Sat 5th Sep 2026, 11:50 am

চট্টগ্রামে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব: অনিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রামে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব: অনিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
গত ১৭ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার চন্দ্রনগর কলোনিতে ডায়রিয়ার আকস্মিক প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় দুই দিনের মধ্যে অন্তত ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় এবং আব্দুল মতিন (৭৫) নামের একজন বৃদ্ধ মৃত্যুবরণ করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আক্রান্তদের অধিকাংশই একই কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁদের পানি সরবরাহের ট্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ছিল এবং এর ভেতরে মৃত ইঁদুর ও তেলাপোকা পাওয়া গেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা দ্রুত কলোনি পরিদর্শন করে ট্যাংকের পানি পরীক্ষা করেন। তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হয় যে, অপরিচ্ছন্ন পানির ট্যাংকই ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার প্রধান উৎস ছিল।
চট্টগ্রামে ডায়রিয়া ও কলেরার প্রাদুর্ভাবে অনিরাপদ পানির ভূমিকা এর আগেও একাধিকবার স্পষ্ট হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে তীব্র ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৭,৯৫০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন। এই প্রাদুর্ভাব চট্টগ্রাম নগরসহ বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা এবং চন্দনাইশ উপজেলাগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) পরিচালিত একটি গবেষণায় অনিরাপদ ও লবণাক্ত পানি, তীব্র পানি সংকট, দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং পানি বিশুদ্ধকরণে অনীহার মতো একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে। তবে, গবেষণায় কোনো একক কারণকে সরাসরি এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে নির্দিষ্ট করা যায়নি।
গবেষক দলের সদস্য ইমামুল মুনতাসির উল্লেখ করেন, "কোনো কোনো পুকুরে শৌচাগারের বর্জ্য সরাসরি মিশতে দেখা গেছে এবং অনেক মানুষ পানি বিশুদ্ধ না করেই ব্যবহার করেন। এসব বিষয় জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ।" উল্লেখ্য, 'চট্টগ্রামে ২০২৩ সালের কলেরা প্রাদুর্ভাবের মৌসুমি প্রবণতা, পরিবেশগত কারণ ও তা থেকে পাওয়া শিক্ষা' শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি গত ২৫ জুলাই আন্তর্জাতিক সাময়িকী হেলথ সায়েন্স রিপোর্টসে প্রকাশিত হয়। আইইডিসিআর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মোট ১১ জন গবেষক এই দলে যুক্ত ছিলেন।
Desi Media Point-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমামুল মুনতাসির আরও বলেন, "যদি নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা না যায়, তবে ডায়রিয়া ও কলেরার ঝুঁকি বরাবরই বিদ্যমান থাকবে। আমাদের অনুসন্ধানে নলকূপ এবং পুকুরের পানিতে ব্যাপক দূষণের চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষত, কিছু পুকুরে শৌচাগারের বর্জ্য সরাসরি মিশে যাচ্ছে, এবং অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ পানি বিশুদ্ধ না করেই দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগজনক।"
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, আক্রান্ত রোগীদের নমুনায় মহামারি সৃষ্টিকারী 'ও ১ ও গাওয়া' (O1 Ogawa) ধরনের জীবাণু পাওয়া গেছে। তবে, রোগী এবং পানির নমুনায় প্রাপ্ত জীবাণুর মধ্যে প্রত্যক্ষ জিনগত সম্পর্ক যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি যে পশ্চিম গোমদণ্ডীর পরীক্ষিত পানি থেকেই রোগীরা সংক্রমিত হয়েছেন। ইমামুল মুনতাসির জোর দিয়ে বলেন, "ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ, পানির গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন অত্যাবশ্যক। বিশেষ করে, ডায়রিয়া-কলেরার ওপর বিদ্যমান রোগতাত্ত্বিক নজরদারির পাশাপাশি পরিবেশগত নজরদারিও বৃদ্ধি করা উচিত।"

