Thu 20th Aug 2026, 2:19 am

কলকাতায় মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড: কুষ্টিয়ার সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরসহ চারজনের প্রাণহানি

কলকাতায় মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড: কুষ্টিয়ার সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরসহ চারজনের প্রাণহানি
ভারতের কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার চারজন ব্যক্তি মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, শিশুপুত্র ও শ্বশুর।

নিহত দেবাশীষ দত্ত (৩৯) 'আজকের পত্রিকা' এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'চ্যানেল নাইন'-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একইসাথে তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত 'আজকের আলো' পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছর বয়সী ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) মৃত্যুবরণ করেন। পনেরো দিন পূর্বে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাঁরা ভারতের কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। আজ বুধবার তাঁদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের কথা ছিল।

গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের নিকটবর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ মোট ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এই চারজনও ছিলেন।

৩৯ বছর বয়সী সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা দিলীপ দত্তের পুত্র ছিলেন। আজ সকালে দিলীপ দত্ত তাঁর পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতির মৃত্যুর হৃদয়বিদারক সংবাদ পান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মারফত তিনি তাঁর ছেলের মরদেহের ছবি দেখার কথা জানিয়েছেন।

আজ দুপুরে Desi Media Point-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ দত্ত জানান, দেবাশীষের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আট বছর বয়সী মেয়ে ফাহিমাকে দেশে রেখে গত ৩ আগস্ট তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে গমন করেন। দুই দিন পর তাঁর শ্বশুরও কলকাতায় তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। প্রাথমিকভাবে তাঁরা কলকাতায় দুই দিন অবস্থান করেন, এরপর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যান। গত সোমবার রাত এগারোটায় তাঁরা উড়োজাহাজে কলকাতা ফিরে আসেন এবং একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। আজ সকালে দিলীপ দত্ত এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের সকলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

দেবাশীষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকাল থেকেই তাঁর আড়ুয়াপাড়ার বাসভবনে বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী সাংবাদিক ও প্রতিবেশীদের ভিড় পরিলক্ষিত হয়। ছেলেকে হারিয়ে মা স্বপ্না দত্ত শোকে প্রায় উন্মাদ। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিলাপ করতে থাকেন, 'আমার দেবা (দেবাশীষ) তো এখনই বাড়ি ফিরবে। এত দেরি করছে কেন? রাতে বলেছিল, ব্যাগ গোছাচ্ছে। সকালেই তো বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেবে।'