Sun 23rd Aug 2026, 1:57 pm

অর্জুন রামপালের সহধর্মিণী গ্যাব্রিয়েলা দেমেত্রিয়াদেস: আফ্রিকার প্রারম্ভ থেকে বহুমুখী সাফল্যের পথে

অর্জুন রামপালের সহধর্মিণী গ্যাব্রিয়েলা দেমেত্রিয়াদেস: আফ্রিকার প্রারম্ভ থেকে বহুমুখী সাফল্যের পথে
অভিনেতা অর্জুন রামপালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর গ্যাব্রিয়েলা দেমেত্রিয়াদেস পুনরায় সংবাদ শিরোনামে এসেছেন। তবে তাঁর পরিচিতি কেবল একজন অভিনেতার জীবনসঙ্গিনী হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশে প্রতিপালিত গ্যাব্রিয়েলা মডেলিংয়ের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে একজন সফল ফ্যাশন ডিজাইনার, নিপুণ অভিনেত্রী ও দূরদর্শী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের একটি স্বকীয় ও সুপ্রতিষ্ঠিত পরিচয় নির্মাণ করেছেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে মডেলিং জগতে তাঁর পদার্পণ ঘটে। এরপর তিনি গৌতেংয়ের সানিসাইডে ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি তিনি অসংখ্য ফ্যাশন শো, খ্যাতনামা ম্যাগাজিনের ফটোশুট এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ভারতে আগমনের পর তাঁর কর্মক্ষেত্রের পরিধি আরও প্রসারিত হয়, যেখানে অভিনয় এবং মিউজিক ভিডিওতেও তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

গ্যাব্রিয়েলার অভিনীত চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ইশক ঝামেলা’, ‘সোনালি কেবল’ এবং তেলেগু-তামিল ভাষার চলচ্চিত্র ‘ওপ্পিরি’। তবে অভিনয়ের চেয়ে ফ্যাশন শিল্পেই তিনি অধিকতর মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন।

২০১২ সালে গ্যাব্রিয়েলা তাঁর নিজস্ব রেডি-টু-ওয়্যার নারীদের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘ডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে তিনি ফ্যাশন জগতে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের স্থান সুদৃঢ় করেন। পরবর্তীতে তিনি আরেকটি অভিনব ব্র্যান্ড চালু করেন, যা নির্বাচিত পুরোনো পোশাক পুনঃবিক্রয়ের মাধ্যমে ‘সার্কুলার ফ্যাশন’ (Circular Fashion) ধারণাকে উৎসাহিত করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতেও গ্যাব্রিয়েলার সরব উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসরণকারীর সংখ্যা প্রায় সাত লক্ষ। সেখানে তিনি তাঁর ফ্যাশন শৈলী, ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, সন্তানদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত এবং পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়মিতভাবে তুলে ধরেন।

**প্রেম থেকে বিয়ে**
অর্জুন রামপাল এবং গ্যাব্রিয়েলার সম্পর্কের সূত্রপাত ২০১৮ সালে। দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে বসবাসের পর তাঁদের বন্ধন আরও গভীর হয়। সম্প্রতি গোয়ার বারদেজ সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

এর পূর্বে রিয়া চক্রবর্তীর পডকাস্টে অর্জুন তাঁদের বাগ্‌দানের সংবাদ ঘোষণা করেছিলেন। পডকাস্টের ট্রেলারে রিয়া তাঁদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন, "শহরের সবচেয়ে কুল দম্পতিকে অভিনন্দন।"

ওই কথোপকথনে গ্যাব্রিয়েলা ভালোবাসা বিষয়ক নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর মতে, সম্পর্কে ভালোবাসার সঙ্গে প্রায়শই শর্তাবলী জড়িত থাকে, কিন্তু সন্তানের আগমনের পর সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়।

অর্জুনও তাঁদের সম্পর্কের প্রাথমিক পর্যায়ের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে পরিহাসের ছলে জানান যে, গ্যাব্রিয়েলার প্রতি তাঁর প্রাথমিক আকর্ষণের অন্যতম কারণ ছিল তাঁর সৌন্দর্য। তবে পরবর্তীতে তিনি উপলব্ধি করেন যে, তাঁদের সম্পর্কটি কেবল শারীরিক আকর্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে আরও গভীরতর একটি বন্ধন বিদ্যমান।

**দুই সন্তানের মা**
অর্জুন ও গ্যাব্রিয়েলা দম্পতির দুই পুত্রসন্তান—আরিক ও আরাভ। আরিক ২০১৯ সালে এবং তাঁদের দ্বিতীয় পুত্র আরাভের জন্ম ২০২৩ সালে হয়।

মডেলিং, ফ্যাশন ব্যবসা এবং উদ্যোক্তার ভূমিকার পাশাপাশি সন্তানদের লালন-পালনও গ্যাব্রিয়েলার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বিভিন্ন সময়ে মাতৃত্ব ও তাঁর পেশাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে সন্তানদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো প্রায়শই প্রদর্শিত হয়।

**অর্জুনের প্রথম সংসার**
গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পূর্বে অর্জুন রামপাল সাবেক সুপারমডেল ও উদ্যোক্তা মেহর জেসিয়ার সঙ্গে বিবাহিত জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯৯৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং এই দম্পতির দুই কন্যা—মাহিকা ও মাইরা।

২০১৮ সালে অর্জুন ও মেহর তাঁদের বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। তাঁরা জানিয়েছিলেন যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমেই তাঁরা পৃথক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০১৯ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে।

অর্জুন বারংবার উল্লেখ করেছেন যে, বিচ্ছেদের পরেও তাঁর দুই কন্যার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং তাঁরা যৌথভাবে সন্তানদের দেখভাল করেন।