Thu 23rd Jul 2026, 2:32 am

নাটোরে উন্নয়নের অভাবে গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার কার্যক্রমে তরুণেরা

নাটোরে উন্নয়নের অভাবে গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার কার্যক্রমে তরুণেরা
নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নের লালমনিপুর গ্রামের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। বহু বছর ধরে কোনো উন্নয়ন না হওয়ায়, গ্রামের প্রায় অর্ধশত তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম আজ বুধবার পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।

গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাস্তাটির মাঝখানে নারদ নদের ওপর একটি বাঁশের সেতু বিদ্যমান। বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে রাস্তাটি কাদাময় হয়ে সম্পূর্ণ চলাচচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় গ্রামের অধিবাসীদের হেঁটে জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, প্রতিবার নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা রাস্তাটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতি কোনোদিনই বাস্তবায়ন হয় না। এই অচলাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, গত রোববার সন্ধ্যায় গ্রামের প্রায় অর্ধশত তরুণ একত্রিত হয়ে ইট, বালু ও সুরকি ব্যবহার করে রাস্তাটিকে চলাচলের উপযোগী করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধ্যমতো চাঁদা সংগ্রহ করেন। পরদিন সকালে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পাশের ইটভাটা থেকে প্রয়োজনীয় ইট, বালু ও সুরকি কেনা হয়। এরপর প্রতিটি বাড়ি থেকে ডালি ও কোদাল সংগ্রহ করে সবাই মিলে রাস্তা সংস্কারের কাজে নেমে পড়েন।

সারাদিন ধরে চলে ইট-বালু বিছানোর কাজ। সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে ইট বিছানো সম্পন্ন হলে তরুণেরা আবারও তহবিল সংগ্রহ করেন। গতকাল মঙ্গলবারও এই কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। তাঁদের প্রত্যাশা, আজ সন্ধ্যার মধ্যেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে।

গতকাল সকালে লালমনিপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একদল তরুণ কোদাল দিয়ে রাস্তার কাদা সরাচ্ছেন, অন্য একটি দল বালু ফেলছে এবং বাকিরা ইট ও সুরকি বিছিয়ে দিচ্ছেন। কাজের ফাঁকেই পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। কর্মোদ্যম বজায় রাখতে কেউ কেউ গানও গাইছেন।

এই উদ্যোগী তরুণদের একজন জাহিদ মেহেদী বলেন, “মিথ্যা আশ্বাস ছাড়া আমরা আর কিছুই পাইনি। তাই অন্যের দিকে তাকিয়ে না থেকে আমরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে ইট, বালু ও সুরকি কিনেছি। প্রতিটি বাড়ি থেকে তরুণেরা স্বেচ্ছাশ্রম দিতে এসেছেন। এর ফলে রাস্তাটি আপাতত চলাচলের উপযোগী হচ্ছে।” তিনি নারদ নদের ওপর বিদ্যমান বাঁশের সেতুর পরিবর্তে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ কামনা করেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকেও ওই গ্রামের রাস্তা ও সেতু নির্মাণের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।