অব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান এবং অরক্ষিত সীমানা প্রাচীরের সুযোগ নিয়ে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে একাধিকবার বন্য প্রাণী পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে, পার্ক থেকে ভবিষ্যৎ পাচার রুখতে বন বিভাগ বন্য প্রাণীর দেহে মাইক্রোচিপ স্থাপন এবং পাচারকৃত প্রাণীদের শনাক্তকরণের জন্য তাদের ডিএনএ প্রোফাইলিং করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বন্য প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিং বলতে একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর জেনেটিক স্বাক্ষর (জিনগত পরিচয়) সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করাকে বোঝায়, যা পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী সেই প্রাণীটিকে অথবা তার রক্ত-সম্পর্কিত অন্য কোনো প্রাণীকে বৈজ্ঞানিকভাবে চিহ্নিত করতে সহায়তা করে, অনেকটা মানবদেহের ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার অনুরূপ।
একটি মাইক্রোচিপ হলো চালের দানার ন্যায় ক্ষুদ্রাকৃতির একটি ইলেকট্রনিক চিপ, যা একটি অনন্য সনাক্তকরণ নম্বর বহন করে। বিশেষ শনাক্তকরণ যন্ত্রের মাধ্যমে এই চিপ স্ক্যান করে প্রাণীটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, যদি কোনো বন্য প্রাণী হারিয়ে যায় বা পাচারের পর উদ্ধার করা হয়, তবে সেগুলোর উৎস অর্থাৎ সাফারি পার্কের প্রাণী কিনা, তা নিয়ে প্রায়শই সংশয় দেখা দেয়। মাইক্রোচিপ স্থাপনের ফলে এই অনিশ্চয়তা দূর হবে এবং পাচার প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি সাফারি পার্ক বিদ্যমান। এর মধ্যে একটি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এবং অন্যটি গাজীপুর সাফারি পার্ক, যা দেশের বৃহত্তম। ২০১০ সালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত ৩,৬৯০ একর বনভূমি নিয়ে এই পার্কের প্রতিষ্ঠা কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১৩ সালে ৭৩ প্রজাতির ১,৫০০ বন্য প্রাণী নিয়ে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে পার্কটিতে ৮৪ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন।
বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী Desi Media Point-কে জানান, "আমরা সংবেদনশীল এবং দুর্লভ বন্য প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং মাইক্রোচিপ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট তাদের ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে এই কাজটি সম্পন্ন করবে।"
বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান Desi Media Point-কে অবহিত করেন, "দেশের উভয় সাফারি পার্কের বন্য প্রাণীর দেহে মাইক্রোচিপ স্থাপন এবং ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য একটি প্রস্তাবনা আমরা পেয়েছি।" তিনি আরও যোগ করেন, নির্দিষ্ট কোন কোন প্রাণীর জন্য মাইক্রোচিপ ও ডিএনএ প্রোফাইলিং প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্ট করার পরই কাজ শুরু হবে। বর্তমানে বন বিভাগের হাতে কিছু মাইক্রোচিপ মজুদ আছে; অবশিষ্টগুলো সংগ্রহ করে কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়াও, ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক (রিএজেন্ট)-এর স্বল্পতা রয়েছে, যা এক মাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব হবে।
বিগত বছরগুলোতে গাজীপুর সাফারি পার্কে একাধিক চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর সাফারি কিংডম এলাকা থেকে দুটি গ্রিন উইং ম্যাকাও চুরি হয়, যার মধ্যে একটি উদ্ধার এবং একজনকে আটক করা গেলেও চুরির মূল রহস্য উন্মোচিত হয়নি। এরপর ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি একটি নীলগাই পার্ক থেকে হারিয়ে যায়, যা আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। একই বছর মার্চ মাসে মাদাগাস্কারের অত্যন্ত দুর্লভ রিং-টেইলড লেমুর চুরি হয়; তিনটি লেমুর পার্ক থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনার তদন্ত শেষে সিআইডি নিশ্চিত করে যে প্রাণীগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান চুরির ঘটনা থামাতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বন্য প্রাণীর নিরাপত্তার স্বার্থে মাইক্রোচিপ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে বন অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে চিঠি প্রেরণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তার এই প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করে বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষককে চিঠি দেন। উক্ত চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, মাইক্রোচিপের উপস্থিতি পাচার বা চুরি হয়ে যাওয়া বন্য প্রাণী শনাক্তকরণে অত্যন্ত সহায়ক হবে। পরবর্তীতে, এই উদ্যোগের এক বছর পর বন অধিদপ্তর মাইক্রোচিপ স্থাপনের পাশাপাশি ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান Desi Media Point-কে অবহিত করেন যে, গাজীপুর সাফারি পার্কের আয়তন সাড়ে তিন হাজার একরের অধিক হওয়ায় এত বিশাল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তিনি বন্য প্রাণীর সুরক্ষা এবং তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য মাইক্রোচিপ ও ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিশিষ্ট বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান, যিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সাফারি পার্কে দীর্ঘকাল ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন, Desi Media Point-কে জানান যে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সাফারি পার্কে প্রচলিত আছে। তবে, তিনি গাজীপুর সাফারি পার্কে অন্যান্য অব্যবস্থাপনার দিকগুলোও তুলে ধরেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি উল্লেখ করেন যে খাঁচাগুলো অস্বাস্থ্যকর এবং বন্য প্রাণীগুলো আবদ্ধ পরিবেশে অস্বস্তি অনুভব করে। পার্কটিতে এই বিষয়গুলো বোঝার মতো উপযুক্ত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীর অভাব রয়েছে এবং ৫০ দশকের পুরনো পদ্ধতিতে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে, যার একটি আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।
