Wed 16th Sep 2026, 12:08 pm

সরকারি দপ্তরে জবাবদিহি ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে ডিজিটাল হাজিরার নির্দেশনা

সরকারি দপ্তরে জবাবদিহি ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে ডিজিটাল হাজিরার নির্দেশনা
সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকার ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি চালুর উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। পাশাপাশি, সরকারি কার্যক্রমে বিদ্যমান অনিয়ম ও দুর্নীতি দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নবগঠিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় সাত মাস পর গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রথম সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় উল্লেখিত বিষয়াবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সর্বশেষ সচিব সভা অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যভার গ্রহণের প্রারম্ভে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সরকার প্রায় দেড় বছর ক্ষমতায় থাকলেও, এর পরবর্তীতে আর কোনো সচিব সভা আয়োজিত হয়নি। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর গত মঙ্গলবার এই সচিব সভা পুনরায় অনুষ্ঠিত হলো। সচিব সভা সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়মূলক প্লাটফর্ম। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবগণ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তসমূহ, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যকার সমন্বয় সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বর্তমান সচিব সভার আলোচ্যসূচিতে চারটি মূল বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সরকারের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক দিক, 'জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)', এবং সরকারি কার্যক্রমসমূহকে অধিকতর গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও ফলপ্রসূ করার পদ্ধতি। তদুপরি, সচিবগণ কর্তৃক জনগণের উপর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম এমন যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বিষয় উপস্থাপিত হলে তা নিয়েও আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুসারে, এবারের সচিব সভায় চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য পরিস্থিতি এবং এর ফলস্বরূপ দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতের উপর পড়তে পারে এমন প্রভাব নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে, দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও এর পরিধি কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়ে অধিকতর আলোচনা হয়েছে। সভায় উপস্থিত সরকারের একজন উচ্চপদস্থ সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান যে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলে করণীয় কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব যেন দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতে কোনো বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি না করে, সে লক্ষ্যে আমদানি-নির্ভর জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ওই সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ পূরণ, সরকারের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনা, সরকারি ভবন ও স্থাপনাগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপন, বেসরকারি খাতকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির অবদান বৃদ্ধি করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি যোগ করেন, সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও জবাবদিহি সুনিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, সরকারি কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রসঙ্গেও সচিব সভায় আলোচনা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষত ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন প্রকল্পগুলো যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়ে সচিবদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সকল কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ, ব্যয় এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া সহ সামগ্রিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের উপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।