চলমান এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটির কারণে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসাথে, যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেখানে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যেই মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এই আশ্বাস প্রদান করেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস ছিল যে আবহাওয়া অনুকূল থাকবে, যার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা যথারীতি বহাল রাখা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল এবং এই দুটি প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আবেদনে মন্ত্রী বলেন, "আমি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা নিজ নিজ পড়াশোনায় ফিরে যায়। তাদের চেয়ে আমরাই বেশি উদ্বিগ্ন যে কীভাবে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা যায়। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি যে, যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে, সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে।"
বর্ষাকালে সারাদেশে বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও, অন্যান্য সকল বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
এরই মধ্যে, গত সোমবার প্রবল বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। ওই দিন বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান (প্রথম পত্র), মানবিক বিভাগের যুক্তিবিদ্যা (প্রথম পত্র) এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞান (প্রথম পত্র) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে দুটি ভুল ছিল।
প্রতিকূল আবহাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তে গতকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায়, আজ সকালে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, যা থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উত্থাপিত হয়।
এই প্রেক্ষাপটে, বিকেলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানান, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। কোনো কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র স্থানান্তরের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
গতকাল কুমিল্লায় প্রবল বৃষ্টির কারণে শহরের একটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের নৌকাযোগে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
কুমিল্লার সেই কেন্দ্রটির প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উক্ত ব্যতিক্রমী ঘটনা ব্যতীত অন্যান্য স্থানে জলাবদ্ধতা ততটা প্রকট ছিল না এবং কয়েকটি কেন্দ্র দ্রুততার সাথে পরিবর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান যে, এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থাকায় তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এতদসত্ত্বেও, যেখানে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের বিষয়ে করণীয় তুলে ধরে এহছানুল হক বলেন, "যেসব ক্ষেত্রে এখনও আমরা মনে করি পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের এই ক্ষতি পূরণ করা আমাদের জন্য খুব বড় কোনো কাজ নয়। কারণ আমরা অনেক স্থানে পরীক্ষা স্থগিত করেছি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রশ্ন সেট বিদ্যমান রয়েছে। আমরা প্রয়োজনে আবারও পরীক্ষা নেব। আমরা বর্তমানে পর্যালোচনা করছি যে, যদি প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পারে, সেই জরিপ আমাদের হাতে আসার পর আমরা প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারি। চট্টগ্রাম বোর্ডের ক্ষেত্রে আমরা এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং এই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।"
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীরা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের আমরা বঞ্চিত করতে পারি না এবং বঞ্চিত করব না।"
সম্পূরক প্রশ্নে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শিক্ষার্থীদের অনুরোধ উপেক্ষা করার বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, বিগত তিন-চার দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ প্রধান শহরগুলো জলমগ্ন ছিল। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি, যার ফলশ্রুতিতে আজ ঢাকায় আন্দোলন চলছে। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান যে, এইচএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এক-দুদিন পিছিয়ে দিতে কেন সমস্যা ছিল।
জবাবে এহছানুল হক মিলন ব্যাখ্যা করেন যে, সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২,৭০০টি কেন্দ্রে এবং ৬৪টি জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার পর পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরবর্তীতে সমগ্র চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, "৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে আমরা কথা বলেছি। এর পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছিল যে আর বৃষ্টিপাত হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। সংশ্লিষ্ট সকলেই আবহাওয়া অনুকূল থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন, যে কারণে আমরা পরীক্ষা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিই।"
তবে সকালে বৃষ্টি দেখে তিনি নিজেই তৎপর হয়েছিলেন বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, "সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ জলমগ্ন। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসককে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিই। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের নৌকাযোগে ওই স্কুলের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।"
সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের সাথে আলোচনা করে আর কোথাও কোনো দুর্যোগজনিত গুরুতর সমস্যার খবর পাওয়া যায়নি বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান।
তিনি আরও বলেন, কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। যে ছাত্রীর পোশাক ভিজে গিয়েছিল, তার জন্য বাড়ি থেকে নতুন পোশাক এনে দেওয়া হয়। তাকে এক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় পরেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন—যেমন জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশ প্রশাসন—তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে যে কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিচালনা সম্ভব কিনা। প্রয়োজনে তারা পরীক্ষা স্থগিত করারও ক্ষমতা রাখে।
তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল এবং উক্ত দুটি প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে।
এদিকে, যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন দেশে বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে যেখানে প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে ৬৫,৫৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৯ লাখ ৫৮ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী, ৩২,৬৬৩টি কিন্ডারগার্টেনে ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী, ৯,২৯৫টি সংযুক্ত এবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী এবং ৭,৫২৮টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে।
ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যেই মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এই আশ্বাস প্রদান করেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস ছিল যে আবহাওয়া অনুকূল থাকবে, যার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা যথারীতি বহাল রাখা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল এবং এই দুটি প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আবেদনে মন্ত্রী বলেন, "আমি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা নিজ নিজ পড়াশোনায় ফিরে যায়। তাদের চেয়ে আমরাই বেশি উদ্বিগ্ন যে কীভাবে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা যায়। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি যে, যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে, সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে।"
বর্ষাকালে সারাদেশে বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও, অন্যান্য সকল বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
এরই মধ্যে, গত সোমবার প্রবল বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। ওই দিন বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান (প্রথম পত্র), মানবিক বিভাগের যুক্তিবিদ্যা (প্রথম পত্র) এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞান (প্রথম পত্র) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে দুটি ভুল ছিল।
প্রতিকূল আবহাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তে গতকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায়, আজ সকালে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, যা থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উত্থাপিত হয়।
এই প্রেক্ষাপটে, বিকেলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানান, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। কোনো কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র স্থানান্তরের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
গতকাল কুমিল্লায় প্রবল বৃষ্টির কারণে শহরের একটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের নৌকাযোগে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
কুমিল্লার সেই কেন্দ্রটির প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উক্ত ব্যতিক্রমী ঘটনা ব্যতীত অন্যান্য স্থানে জলাবদ্ধতা ততটা প্রকট ছিল না এবং কয়েকটি কেন্দ্র দ্রুততার সাথে পরিবর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান যে, এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থাকায় তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এতদসত্ত্বেও, যেখানে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের বিষয়ে করণীয় তুলে ধরে এহছানুল হক বলেন, "যেসব ক্ষেত্রে এখনও আমরা মনে করি পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের এই ক্ষতি পূরণ করা আমাদের জন্য খুব বড় কোনো কাজ নয়। কারণ আমরা অনেক স্থানে পরীক্ষা স্থগিত করেছি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রশ্ন সেট বিদ্যমান রয়েছে। আমরা প্রয়োজনে আবারও পরীক্ষা নেব। আমরা বর্তমানে পর্যালোচনা করছি যে, যদি প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পারে, সেই জরিপ আমাদের হাতে আসার পর আমরা প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারি। চট্টগ্রাম বোর্ডের ক্ষেত্রে আমরা এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং এই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।"
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীরা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের আমরা বঞ্চিত করতে পারি না এবং বঞ্চিত করব না।"
সম্পূরক প্রশ্নে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শিক্ষার্থীদের অনুরোধ উপেক্ষা করার বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, বিগত তিন-চার দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ প্রধান শহরগুলো জলমগ্ন ছিল। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি, যার ফলশ্রুতিতে আজ ঢাকায় আন্দোলন চলছে। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান যে, এইচএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এক-দুদিন পিছিয়ে দিতে কেন সমস্যা ছিল।
জবাবে এহছানুল হক মিলন ব্যাখ্যা করেন যে, সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২,৭০০টি কেন্দ্রে এবং ৬৪টি জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার পর পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরবর্তীতে সমগ্র চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, "৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে আমরা কথা বলেছি। এর পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছিল যে আর বৃষ্টিপাত হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। সংশ্লিষ্ট সকলেই আবহাওয়া অনুকূল থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন, যে কারণে আমরা পরীক্ষা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিই।"
তবে সকালে বৃষ্টি দেখে তিনি নিজেই তৎপর হয়েছিলেন বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, "সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ জলমগ্ন। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসককে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিই। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের নৌকাযোগে ওই স্কুলের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।"
সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের সাথে আলোচনা করে আর কোথাও কোনো দুর্যোগজনিত গুরুতর সমস্যার খবর পাওয়া যায়নি বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান।
তিনি আরও বলেন, কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। যে ছাত্রীর পোশাক ভিজে গিয়েছিল, তার জন্য বাড়ি থেকে নতুন পোশাক এনে দেওয়া হয়। তাকে এক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় পরেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন—যেমন জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশ প্রশাসন—তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে যে কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা পরিচালনা সম্ভব কিনা। প্রয়োজনে তারা পরীক্ষা স্থগিত করারও ক্ষমতা রাখে।
তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল এবং উক্ত দুটি প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে।
এদিকে, যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন দেশে বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে যেখানে প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে ৬৫,৫৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৯ লাখ ৫৮ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী, ৩২,৬৬৩টি কিন্ডারগার্টেনে ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী, ৯,২৯৫টি সংযুক্ত এবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী এবং ৭,৫২৮টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে।