Sat 26th Sep 2026, 7:59 pm

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ছদ্মবেশে প্রতারণা: ইতালির প্রধান ব্যাংক থেকে শত কোটি ইউরো আত্মসাৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ছদ্মবেশে প্রতারণা: ইতালির প্রধান ব্যাংক থেকে শত কোটি ইউরো আত্মসাৎ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতারণা চক্র ইতালির বৃহত্তম ঋণদাতা সংস্থা ইন্তেসা সানপাওলোর প্রাইভেট ব্যাংকিং শাখা, ফিদিয়ুরাম (Fideuram) থেকে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরো (১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার) আত্মসাৎ করেছে। গত শুক্রবার এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পরবর্তীকালে, আত্মসাৎকৃত অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলেও, প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরো এখনো অধরা রয়েছে বলে সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।

এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনাটি সর্বপ্রথম ইতালীয় গণমাধ্যম ‘করিয়েরে দেল্লা সেরা’ (Corriere della Sera) কর্তৃক প্রকাশিত হয়। তাদের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতারণার সূত্রপাত ঘটে গত ফেব্রুয়ারি মাসে, যখন ফিদিয়ুরামের তৎকালীন চেয়ারম্যান পাওলো মোলেসিনি (Paolo Molesini) ইন্তেসা সানপাওলোর সিইও কার্লো মেসিনা (Carlo Messina)-এর পরিচয়ে পাঠানো একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা গ্রহণ করেন। উক্ত বার্তায় একটি জরুরি বৈদেশিক লেনদেনের জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।

নির্দেশনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে প্রতারকেরা একটি স্বনামধন্য আইনি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ অংশীদারের নম্বর থেকে একটি ফলোআপ ফোন কল করে। সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, এই আইনজীবীর কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করতে প্রতারকেরা এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছিল।

অনুরোধটিকে বৈধ ভেবে মোলেসিনি তাঁর অর্থ বিভাগকে প্রাথমিকভাবে চীন ও হংকংয়ের বিভিন্ন বিদেশি অ্যাকাউন্টে তহবিল স্থানান্তরের নির্দেশ দেন বলে সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।

ইন্তেসা সানপাওলো এবং ফিদিয়ুরাম কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ফিদিয়ুরাম দ্রুত তহবিল স্থানান্তরে অসঙ্গতি শনাক্ত করে এবং একাধিক দেশের ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চীন, পর্তুগাল ও ইতালির কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরবর্তী সময়ে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ ইউরো উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

বাকি অর্থ বিদেশি অ্যাকাউন্টের জটিল নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত হওয়ায় সেগুলোর আর কোনো হদিস মেলেনি বলে তারা উল্লেখ করেছে।

সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, মোলেসিনি বা ফিদিয়ুরামের অন্য কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো তদন্ত চলছে না। তবে, একটি সূত্র জানিয়েছে যে মিলানের প্রসিকিউটররা কম্পিউটার জালিয়াতির অভিযোগে ইউরোপের বাইরে বসবাসকারী এক বিদেশি নাগরিককে তদন্তের আওতায় এনেছেন।

মোলেসিনি গত মার্চ মাসে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সে সময় তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে ফিদিয়ুরাম কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেনি।

উল্লেখ্য, গত বছরও ইতালিতে অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে প্রতারকেরা এআই ব্যবহার করে ইতালির একজন মন্ত্রীর কণ্ঠস্বর নকল করে ব্যবসায়ী মাসিমো মোরাত্তিকে (Massimo Moratti) প্রায় ১০ লাখ ইউরো একটি বিদেশি অ্যাকাউন্টে পাঠাতে প্ররোচিত করেছিল। যদিও সে অর্থ পরে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।