Sun 25th Oct 2026, 2:30 pm
|

অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির পাহাড়, ব্যবহার সীমিত: জাবির ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা কেন্দ্রে বিপুল সক্ষমতার অপচয়?

অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির পাহাড়, ব্যবহার সীমিত: জাবির ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা কেন্দ্রে বিপুল সক্ষমতার অপচয়?
উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণার অভিপ্রায়ে ২০০৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র। প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ২৬টি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থের অভাবে তার পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এত বিশাল একটি গবেষণা অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও সেখানে হাতে-কলমে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এই গবেষণা কেন্দ্রে বিদ্যমান আধুনিক যন্ত্রপাতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিঙ্গেল ক্রিস্টাল ও পাউডার এক্স-রে ডিফ্রমেশন (এক্সআরডি), নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স (এনএমআর), হাই পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি (এইচপিসিএল), গ্যাস ক্রোমাটাগ্রাফি (জিসি), আরটি-পিসিআর, প্রোটিন পিউরিফিকেশন সিস্টেম, সাইটোফ্লোমেট্রি, এলিমেন্টাল অ্যানালাইজার, মাইক্রোস্কোপ এবং আলট্রাসেন্ট্রিফিউজ। এই উন্নত সরঞ্জামগুলির সাহায্যে রাসায়নিক ও জীববৈজ্ঞানিক নমুনার বিশ্লেষণ, স্ফটিকের গঠন নির্ণয়, ওষুধ ও বিভিন্ন উপাদানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিবিধ বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব। জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই উচ্চ সক্ষমতার যন্ত্রগুলো থেকে নিয়মিত পরিষেবা গ্রহণ করে থাকেন। তবে বিপুল এই গবেষণা পরিকাঠামোর তুলনায় কেন্দ্রটির কারিগরি জনবল অপ্রতুল। ১৯টি কারিগরি পদের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন আছে মাত্র চারটি পদের। এর মধ্যে একজন শিক্ষা ছুটিতে থাকায় বর্তমানে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র তিনজন। কেবল জনবল সংকটই নয়, আর্থিক অনটনও কেন্দ্রটির কার্যক্রমের এক বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গবেষণাগার পরিচালনা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ের জন্য বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ এর বিপরীতে বর্তমানে বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা। বাজেট সংকটের কারণে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেছেন, 'প্রতি বছর এখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। যন্ত্রাংশ, কেমিক্যালস এবং ওয়ান-টাইম ব্যবহারের জন্য ছোট ছোট যন্ত্রাংশের জন্য এই অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু এই খাতে আমাদের বাজেট খুবই অপ্রতুল।' তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াতে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ও গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি-মাস স্পেকট্রোমেট্রি (জিসি-এমএস) সংযোজনের জন্য কর্তৃপক্ষ ইউজিসির কাছে আবেদন করেছে। এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সরাসরি সম্পৃক্ত করতে পাঁচটি প্রশিক্ষণ মডিউল প্রস্তুত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামছুল আলম মন্তব্য করেছেন, 'শিক্ষার্থীরা যাতে সেখানে আরও বেশি করে গবেষণা করতে পারে এবং স্থানটি তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকে, সেই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কাজে সংযুক্ত করা এবং সহকারী হিসেবে নিয়োগের সম্ভাব্যতাও আমরা যাচাই করছি।'