Tue 22nd Sep 2026, 12:50 pm

ঢাকায় এক দিন ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে কেমন হতো

ঢাকায় এক দিন ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে কেমন হতো
ধরা যাক, কর্মব্যস্ত এক মঙ্গলবার সকালের ঢাকা। কিন্তু রাস্তায় কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। কানে তালা লাগানো মুহুর্মুহু হর্নের শব্দ নেই বললেই চলে। ঢাকার বাতাসও যেন তুলনামূলক নির্মল।

ঢাকার যে সড়ক প্রতিদিন ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকে ঠাসা, যানজটে যেখানে থমকে যায় সময়, আজ সেখানে মানুষ হাঁটছে, কেউ সাইকেল চালাচ্ছে। অফিসমুখী মানুষ ছুটছে গণপরিবহনে।

এমন একটি শহর কি কেবল কল্পনা? আজ ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার), বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। দিবসটি এমন একটি শহরেরই ছবি তুলে ধরে।

তবে দিবসটির মূল কথা এক দিনের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি নিষিদ্ধ করা নয়; বরং ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমানো; বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও যানজট কমিয়ে আনা; নাগরিকদের হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা; টেকসই নগর পরিবহনের গুরুত্ব তুলে ধরা; শহরের সড়কসহ জনপরিসরকে মানুষের জন্য আরও উন্মুক্ত করার কথা বলে দিবসটি।

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসের এই ক্ষণে আমাদের চোখে ঢাকার সড়কের এক বিশৃঙ্খল চিত্র ভাসে। এই বিশৃঙ্খলার মূলে রয়েছে গাড়ি। কারণ, ঢাকা হয়ে উঠেছে গাড়িভর্তি এক গিজগিজে শহর।

ঢাকায় প্রতিবছর লাফিয়ে বাড়ছে গাড়ি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নিবন্ধিত বিভিন্ন ধরনের গাড়ির সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫০১। এর মধ্যে বাস, মিনিবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি (সেডান কার), এসইউভি (জিপ নামে পরিচিত), মাইক্রোবাস, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৮৫।

২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ঢাকায় নিবন্ধিত বিভিন্ন ধরনের গাড়ির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার ৪১৮। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৪। ব্যক্তিগত গাড়ি ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯১৫। মাইক্রোবাস ১ লাখ ৮ হাজার ১৯৭। এসইউভি ৯৪ হাজার ৮৯৯। বাস ৪৪ হাজার ৭৪৬। মিনিবাস ১০ হাজার ৩৬২। অটোরিকশা ২০ হাজার ৯৯৬।

২০১০ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ঢাকায় মোটরসাইকেল বেড়েছে ৫২৯ শতাংশ। ৪৩২ শতাংশ বেড়েছে এসইউভি। ব্যক্তিগত গাড়ি বেড়েছে ১২৫ শতাংশ। ১৪৬ শতাংশ বেড়েছে মাইক্রোবাস। বাস বেড়েছে ১৯৮ শতাংশ, মিনিবাস ২৫ শতাংশ। ঢাকার ভেতরে যাত্রী পরিবহন মূলত মিনিবাসই করে।

এ ছাড়া ঢাকার সড়কের জন্য এখন ‘বিষফোড়া’ হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। যাত্রী অধিকার সংগঠন, পুলিশসহ অন্যান্য অংশীজনের হিসাবে, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অবৈধ রিকশার সংখ্যা ১৫ লাখের মতো।

ঢাকার গণপরিবহন পরিস্থিতি সম্পর্কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান Desi Media Pointকে বলেন, এই নগরের রাস্তার প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়ির দখলে। অথচ এই ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচল করে মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে ঢাকায় যাত্রীবাহী বাস ৫৩ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করে। কিন্তু রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ পায় মাত্র ১৫ শতাংশ।

