করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণেও দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়। তবে, এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ও নির্ভুল বিশ্লেষণ প্রাপ্তি সম্ভব হবে। এই উন্নত এআই প্রযুক্তি আগাম পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হবে যে, কোন সময়ে কোন নির্দিষ্ট পণ্যের সম্ভাব্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করা সর্বাধিক সুবিধাজনক হবে, বিভিন্ন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা কতটুকু এবং কখন পণ্য ক্রয় করলে সর্বোচ্চ বাজার সুবিধা লাভ করা যাবে।