Fri 10th Jul 2026, 12:07 am

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল

image
দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিল খারিজ করে দিয়েছেন, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ একাধিক বিষয় পরিবর্তন করেছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল বিষয়ক হাইকোর্টের রায় বহাল রইল, যা আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।

তিন দিনব্যাপী দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক আপিল দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চারজন এবং অন্যটি নওগাঁর বাসিন্দা মো: মোফাজ্জল হোসেন করেছিলেন। এছাড়াও, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্তৃক আরও একটি আপিল দায়ের করা হয়েছিল।

আদালতে সুজন সম্পাদকসহ চার আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া শুনানি করেন, যেখানে তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী কারিশমা জাহান। রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্ব করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, এবং অপর আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়েছিল, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন এনেছিল। এই সংশোধনীতে সংবিধানের ৫৪টি ধারায় পরিবর্তন সাধিত হয়, যার অন্যতম ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অবসান।

চব্বিশের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর, পঞ্চদশ সংশোধনীর সম্পূর্ণ আইন এবং এর কয়েকটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুজন সম্পাদকসহ পাঁচ ব্যক্তি ও নওগাঁর মো: মোফাজ্জল হোসেন হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করেন। এসব রিটের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তার রায় ঘোষণা করেন।

ওই রায়ে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলুপ্তি বিষয়ক ছিল, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করা হয়। এছাড়াও, এই দুটি ধারাসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদগুলোকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

হাইকোর্টের রায়ে দ্বাদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে যুক্ত গণভোটের বিধান-সংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। একই সাথে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটিকে সম্পূর্ণ বাতিল না করে, রায়ে উল্লেখ করা হয় যে এর অন্যান্য বিধানগুলো সম্পর্কে পরবর্তী সংসদ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।