Tue 25th Aug 2026, 12:18 pm

আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ইরান সফর

আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ইরান সফর
আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নিরন্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির আজ সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন। তেহরানে তিনি ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন। গতকাল রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সফরের কথা নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে সৃষ্ট ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান একটি সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকারের দুটি বিশ্বস্ত সূত্র আসিম মুনিরের এই ইরান সফর নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ও উচ্চ-পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। দ্বিতীয় সূত্রটি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সর্বশেষ অবস্থা এবং ইরানের উপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হবে। ওই সূত্র মতে, আসিম মুনির ইসলামাবাদের সমঝোতা স্মারকের অধীনে শান্তি প্রক্রিয়া, ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষাচুক্তি এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের উপর নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার ঘিরে সৃষ্ট তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সেনাপ্রধান মুনিরের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই ধরনের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। আজ ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তেহরানকে কোনো প্রকার অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদানকারী দেশগুলোকেও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। এরই মধ্যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তেহরান দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছে যে, অনুমতি ব্যতীত কোনো তেলবাহী জাহাজ এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে তার উপর হামলা চালানো হবে।