গত ১৮ আগস্ট ‘ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা: চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত সমাধানের পথরেখা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) জানায়, যানজটের কারণে রাজধানীতে প্রতিবছর প্রায় ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার বার্ষিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। ২০৩৫ সাল নাগাদ রাজধানীতে যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় মাত্র চার কিলোমিটারে নেমে আসতে পারে, যা মানুষের স্বাভাবিক হাঁটার গতির চেয়েও কম।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ (এনবিইআর) প্রকাশিত এক গবেষণায় বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর হিসেবে ঢাকার নাম উঠে আসে। বিশ্বের ১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০টির বেশি শহরে যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণে ঢাকার এমন হাল পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঢাকার রাস্তায় বাস কম, বেড়েছে ছোট যান

২৭ এপ্রিল ২০২৬ওয়ার্ল্ড কার–ফ্রি নেটওয়ার্ক বলছে, মোটরচালিত ব্যক্তিগত যানবাহন ছাড়া আমাদের শহরগুলো দেখতে কেমন হতে পারে, সেখানে থাকতে কেমন লাগতে পারে, আর চারপাশের শব্দই-বা কেমন হতে পারে, তা দেখাতে পারে এই দিবস। শুধু এক দিনের জন্য নয়, এমন শহর যে বছরের ৩৬৫ দিনই হতে পারে, তার একটা নমুনা দিবসটি দেখাতে পারে।

গাড়িমুক্ত আন্দোলনের বৈশ্বিক এই নেটওয়ার্কের ভাষ্য, জলবায়ু উষ্ণ হয়ে ওঠার এই সময়ে দিবসটি হতে পারে পৃথিবীর উত্তাপ কমানোর পাশাপাশি নগর–পরিকল্পনাবিদ ও রাজনীতিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি উপযুক্ত সুযোগ, যাতে তাঁরা ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে সাইকেল, হাঁটা ও গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেন।

জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির ভাষ্যমতে, দিবসটিতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের এক দিনের জন্য গাড়ি না চালানোর আহ্বান জানানো হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া চলাচলের নানা সুফল তুলে ধরাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। এর মধ্যে রয়েছে বায়ুদূষণ কমানো, নিরাপদ পরিবেশে হাঁটা ও সাইকেল চালানোর সুযোগ বাড়ানো।

ইউএনইপির মতে, গাড়িমুক্ত দিবস শহরগুলোর জন্য একটি বড় সুযোগ। প্রতিদিন যানজটে ভরা সড়কগুলোকে কীভাবে অন্য উপায়ে ব্যবহার করা যায়, তা দেখানোর সুযোগ এনে দেয় এই দিবস। একই সঙ্গে দূষণকারী যানবাহনের বিকল্পও সামনে আসে। আর এর মধ্য দিয়ে দূষণ আমাদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশ্ব গাড়িমুক্ত দিবস কোনো একক আন্তর্জাতিক সংস্থার ঘোষিত বা প্রতিষ্ঠিত দিবস নয়; বরং বিভিন্ন দেশে নাগরিক, পরিবেশ ও টেকসই পরিবহন আন্দোলনের ধারাবাহিক উদ্যোগ থেকে তা ধীরে ধীরে একটি আন্তর্জাতিক দিবসে রূপ নিয়েছে।

দিবসটির আনুষ্ঠানিক বিকাশে মূলত দুটি ধারার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লক্ষ করা যায়। একটি ইউরোপীয় কমিশনের ‘কার–ফ্রি ডে’ উদ্যোগ, অন্যটি কার বাস্টার্সের (পরে ওয়ার্ল্ড কার–ফ্রি নেটওয়ার্ক) বৈশ্বিক আহ্বান।

দিবসটি বিকাশের একটি ক্রমধারা জার্মানি থেকে প্রকাশিত সাসটেইনেবল ট্রান্সপোর্ট সোর্সবুকে পাওয়া যায়। এতে উল্লেখ করা হয়, গাড়িমুক্ত নগর উন্নয়নের আধুনিক ধারণার সূত্রপাত ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের বিভিন্ন গবেষণা থেকে। এসব গবেষণায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরগাড়ি ব্যবহারের সামাজিক ও পরিবেশগত উচ্চ মাশুল তুলে ধরা হয়েছিল।