**দেড় মাসে প্রায় আট হাজার রোগীর প্রাদুর্ভাব**
২০২৩ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন তীব্র ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাবের খবর আইইডিসিআরকে অবহিত করেন। এর পরদিনই আইইডিসিআরের একটি বিশেষজ্ঞ দল চট্টগ্রামে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। যদিও এপ্রিল মাস থেকেই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল; প্রথম সপ্তাহে আনোয়ারা ও পটিয়ায়, দ্বিতীয় সপ্তাহে চট্টগ্রাম নগরে এবং তৃতীয় সপ্তাহে বোয়ালখালী ও চন্দনাইশে এই বৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়।
১ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পটিয়ায় ১,৫৯৬ জন, বোয়ালখালীতে ১,০৮৭ জন, আনোয়ারায় ১,০৩৯ জন এবং চন্দনাইশে ১,০৩৩ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। একই সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১,৩৩৪ জন এবং বিআইটিআইডিতে ১,৮৬৭ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এই সময়ে মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৭,৯৫০ জন।
গবেষকরা মোট ১৬৬ জন রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ৭০ জন চট্টগ্রাম নগরের এবং ৯৬ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। রোগীদের মধ্যে সর্বাধিক ৩৯ শতাংশের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। সকল রোগীরই পাতলা পায়খানা এবং ৮৫ শতাংশ রোগীর বমির উপসর্গ ছিল।
পরীক্ষিত ২৩ জন রোগীর মলের নমুনার মধ্যে ৬টিতে ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae) বা কলেরার জীবাণু সনাক্ত করা হয়, যা ওই প্রাদুর্ভাবের সময় রোগীদের মধ্যে কলেরার জীবাণু উপস্থিতির পরীক্ষাগার-ভিত্তিক প্রমাণ দেয়।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নগর এবং বিভিন্ন উপজেলায় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষকদের মতে, এই প্রবণতা একটি একক উৎস থেকে আকস্মিক রোগ ছড়ানোর পরিবর্তে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ উৎসের সাথে বারবার সংস্পর্শের ইঙ্গিত বহন করে। তবে, নির্দিষ্টভাবে কোন রোগী কোন উৎস থেকে সংক্রমিত হয়েছেন, তা এই গবেষণায় চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত জেলায় মোট ২৬,৬০২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাসিক গড় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩,৩২৫ জন, যার মধ্যে শুধুমাত্র আগস্ট মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ২,৭৮১ জন।

**নলকূপ ও পুকুরে দূষণের চিত্র**
হাসপাতালের তথ্যের পাশাপাশি গবেষকরা পানির উৎস এবং স্যানিটেশন পরিস্থিতিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী থেকে তিনটি নলকূপ ও পাঁচটি পুকুরের মোট আটটি পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এই নমুনাগুলো আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) পরিবেশ পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষায় দেখা যায়, তিনটি নলকূপের দুটির পানিতেই বিপুল পরিমাণে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত। পানিতে কলিফর্মের উপস্থিতি একটি গুরুতর দূষণের লক্ষণ। একটি নলকূপের প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানিতে ৮,৮০,০০০ কলিফর্ম পাওয়া যায়। একইভাবে, পাঁচটি পুকুরের সব কটিতেই কলিফর্মের উপস্থিতি ছিল, যার মধ্যে একটি পুকুরে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২,৩০,০০০ কলিফর্ম সনাক্ত করা হয়।
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে গবেষকরা কিছু পুকুরে সরাসরি শৌচাগারের বর্জ্য মিশতে দেখেছেন। তবে, এই দূষিত পানি পান করেই রোগীরা অসুস্থ হয়েছেন এমন প্রত্যক্ষ সম্পর্ক গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি। একটি নলকূপ এবং পাঁচটি পুকুরের সব কটিতে ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেলেও, পানিতে প্রাপ্ত জীবাণুর ধরনটি সাধারণত মহামারি আকারে কলেরা ছড়াতে সক্ষম নয়।
গবেষকরা পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, রোগীদের নমুনায় মহামারি সৃষ্টিকারী 'ও ১ ও গাওয়া' (O1 Ogawa) ধরনের জীবাণু পাওয়া গেছে। কিন্তু রোগী এবং পানির নমুনায় প্রাপ্ত জীবাণুর মধ্যে সরাসরি জিনগত পরীক্ষা না হওয়ায়, পশ্চিম গোমদণ্ডীর পরীক্ষিত পানিই সংক্রমণের উৎস ছিল কিনা, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হয়নি।
এই গবেষণায় পানির নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। প্রাদুর্ভাব চট্টগ্রাম নগরসহ চারটি উপজেলায় দেখা দিলেও, আটটি পানির নমুনা শুধুমাত্র পশ্চিম গোমদণ্ডী থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, জরুরি পরিস্থিতি এবং সময় ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে নমুনা সংগ্রহ একটি নির্দিষ্ট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ রাখতে হয়েছিল।

**শৌচাগারের সন্নিকটে নলকূপ**
পশ্চিম গোমদণ্ডীতে স্থানীয় বাসিন্দারা যে নলকূপগুলোকে 'গভীর নলকূপ' হিসেবে চিহ্নিত করতেন, সেগুলোর গভীরতা সাধারণত ২৫০ ফুটের বেশি ছিল না। কিছু নলকূপ শৌচাগারের খুবই কাছাকাছি অবস্থিত ছিল। পুকুরগুলো স্থানীয়রা গোসল, কাপড় ধোয়াসহ বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতেন। কিছু পুকুরের পানি দৃশ্যত নোংরা ছিল এবং কোনো কোনো পুকুরে শৌচাগারের বর্জ্য সরাসরি পতিত হতে দেখা গেছে।
৯৬ জন উপজেলা রোগীর মধ্যে ৫৫ জনের খাবার পানির প্রধান উৎস ছিল গভীর নলকূপ, এবং ৩৮ জন সাধারণ নলকূপের পানি পান করতেন। ৫৩ জন বা ৫৫ শতাংশ রোগী গৃহস্থালির কাজে পুকুরসহ ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করতেন। উদ্বেগজনকভাবে, ৯৬ জনের মধ্যে ৮০ জন বা ৮৩ শতাংশ রোগী পানি বিশুদ্ধকরণ ছাড়াই তা ব্যবহার করতেন।
পরীক্ষিত পানিতে লবণাক্ততার উল্লেখযোগ্য তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। নলকূপের পানিতে প্রতি লিটারে লবণাক্ততা ছিল ২১০ থেকে ২৩৫ মিলিগ্রাম, যেখানে পুকুরের পানিতে ২৮৩ থেকে সর্বোচ্চ ২,৩২০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লবণাক্ততা পাওয়া যায়। পাঁচটি পুকুরের মধ্যে দুটিতে প্রতি লিটারে এক হাজার মিলিগ্রামের বেশি লবণাক্ততা ছিল।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে যায় এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এই সময়ে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নিরাপদ পানির সংকট তীব্র হলে জনগণ অনিরাপদ উৎসসহ বিকল্প পানির ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, যা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
২০২৩ সালের প্রাদুর্ভাবটিও বর্ষা মৌসুমের পূর্ববর্তী শুষ্ক সময়ে ঘটেছিল। গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা চট্টগ্রামে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাবের দুটি প্রধান মৌসুম চিহ্নিত করেছেন: এপ্রিল থেকে জুন এবং আগস্ট থেকে অক্টোবর।

