Tue 8th Sep 2026, 4:51 pm

নোট মুদ্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় এক বছরে দ্বিগুণ: ৪৫৮ কোটি টাকা ছাড়ালো খরচ

নোট মুদ্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় এক বছরে দ্বিগুণ: ৪৫৮ কোটি টাকা ছাড়ালো খরচ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ব্যাংকনোট মুদ্রণ খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যয় এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নোট ছাপাতে মোট ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকার তুলনায় ৯৫.৪৬ শতাংশ বেশি। এই হিসাবে, এক বছরের মধ্যে নোট তৈরির খরচ বেড়েছে ২২৪ কোটি ১৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত মুদ্রা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের (এসপিসিবিএল) মাধ্যমে পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী নোট বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নতুন নোট প্রচলন করা হয়।

ব্যয়বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, টাকা তৈরির জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিশেষ নিরাপত্তা কাগজ ও কালির আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী অত্যন্ত সীমিত। এই সীমাবদ্ধতার কারণে উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে দরকষাকষির সুযোগ কম। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক বাজারে কাগজ ও কালির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাই মূলত অস্বাভাবিক খরচ বৃদ্ধির কারণ। তবে এই সময়ে নতুন নোট ছাপানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়নি।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিযুক্ত নোটের পরিবর্তে নতুন নকশার নোট চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে এই পরিবর্তনের কারণে ব্যয় খুব বেশি বাড়েনি। মুখপাত্রের মতে, নকশা পরিবর্তনের জন্য নামমাত্র ব্যয় হয় এবং মুদ্রণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও, ব্যয়ের প্রধান উল্লম্ফন কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণেই ঘটেছে।

গত পাঁচ অর্থবছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই নোট মুদ্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৮৪ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৭৪ কোটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩৭ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মানে বড় কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় মুদ্রণ ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে মুদ্রা বিনিময় হারের প্রভাব ছিল অত্যন্ত নগণ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে প্রতি ডলারের গড় আন্তব্যাংক বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা, যা ২০২৬ সালের জুনে দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায়। অর্থাৎ এক বছরে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে মাত্র ৮ পয়সা বা শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এ থেকে স্পষ্ট যে, বৈদেশিক মুদ্রার হারের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়াই খরচ দ্বিগুণ হওয়ার প্রধান কারণ।