প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রশ্নপত্রে বিতর্ক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি এবং একাধিক বিষয়ে তুলনামূলক 'কঠিন' প্রশ্ন আসার অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রেক্ষিতে, সরকার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নিশ্চিত করেন যে, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল এবং এর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে। এছাড়াও, ত্রুটিপূর্ণ পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র পরিশোধন (মডারেশন) প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
গত ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করছে। তবে, পরীক্ষার শুরু থেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা একাধিকবার স্থগিত করতে হয়েছে, যা সর্বশেষ ১৬ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চল ব্যতীত দেশের অন্যান্য স্থানে গত সোমবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে পরীক্ষার্থীরা ব্যাপক যাতায়াত দুর্ভোগের শিকার হন। উদাহরণস্বরূপ, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে অনেক পরীক্ষার্থীকে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি ডিঙিয়ে অথবা নৌকায় চড়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
এই প্রেক্ষাপটে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গতকাল জাতীয় সংসদে পুনরায় জানান, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের প্রতিটি জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং এই পরীক্ষাগুলি পুনরায় গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা পুনঃগ্রহণের সময় পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা (গত সোমবার অনুষ্ঠিত) পরীক্ষাগুলিও পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, করোনা মহামারি এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, এবারের পরীক্ষার কিছু বিষয়ের প্রশ্নপত্র তুলনামূলক 'কঠিন' হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। ঢাকার একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন পরীক্ষার্থীর মা Desi Media Point-কে জানান যে, প্রথম দিনের বাংলা বিষয়ের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশটি তুলনামূলক কঠিন ছিল। অনুরূপভাবে, নটর ডেম কলেজের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকও তার সন্তানের বরাত দিয়ে বলেন যে, এবারের প্রশ্নপত্র কঠিন অনুভূত হয়েছে।
তবে, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ার এই অভিযোগের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রশ্নপত্র সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রণয়ন করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মূল পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তে সহায়ক বা গাইড বইয়ের ওপর অধিক নির্ভরশীল। যেহেতু প্রশ্নপত্র মূল পাঠ্যবই এবং নির্ধারিত সিলেবাস থেকেই তৈরি করা হয়, তাই যারা মূল বই মনোযোগ দিয়ে পড়েন না, তাদের কাছে প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন মনে হতে পারে।
এরই মধ্যে গত সোমবার অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞানের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র পরিশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছেন। কারণ দর্শানোর নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন: শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
এবারে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি বিষয়ে দুটি অংশে (বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল) প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়। প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের কাছে প্রধান প্রশিক্ষকদের (মাস্টার ট্রেইনার) একটি তালিকা থাকে। এই তালিকা থেকে পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে প্রতিটি বিষয়ের জন্য চারজন প্রশ্ন প্রণেতা শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। তাঁরা প্রত্যেকে পৃথকভাবে চার সেট প্রশ্নপত্র তৈরি করে সিলগালা খামে করে বোর্ডে জমা দেন। পরবর্তীতে চারজন পরিশোধনকারী (মডারেটর) অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে প্রশ্নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করেন। প্রয়োজনে প্রশ্ন সংশোধন, সংযোজন অথবা সম্পূর্ণ নতুন প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষমতা তাঁদের রয়েছে। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর চার সেট প্রশ্নপত্র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দেওয়া হয় এবং সেগুলো বোর্ডে কঠোর গোপনীয়তার সাথে সংরক্ষিত থাকে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা Desi Media Point-কে জানান, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হলেও, ৯টি সাধারণ বোর্ডের জন্য মোট ৩৬ সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ লটারির মাধ্যমে চারটি সেট নির্বাচন করেন। এর মধ্যে দুটি সেট সরাসরি বিজি প্রেসে ছাপার জন্য প্রেরণ করা হয় এবং অবশিষ্ট দুটি সেট ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকে। মুদ্রিত হওয়ার পর প্রশ্নপত্রগুলো স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রেরণ করা হয়। জেলা সদরে সাধারণ ট্রেজারিতে এবং উপজেলায় সাধারণত থানায় প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্রগুলোর সুষ্ঠু বন্টন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতিটি পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে আন্তশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত করেন কোন সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানদের তা অবহিত করেন। অতঃপর জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। এই কঠোর গোপনীয়তার কারণে, পরীক্ষার পূর্বে কোন প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে তা দেখার সুযোগ কারো থাকে না। ফলস্বরূপ, প্রশ্নপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলেও তা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এবারের পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের যে প্রশ্নপত্রে ত্রুটি পাওয়া গেছে, সেটি সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ছিল।
পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রায়শই ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান Desi Media Point-কে জানান, বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্র কেমন হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা বিদ্যমান। তবে, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রশ্নকর্তারা অনেক সময় সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রশ্নের স্তর অনুযায়ী সঠিক মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। তাই, প্রশ্ন প্রণয়ন ও পরিশোধন (মডারেশন) প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে আরও গভীর সতর্কতা ও মনোযোগ অপরিহার্য। এক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডগুলোর উচিত প্রশ্ন প্রণেতা এবং মডারেশনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এই প্রেক্ষিতে, সরকার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নিশ্চিত করেন যে, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল এবং এর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে। এছাড়াও, ত্রুটিপূর্ণ পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র পরিশোধন (মডারেশন) প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