বন্য প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিং বলতে একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর জেনেটিক স্বাক্ষর (জিনগত পরিচয়) সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করাকে বোঝায়, যা পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী সেই প্রাণীটিকে অথবা তার রক্ত-সম্পর্কিত অন্য কোনো প্রাণীকে বৈজ্ঞানিকভাবে চিহ্নিত করতে সহায়তা করে, অনেকটা মানবদেহের ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার অনুরূপ।
একটি মাইক্রোচিপ হলো চালের দানার ন্যায় ক্ষুদ্রাকৃতির একটি ইলেকট্রনিক চিপ, যা একটি অনন্য সনাক্তকরণ নম্বর বহন করে। বিশেষ শনাক্তকরণ যন্ত্রের মাধ্যমে এই চিপ স্ক্যান করে প্রাণীটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, যদি কোনো বন্য প্রাণী হারিয়ে যায় বা পাচারের পর উদ্ধার করা হয়, তবে সেগুলোর উৎস অর্থাৎ সাফারি পার্কের প্রাণী কিনা, তা নিয়ে প্রায়শই সংশয় দেখা দেয়। মাইক্রোচিপ স্থাপনের ফলে এই অনিশ্চয়তা দূর হবে এবং পাচার প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি সাফারি পার্ক বিদ্যমান। এর মধ্যে একটি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এবং অন্যটি গাজীপুর সাফারি পার্ক, যা দেশের বৃহত্তম। ২০১০ সালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত ৩,৬৯০ একর বনভূমি নিয়ে এই পার্কের প্রতিষ্ঠা কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১৩ সালে ৭৩ প্রজাতির ১,৫০০ বন্য প্রাণী নিয়ে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে পার্কটিতে ৮৪ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন।
বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী Desi Media Point-কে জানান, "আমরা সংবেদনশীল এবং দুর্লভ বন্য প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং মাইক্রোচিপ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট তাদের ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে এই কাজটি সম্পন্ন করবে।"
বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান Desi Media Point-কে অবহিত করেন, "দেশের উভয় সাফারি পার্কের বন্য প্রাণীর দেহে মাইক্রোচিপ স্থাপন এবং ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য একটি প্রস্তাবনা আমরা পেয়েছি।" তিনি আরও যোগ করেন, নির্দিষ্ট কোন কোন প্রাণীর জন্য মাইক্রোচিপ ও ডিএনএ প্রোফাইলিং প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্ট করার পরই কাজ শুরু হবে। বর্তমানে বন বিভাগের হাতে কিছু মাইক্রোচিপ মজুদ আছে; অবশিষ্টগুলো সংগ্রহ করে কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়াও, ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক (রিএজেন্ট)-এর স্বল্পতা রয়েছে, যা এক মাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব হবে।
বিগত বছরগুলোতে গাজীপুর সাফারি পার্কে একাধিক চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর সাফারি কিংডম এলাকা থেকে দুটি গ্রিন উইং ম্যাকাও চুরি হয়, যার মধ্যে একটি উদ্ধার এবং একজনকে আটক করা গেলেও চুরির মূল রহস্য উন্মোচিত হয়নি। এরপর ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি একটি নীলগাই পার্ক থেকে হারিয়ে যায়, যা আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। একই বছর মার্চ মাসে মাদাগাস্কারের অত্যন্ত দুর্লভ রিং-টেইলড লেমুর চুরি হয়; তিনটি লেমুর পার্ক থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনার তদন্ত শেষে সিআইডি নিশ্চিত করে যে প্রাণীগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান চুরির ঘটনা থামাতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বন্য প্রাণীর নিরাপত্তার স্বার্থে মাইক্রোচিপ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে বন অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে চিঠি প্রেরণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তার এই প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করে বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষককে চিঠি দেন। উক্ত চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, মাইক্রোচিপের উপস্থিতি পাচার বা চুরি হয়ে যাওয়া বন্য প্রাণী শনাক্তকরণে অত্যন্ত সহায়ক হবে। পরবর্তীতে, এই উদ্যোগের এক বছর পর বন অধিদপ্তর মাইক্রোচিপ স্থাপনের পাশাপাশি ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান Desi Media Point-কে অবহিত করেন যে, গাজীপুর সাফারি পার্কের আয়তন সাড়ে তিন হাজার একরের অধিক হওয়ায় এত বিশাল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তিনি বন্য প্রাণীর সুরক্ষা এবং তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য মাইক্রোচিপ ও ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিশিষ্ট বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান, যিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সাফারি পার্কে দীর্ঘকাল ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন, Desi Media Point-কে জানান যে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সাফারি পার্কে প্রচলিত আছে। তবে, তিনি গাজীপুর সাফারি পার্কে অন্যান্য অব্যবস্থাপনার দিকগুলোও তুলে ধরেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি উল্লেখ করেন যে খাঁচাগুলো অস্বাস্থ্যকর এবং বন্য প্রাণীগুলো আবদ্ধ পরিবেশে অস্বস্তি অনুভব করে। পার্কটিতে এই বিষয়গুলো বোঝার মতো উপযুক্ত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীর অভাব রয়েছে এবং ৫০ দশকের পুরনো পদ্ধতিতে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে, যার একটি আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।