Thu 1st Oct 2026, 12:01 pm

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে রাখাইনে জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলা: হতাহত অর্ধশত, জাতিসংঘের উদ্বেগ

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে রাখাইনে জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলা: হতাহত অর্ধশত, জাতিসংঘের উদ্বেগ
বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের কায়ুকতো শহরে সামরিক জান্তার চালানো এক বর্বরোচিত বিমান হামলায় অন্তত অর্ধশত নিরীহ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। গত সোমবার সংঘটিত এই হামলায় বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশুও রয়েছে।

এই মর্মান্তিক হামলার খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক মন্তব্য করেন যে রাখাইনের বিদ্যমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পরিবেশ বর্তমানে সেখানে অনুপস্থিত। তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। গুতেরেস বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, উক্ত হামলায় ৫০ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় দাতব্যকর্মী ওয়েই হান ওং এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তার প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নারী ও শিশুদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুকা অভিযোগ করেছেন যে জান্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে জনবহুল বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও একমত যে এই হামলা একটি জনাকীর্ণ বাজারকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছিল।

২০২১ সালে অং সান সু চি'র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চলছে। বর্তমানের এই বিমান হামলা সেই চলমান সংঘাতেরই একটি অংশ বলে বিবেচিত হচ্ছে।