Wed 9th Sep 2026, 11:26 am

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা: ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মেয়র প্রার্থী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা: ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মেয়র প্রার্থী
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো জোট গঠন করবে না, বরং এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে, দলটি ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির হয়ে মেয়র পদে লড়বেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দল খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবে।

এনসিপির দলীয় সূত্রমতে, সম্প্রতি ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটবদ্ধ না হয়ে এককভাবে অংশগ্রহণের বিষয়ে শরিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছায়। এই সিদ্ধান্তের পরই এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের সভায় সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এনসিপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো আরও জানায় যে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের পূর্বে দলটি বেশ কিছু সমীক্ষা পরিচালনা করে। এই সমীক্ষায় উঠে আসে যে, আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ইতিবাচক ফলাফল অর্জনের সম্ভাবনা বেশি। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি যাচাই করে আসিফ মাহমুদ নিজেও ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। পূর্বে গত ৩০ মার্চ এনসিপি ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। সে সময় ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করা হয়। বর্তমান সিদ্ধান্তে আদীবকে বাদ দিয়ে আসিফ মাহমুদকে উত্তরে এবং আসিফের স্থলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রার্থিতা ঘোষণার প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে উভয় প্রার্থী তাঁদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অপরদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তরের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক না হলেও, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। একই নিয়ম মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন যে, মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীন তাঁদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।

গত ৩০ মার্চ ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে লড়তে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Desi Media Point-কে নিশ্চিত করেছেন যে, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ মেয়র পদে নির্বাচন করবেন এবং দক্ষিণে তাঁর নিজে নির্বাচন করার কথা রয়েছে। তবে দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যেখানে তিনি অল্প ব্যবধানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি।

এনসিপির সূত্র আরও জানায় যে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওই এলাকায় একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে, যা দলীয় সমীক্ষাতেও প্রতিফলিত হয়েছে। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেই তাঁকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আসিফ মাহমুদ Desi Media Point-কে জানান, তাঁর এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতির অংশ। প্রায় দুই সপ্তাহ পূর্বে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে তাঁকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীনকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দলই পরে দেবে।

আসিফ মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এনসিপি এককভাবে অংশ নেবে এবং সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে।

দলীয় সূত্র এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আগ্রহ কম। এনসিপিসহ অন্যান্য শরিক দলও মনে করে যে, স্থানীয় নির্বাচনে কার্যকরভাবে জোটবদ্ধ নির্বাচন প্রায় অসম্ভব। অতীতেও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার নজির নেই। এসব বিষয় বিবেচনা করে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে পৃথকভাবে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে স্থানীয় নির্বাচনে পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, রাজনৈতিকভাবে ১১-দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে তারা ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে আরও তিনটি লংমার্চ এবং পরবর্তীতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনসিপি ও জামায়াতের সূত্রগুলো আরও জানায়, স্থানীয় নির্বাচনে পৃথকভাবে প্রার্থী দিলেও শরিকদের প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়ে সমন্বয় থাকবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা অথবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তারা একসঙ্গে অংশ নেবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Desi Media Point-কে বলেছেন যে, রাজনৈতিকভাবে ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে তাঁরা পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাঁদের প্রচারের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্চার থাকবেন।