**ওয়াসার পানি পরীক্ষা না হওয়া**
নগরীর ৭০ জন রোগীর মধ্যে ৩৮ জন বা ৫৪ শতাংশ খাবার পানির প্রধান উৎস হিসেবে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া, ২২ জন গভীর নলকূপ, ৬ জন সাধারণ নলকূপ এবং ৪ জন বোতলজাত পানি ব্যবহার করতেন। ৭০ জনের মধ্যে ৩৭ জন বা ৫৩ শতাংশ রোগী পানির সংকটের অভিযোগ করেছেন, এবং ৩৩ জন বা ৪৭ শতাংশ পানি বিশুদ্ধকরণ ছাড়াই ব্যবহার করতেন। তবে, এই তথ্য থেকে ওয়াসার পানি থেকেই রোগ ছড়িয়েছে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না, কারণ গবেষকরা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির কোনো নমুনা পরীক্ষা করেননি।
গবেষণায় অনিয়মিত পানি সরবরাহকে একটি সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরবরাহ বন্ধ থাকার সময় পাইপের ভেতরের পানির চাপ কমে যায়, এবং পাইপে ছিদ্র বা ফাটল থাকলে বাইরের দূষিত পানি ভেতরে প্রবেশ করার ঝুঁকি তৈরি হয়।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, নগরীর ৫৩ শতাংশ রোগী পানির সংকটের অভিযোগ করায় অনিয়মিত সরবরাহকে একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে, এর সাথে রোগের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক পরীক্ষা করে প্রমাণিত হয়নি।

**কোনো একক কারণ চিহ্নিত হয়নি**
২০২৩ সালের প্রাদুর্ভাবের জন্য গবেষকরা কোনো একটি নির্দিষ্ট পানির উৎস বা একক কারণ চিহ্নিত করতে পারেননি। অনিরাপদ পানির উৎস, ব্যাপক পানি সংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং পানি বিশুদ্ধকরণে অনীহার মতো একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ কারণ একই সময়ে বিদ্যমান ছিল।
গবেষকরা জানিয়েছেন যে, এটি ছিল জরুরি প্রাদুর্ভাব তদন্তভিত্তিক একটি বর্ণনামূলক গবেষণা। তারা মূলত কোথায় ও কখন রোগী বেড়েছে, রোগীদের পানির উৎস কী ছিল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ ও পানির পরিস্থিতি কেমন ছিল—এই বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করেছেন। কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ই রোগের কারণ ছিল কিনা, তা আলাদাভাবে নিরূপণ করা হয়নি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে গবেষকরা নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানির উৎস ও পাইপলাইনের পানির গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের সুপারিশ করেছেন। একইসাথে, বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই ডায়রিয়া-কলেরা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

**'সতর্কতা অত্যাবশ্যক'**
গবেষণার ফলাফল প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সেখ ফজলে রাব্বি Desi Media Point-কে বলেন, "ডায়রিয়া ও কলেরার মতো পানিবাহিত রোগ দমনে সবার আগে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শুধু পান করার জন্য নয়, রান্না ও খাবার তৈরির জন্যও নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।"
সেখ ফজলে রাব্বি আরও যোগ করেন, "গ্রামাঞ্চলে নলকূপ স্থাপনের সময় শৌচাগার এবং পয়োবর্জ্যের উৎস থেকে পর্যাপ্ত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। শৌচাগারের বর্জ্য কোনো অবস্থাতেই পুকুর বা অন্যান্য পানির উৎসে পতিত হতে দেওয়া যাবে না। এছাড়াও, বাসাবাড়ির পানির ট্যাংকগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আবশ্যক।"
তিনি বলেন, "কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় হঠাৎ করে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে শুধুমাত্র চিকিৎসা প্রদানই যথেষ্ট নয়। দ্রুততার সাথে ওই এলাকার খাবার পানির উৎস, পানির ট্যাংক এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি। এর মাধ্যমে দূষণের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।"