গত ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করছে। তবে, পরীক্ষার শুরু থেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা একাধিকবার স্থগিত করতে হয়েছে, যা সর্বশেষ ১৬ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চল ব্যতীত দেশের অন্যান্য স্থানে গত সোমবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে পরীক্ষার্থীরা ব্যাপক যাতায়াত দুর্ভোগের শিকার হন। উদাহরণস্বরূপ, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে অনেক পরীক্ষার্থীকে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি ডিঙিয়ে অথবা নৌকায় চড়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
এই প্রেক্ষাপটে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গতকাল জাতীয় সংসদে পুনরায় জানান, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের প্রতিটি জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং এই পরীক্ষাগুলি পুনরায় গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা পুনঃগ্রহণের সময় পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা (গত সোমবার অনুষ্ঠিত) পরীক্ষাগুলিও পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, করোনা মহামারি এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, এবারের পরীক্ষার কিছু বিষয়ের প্রশ্নপত্র তুলনামূলক 'কঠিন' হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। ঢাকার একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন পরীক্ষার্থীর মা Desi Media Point-কে জানান যে, প্রথম দিনের বাংলা বিষয়ের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশটি তুলনামূলক কঠিন ছিল। অনুরূপভাবে, নটর ডেম কলেজের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকও তার সন্তানের বরাত দিয়ে বলেন যে, এবারের প্রশ্নপত্র কঠিন অনুভূত হয়েছে।
তবে, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ার এই অভিযোগের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রশ্নপত্র সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রণয়ন করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মূল পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তে সহায়ক বা গাইড বইয়ের ওপর অধিক নির্ভরশীল। যেহেতু প্রশ্নপত্র মূল পাঠ্যবই এবং নির্ধারিত সিলেবাস থেকেই তৈরি করা হয়, তাই যারা মূল বই মনোযোগ দিয়ে পড়েন না, তাদের কাছে প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন মনে হতে পারে।
এরই মধ্যে গত সোমবার অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞানের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র পরিশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছেন। কারণ দর্শানোর নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন: শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
এবারে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি বিষয়ে দুটি অংশে (বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল) প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়। প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের কাছে প্রধান প্রশিক্ষকদের (মাস্টার ট্রেইনার) একটি তালিকা থাকে। এই তালিকা থেকে পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে প্রতিটি বিষয়ের জন্য চারজন প্রশ্ন প্রণেতা শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। তাঁরা প্রত্যেকে পৃথকভাবে চার সেট প্রশ্নপত্র তৈরি করে সিলগালা খামে করে বোর্ডে জমা দেন। পরবর্তীতে চারজন পরিশোধনকারী (মডারেটর) অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে প্রশ্নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করেন। প্রয়োজনে প্রশ্ন সংশোধন, সংযোজন অথবা সম্পূর্ণ নতুন প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষমতা তাঁদের রয়েছে। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর চার সেট প্রশ্নপত্র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দেওয়া হয় এবং সেগুলো বোর্ডে কঠোর গোপনীয়তার সাথে সংরক্ষিত থাকে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা Desi Media Point-কে জানান, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হলেও, ৯টি সাধারণ বোর্ডের জন্য মোট ৩৬ সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ লটারির মাধ্যমে চারটি সেট নির্বাচন করেন। এর মধ্যে দুটি সেট সরাসরি বিজি প্রেসে ছাপার জন্য প্রেরণ করা হয় এবং অবশিষ্ট দুটি সেট ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকে। মুদ্রিত হওয়ার পর প্রশ্নপত্রগুলো স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রেরণ করা হয়। জেলা সদরে সাধারণ ট্রেজারিতে এবং উপজেলায় সাধারণত থানায় প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্রগুলোর সুষ্ঠু বন্টন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতিটি পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে আন্তশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত করেন কোন সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানদের তা অবহিত করেন। অতঃপর জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। এই কঠোর গোপনীয়তার কারণে, পরীক্ষার পূর্বে কোন প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে তা দেখার সুযোগ কারো থাকে না। ফলস্বরূপ, প্রশ্নপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলেও তা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এবারের পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের যে প্রশ্নপত্রে ত্রুটি পাওয়া গেছে, সেটি সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ছিল।
পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রায়শই ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান Desi Media Point-কে জানান, বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্র কেমন হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা বিদ্যমান। তবে, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রশ্নকর্তারা অনেক সময় সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রশ্নের স্তর অনুযায়ী সঠিক মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। তাই, প্রশ্ন প্রণয়ন ও পরিশোধন (মডারেশন) প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে আরও গভীর সতর্কতা ও মনোযোগ অপরিহার্য। এক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডগুলোর উচিত প্রশ্ন প্রণেতা এবং মডারেশনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।