তাহসান খান: "টিস্যু কোম্পানির চেয়ে আমি চাঁদের কাছ থেকে বেশি স্পনসর পাই!"

তাহসান খান: "টিস্যু কোম্পানির চেয়ে আমি চাঁদের কাছ থেকে বেশি স্পনসর পাই!"
আপনার 'আলো আলো' গানটি প্রকাশের পর থেকেই নাকি দেশের লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে? বিদ্যুৎ না পেয়ে মানুষ যখন আপনার গান শোনে, এর পেছনে কি বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো ভূমিকা আছে?

তাহসান খান হাসিমুখে উত্তর দেন, ‘গানটি ২০০৬ সালে লিখেছিলাম। এর আগেও লোডশেডিং ছিল, এখনো আছে।

আমার গানের সঙ্গে লোডশেডিংয়ের সম্পর্কটা আসলে স্রেফ একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব!’ আপনার কালজয়ী গান ‘ঈর্ষা’। আয়নায় নিজের চিরসবুজ চকলেটবয় ইমেজ দেখে কি আপনার নিজেরই কখনো নিজের প্রতি ঈর্ষা হয়?

তিনি বলেন, ‘নিজেকে নিয়ে ঈর্ষা করার মতো মানসিক ব্যাধি দেখা দিলে আমার একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া জরুরি হতো। তবে এখনো তেমন কোনো উপসর্গ টের পাইনি!’ দেশের বহু তরুণ-তরুণী নাকি বিচ্ছেদের পর আপনার গান শুনে বালিশ ভেজায়।

টিস্যু কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে আপনি কি কোনো স্পনসরশিপ পান? তাহসান মুচকি হেসে বলেন, ‘এটা তো একটি করপোরেট গোপন তথ্য, যা আপনি ফাঁস করে দিলেন!

তবে সত্যি বলতে, টিস্যু কোম্পানির চেয়ে আমি চাঁদের কাছ থেকেই বেশি স্পনসরশিপ পাই।’ নাটকে আপনাকে বরাবরই দেখা যায় সেই পরিচিত চকলেটবয় কিংবা নিখুঁত ভদ্রলোকের চরিত্রে—যিনি পিয়ানো বাজিয়ে মন খারাপ করেন। কখনো কি লুঙ্গি পরে, মাথায় গামছা বেঁধে, কড়া খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করতে ইচ্ছে করে না?

তিনি জানান, ‘ইচ্ছা তো অবশ্যই করে! তবে পরিচালকেরা প্রায়ই বলেন, তাহসান ভাই, আপনি লুঙ্গি পরলেও সেটাকে কেমন যেন ফরমাল প্যান্টের মতো লাগে।

এমনকি আপনি রাগ করলেও মনে হয় যেন রোমান্টিক সংলাপ বলছেন।’ তাই পিয়ানো আর ইস্তিরি করা শার্টই আমার নিত্যসঙ্গী। গান ও অভিনয়ের পাশাপাশি আপনি চমৎকার উপস্থাপনাও করেন।

আচ্ছা, বাসায় তরকারিতে নুন বেশি হয়ে গেলে, তখনও কি মাইক্রোফোন হাতে গম্ভীর গলায় বলেন—‘প্রিয় দর্শক, চলুন দেখে আসি রান্নাঘরের পেছনের গল্প। তবে ছোট্ট একটি বিরতির পর...’?

তাহসান উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, আপনি যেমন বাড়িতে সবাইকে প্রশ্ন করে বিরক্ত করেন, আমিও তেমনি সবাইকে কিছুক্ষণ পরপর জোর করে বিরতিতে পাঠিয়ে দিই!’ আপনার তো বয়সই বাড়ে না! জাস্টিন বিবার কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার বিটিএস ব্যান্ডের চেয়েও আপনার ফ্যানবেজে নারী ভক্তের সংখ্যা বেশি।

এই চিরসবুজ থাকার রহস্য কী? কোনো জাদুর ওষুধ নাকি শুধুই এডিটিং সফটওয়্যারের কামাল?

তাহসান খান হেসে বলেন, ‘এটা ডাহা মিথ্যা কথা। গান ও অভিনয় থেকে কয়েক বছর ধরে বিরতি নিয়েছি।

এরই মধ্যে আমার ভক্তসংখ্যা কমে মাত্র ১৫০-এ এসে ঠেকেছে। এখন তো সাদা চুল-দাড়ি নিয়ে রিকশায় ঘুরি।

অটোগ্রাফ বা ছবি তো দূরের কথা, কেউ আমাকে চিনতেই পারে না! তবে এই সময়টা বেশ উপভোগ করছি।’ আপনি গান গাইলেন, অভিনয় করলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেন, বইও লিখলেন— বাকি রইলো শুধু মহাকাশে যাওয়া।

নাসা যদি আপনাকে মঙ্গলে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়, সেখানে গিয়ে কি কোনো নতুন অ্যালবামের জন্য গান লিখবেন? প্রশ্ন শুনে তাহসান অবাক হয়ে বলেন, ‘ভারত আর পাকিস্তানে এখনো একটিও কনসার্ট করা হলো না, আর আপনি কিনা মঙ্গলগ্রহের কথা বলছেন!

এসব কেমন প্রশ্ন করেন? আগে হিন্দি ও উর্দু ভাষায় কিছু জনপ্রিয় গান বানাই, তারপর মঙ্গল গ্রহের কথা ভাবা যাবে।’ পাঠকদের উদ্দেশে এমন একটি কথা বলুন, যা শুনে তারা কাঁদবে না, বরং হাসবে।

তাহসান খান দুষ্টুমি ভরা কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বিষাদের গানগুলো নিয়ে খুব মজা নিচ্ছেন, তাই না? শোনেন, কাঁদতে পারাটা আসলে এক ধরনের আশীর্বাদ।

যেদিন আপনার অনুভূতিগুলো সব ভোঁতা হয়ে যাবে, সেদিন বুঝবেন কাঁদতে পারা কতটা স্বস্তির। হাসতে চাইলে বরং কোনো স্ট্যান্ডআপ কমেডি শোতে যান।

অথবা রসকদম্ব মিষ্টিও খেয়ে দেখতে পারেন!’