Sat 19th Sep 2026, 10:45 am

মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট অব্যাহত

মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট অব্যাহত
মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো উন্নতি পরিলক্ষিত হয়নি। বিশেষত, এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের তীব্র সংকট বিদ্যমান। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, মূলত ভোজ্য তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে না। পরিবেশকদের কাছে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তারা চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। বর্তমানে বাজারে যে পরিমাণ তেল আসছে, তার অধিকাংশই দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, নিউ মার্কেট এবং তুরাগ এলাকার নতুন বাজার পরিদর্শনে গিয়ে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপকালে উপরোক্ত তথ্যসমূহ উঠে এসেছে। শান্তিনগর বাজারে পণ্য কিনতে আসা ফরহাদ হোসেন মন্তব্য করেন, মাত্র দুই সপ্তাহ পূর্বে ব্যবসায়ীরা বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা বৃদ্ধি করে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও এই বর্ধিত মূল্য অনুমোদন করেছে। তবে, বর্তমানে বাজারে তেলের সরবরাহ অনুপস্থিত।

বোতলজাত তেলের এই সংকটের মুখে খোলা ভোজ্য তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৯৯ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি, পাম তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।

আটা-ময়দার মূল্যবৃদ্ধি
বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত আটা এবং ময়দার দাম পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার মূল্যের প্রতিবেদনেও আটা ও ময়দার মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বিগত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজি প্রতি তিন টাকা এবং খোলা ও প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজি প্রতি পাঁচ টাকা বেড়েছে। তবে, বাজার বিক্রেতারা জানিয়েছেন যে, গত এক মাসে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম পাঁচ টাকা এবং খোলা ও প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজি প্রতি দশ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা পূর্বে ৪৫ টাকা ছিল। বিক্রেতারা প্রতি কেজি খোলা ময়দার মূল্য ৬৫-৭০ টাকা নিচ্ছেন, যা এক মাস পূর্বে ৫৫-৬০ টাকা ছিল।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই কেজি ওজনের প্যাকেটজাত ময়দা বর্তমানে ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কেজি প্রতি ৮০-৮৫ টাকা পড়ছে।

আটা-ময়দাসহ অন্যান্য কাঁচামালের বর্ধিত মূল্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এই খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আহ্বান জানান। বৈঠকে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন ব্যয়ের যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ডিম ও মাছের বাজার পরিস্থিতি
সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারভেদে প্রতি ডজন ফার্মের লাল ডিম ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০-১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের চাষের মাছের মধ্যে রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৮০-৪২০ টাকা, কাতলা ৪০০-৪৪০ টাকা, ট্যাংরা ৫০০-৭৫০ টাকা, পাঙাশ ২৫০-৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৮০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা এবং কই ২৫০-৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম পূর্বের উচ্চ মূল্যেই স্থিতিশীল রয়েছে। তবে, কাঁচা মরিচের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বাজারভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা পূর্বে ৮০ থেকে ১২০ টাকা ছিল।