Thu 20th Aug 2026, 2:45 pm

অভিনেত্রী তমা মির্জা: ব্যাংকিং খাতে এভিপি হিসেবে আত্মপ্রকাশ, অভিনয় জীবনের ভবিষ্যৎ কী?

অভিনেত্রী তমা মির্জা: ব্যাংকিং খাতে এভিপি হিসেবে আত্মপ্রকাশ, অভিনয় জীবনের ভবিষ্যৎ কী?
'দাগি' ছবির সাফল্যের পর তমা মির্জার একাধিক নতুন ছবিতে অভিনয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বিভিন্ন পরিচালক ও প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে তিনি মিটিং করেছেন এবং কয়েকটি প্রকল্পের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্তও পৌঁছেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এই ঢালিউড অভিনেত্রী কোনোটির সঙ্গেই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করে অগ্রসর হননি।
অবশেষে, একটি নতুন ছবিতে তাঁর অভিনয় নিশ্চিত হওয়ার খবর বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই ছবিতে তমা মির্জার অভিনয়ের বিষয়টি শতভাগ চূড়ান্ত হয়েছে এবং তিনি কিছুদিন আগেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তবে তিনি নিজে বা ছবিটির পরিচালক ভিকি জাহেদ এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আই, কেউই এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।
তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবং ছবিটির সংশ্লিষ্ট মহল থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, চলতি মাসের শেষ অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকাতে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভিকি জাহেদ পরিচালিত এই ছবির প্রারম্ভিক নামকরণ করা হয়েছে ‘খলনায়ক’, যদিও পরবর্তীতে এর নাম পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনাও বিদ্যমান।
গতকাল তমা মির্জা তাঁর অভিনয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, “‘আমি একটি ছবিতে কাজ করছি। এই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা চমৎকার, তাই ‘দাগি’র পর এমন একটি সুন্দর গল্পের মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন করাকেই আমার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছে। আমার চরিত্রটিও আমাকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানই ভালো বলতে পারবে।”
ছবিটির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র অনুযায়ী, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের শেষ দিকে ‘খলনায়ক’ মুক্তির পরিকল্পনা করছে। তবে তমা মির্জা নিজে ছবিটির মুক্তির সঠিক দিনক্ষণ সম্পর্কে অবগত নন। এ বিষয়ে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, ‘প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানই এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবে।’

নায়িকা এখন ব্যাংকার

অভিনয়ের পাশাপাশি তমা মির্জা তাঁর পেশাগত জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি দেশের একটি স্বনামধন্য বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি—ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এই নতুন পরিচয় এবং দায়িত্ব তিনি বিশেষভাবে উপভোগ করছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘নতুন সহকর্মী, নতুন পরিবেশ এবং নতুন বন্ধুদের সঙ্গে আমার সময়টা অত্যন্ত আনন্দদায়কভাবে কাটছে।’
একজন ব্যাংকার হিসেবে তমা কি তাঁর অভিনয় জীবনে অনিয়মিত হয়ে পড়বেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তমা দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘অভিনয় আমার প্রথম ভালোবাসা এবং আবেগপ্রবণ জায়গা। আমি এখানেই আছি, থাকব এবং ইনশা আল্লাহ শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাজ করে যাব। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও আমার অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত সহযোগিতা পরায়ণ। তাই অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।’
অভিনয়ের পাশাপাশি এই নতুন পেশাকে তমা মির্জা নিজের জন্য একটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাঁর মতে, ‘আমি চলচ্চিত্রে খুব সতর্কতার সাথে কাজ নির্বাচন করি, বছরে সাধারণত একটি বা দুটি সিনেমায় অভিনয় করি। জীবনের অবশিষ্ট সময় অন্যান্য ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারাটা আমার জন্য একটি চমৎকার সুযোগ। আমি এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই।’

‘দুই বন্ধু’ নিয়ে আফসোস

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তমা মির্জা পশ্চিমবঙ্গের গায়ক ও নির্মাতা অঞ্জন দত্ত পরিচালিত ‘দুই বন্ধু’ নামক একটি ওয়েব সিরিজে কাজ করেন। কলকাতার কোনো নির্মাতার সঙ্গে এটিই ছিল তমার প্রথম কাজ, তাই শুরুতে তিনি কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন। তবে কাজ শুরু করার পর সেই অস্বস্তি দ্রুত প্রশমিত হয়। অঞ্জন দত্তের পরিচালনা শৈলী এবং ব্যক্তিত্বে তমা বিশেষভাবে মুগ্ধ হন। কলকাতায় টানা ৯ দিন ধরে এই ওয়েব সিরিজটির শুটিং হয়েছিল। কাজের ধরন এবং অত্যন্ত পেশাদার পরিবেশ তাঁকে বিশেষভাবে প্রশংসনীয় লেগেছিল। তমা উল্লেখ করেন, ‘এক শিফটে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দল অত্যন্ত সুসংগঠিত ছিল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল। আমি এই অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখেছি।’
তবে শুটিং সম্পন্ন হওয়ার এত দিন পরও সিরিজটি এখনো মুক্তি লাভ করেনি। মুক্তি সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যও তাঁর কাছে নেই। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় তাঁর কণ্ঠে কিছুটা অভিমান এবং হতাশার সুর পরিলক্ষিত হয়। তমা বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এর ভাগ্যে কী আছে, তা প্রযোজক-পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন। আমি আর এ বিষয়ে ভাবছি না।’
২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলীর ‘নদীজন’ ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী তমা মির্জা সময়ের সাথে সাথে নিজেকে ভেঙেচুরে নতুন রূপে গড়ে তুলেছেন এবং তাঁর অভিনয় কৌশলে বৈচিত্র্য এনেছেন। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘সাত নম্বর ফ্লোর’, ‘ফ্রাইডে’, ‘সুড়ঙ্গ’ এবং সর্বশেষ ‘দাগি’—এই ছবিগুলোতে তাঁর ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় সেই পরিবর্তন এবং বিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করে।