Wed 12th Aug 2026, 5:08 pm

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩.৮ বিলিয়ন পাউন্ডে: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১২% বৃদ্ধি

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩.৮ বিলিয়ন পাউন্ডে: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১২% বৃদ্ধি
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৫.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই একই সময়ে, যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি ২.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.৮ বিলিয়ন বা ৩৮০ কোটি পাউন্ড। এটি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০৫ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বেশি। যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড (Department for Business and Trade) কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ 'ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাক্টশিট'-এ এই বিস্তারিত তথ্যসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ৪.৫ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে। এটি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৮ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডের সমপরিমাণ বৃদ্ধি।

এই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মধ্যে, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ৩৮০ কোটি পাউন্ড মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর বিপরীতে, যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে ৭০ কোটি পাউন্ডের পণ্য ও সেবা। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাজ্যের ৩১০ কোটি পাউন্ডের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা এক বছর আগে ২৬০ কোটি পাউন্ড ছিল।

বাংলাদেশের রপ্তানির প্রধানতম খাত হলো তৈরি পোশাক শিল্প। স্বাভাবিকভাবেই, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি পণ্যের সিংহভাগই তৈরি পোশাক। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ থেকে ৩.৩ বিলিয়ন বা ৩৩০ কোটি পাউন্ড মূল্যের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৫.৫ শতাংশ বেশি, যা অর্থমূল্যে প্রায় ৪৪-৪৫ কোটি পাউন্ডের রপ্তানি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশই তৈরি পোশাক কেন্দ্রিক। এই খাতের বাইরে, টেক্সটাইল ফেব্রিক, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য এবং জুতার মতো পণ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে রপ্তানি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর সামগ্রীই মুখ্য। যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে রপ্তানিকৃত পণ্যের অর্ধেকেরও বেশি (৫১.৭ শতাংশ) শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত যান্ত্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সরঞ্জাম। এছাড়াও, শিল্পযন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক মোটর এবং বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদির রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য।

**বাংলাদেশের অবস্থান**
২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের ৫৩তম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। একই সাথে, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ৩৬তম বৃহত্তম আমদানি উৎস এবং রপ্তানির বাজার হিসেবে ৮১তম বৃহত্তম বাজার।

এছাড়াও, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এর উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সঞ্চিত এফডিআই ১.১ বিলিয়ন বা ১১০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪ কোটি পাউন্ড বা ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সময়ে, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের সঞ্চিত এফডিআই ছিল ৮৪ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড। এটি একক বছরের নতুন বিনিয়োগ নয়, বরং বহু বছরের সম্মিলিত এফডিআই।

ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিবিসিআই) প্রেসিডেন্ট মহিব চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পেলেও অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এই প্রক্রিয়াগুলি সহজ ও দ্রুত করা সম্ভব হলে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সবজি সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ যুক্তরাজ্যে এই পণ্যগুলির ব্যাপক চাহিদা বিদ্যমান। তবে, এই বাজারকে সফলভাবে ধরতে হলে বাংলাদেশি পণ্যগুলির সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

যুক্তরাজ্যের এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমসের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে প্রায় ১,১০০টি ভ্যাট-নিবন্ধিত ব্রিটিশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করেছে। একই সময়ে, প্রায় ৬০০টি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করেছে।