আধুনিক গাড়িমুক্ত আন্দোলন গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় অনুঘটক হিসেবে গত শতকের সত্তরের দশকের তেলসংকটের কথা বলা যায়। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরব তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর তেল সরবরাহ সীমিত করার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে তেলসংকট দেখা দেয়। এতে বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দাম নিয়ে বড় সংকট তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারের ওপরও। সে সময় বিভিন্ন দেশে গাড়ি চলাচল সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তেলসংকটের কারণে সুইজারল্যান্ডে কয়েকটি গাড়িমুক্ত রোববার পালিত হয়। আধুনিক গাড়িমুক্ত আন্দোলনের শুরুর দিকের উদ্যোগ হিসেবে এ ধরনের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা যায়।

তবে তখনকার উদ্যোগগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানিসংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি সাশ্রয়। পরবর্তী সময়ে গাড়িমুক্ত আন্দোলনের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে বায়ু ও শব্দদূষণ কমানো, যানজট হ্রাস, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানুষকেন্দ্রিক নগর–পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন২০৩৫ সাল নাগাদ রাজধানীতে যানবাহনের গতি হাঁটার গতির নিচে নামবে

১৮ আগস্ট ২০২৬গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে গাড়িনির্ভর নগরজীবন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক ‘অটো-ফ্রি সিটিজ’ সম্মেলন। সম্মেলনটি আয়োজন করেছিল ট্রান্সপোর্টেশন অলটারনেটিভস।

এর পরের বছর, ১৯৯২ সালের মার্চে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত বাধ্যতামূলক নয়—এমন একটি গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোটার শহরটিকে গাড়িমুক্ত করার পক্ষে মত দেন।

১৯৯৪ সালের অক্টোবরে স্পেনের তোলেদো শহরে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাকসেসিবল সিটিজ’ কংগ্রেসে নিয়মিত গাড়িমুক্ত দিবস আয়োজনের একটি প্রস্তাব ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

১৯৯৬ সালের মে মাসে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ইউরোপের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের এক আন্তর্জাতিক বৈঠক থেকে ‘কোপেনহেগেন ঘোষণা’ জারি করা হয়। এতে ‘কার-ফ্রি সিটিজ’ নেটওয়ার্ক গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

একই বছরের জুনে আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে প্রথম গাড়িমুক্ত দিবস পালন করা হয়। ওই মাসেই যুক্তরাজ্যের বাথ শহরে প্রথম গাড়িমুক্ত দিবস পালিত হয়।

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের কয়েকটি শহরে গাড়িমুক্ত দিবস আয়োজন করে এনভায়রনমেন্টাল ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন। একই বছর ফ্রান্সের লা রোশেল শহরেও প্রথম গাড়িমুক্ত দিবস পালিত হয়।

আরও পড়ুনঢাকার যানজটের বড় কারণ প্রাইভেট কার: বিআইপি

২৫ এপ্রিল ২০২৬বিশ্ব গাড়িমুক্ত দিবসের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে ১৯৯৮ সালে—ফ্রান্সে। সেই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর দেশটিতে প্রথম জাতীয় পর্যায়ে গাড়িমুক্ত দিবস পালিত হয়। ‘শহরে, আমার গাড়ি ছাড়া?’ নামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় ফ্রান্সের ৩৪টি শহর।

ফরাসি এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা নিয়ে মানুষকে ভাবতে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি বায়ু ও শব্দদূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, হাঁটা ও সাইকেল ব্যবহার উৎসাহিত করা, গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ানো এবং শহরের রাস্তা গাড়ি ছাড়া কেমন হতে পারে, তার অভিজ্ঞতা দেওয়াও ছিল এর লক্ষ্য।

১৯৯৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ফ্রান্স ও ইতালির বহু শহর সমন্বিতভাবে গাড়িমুক্ত দিবস পালন করে। ফ্রান্সের ৬৬টি এবং ইতালির ৯২টির বেশি শহর এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এ উদ্যোগ পরবর্তীকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইন টাউন উইদাউট মাই কার’ কর্মসূচির ভিত্তি তৈরি করে।

ইউরোপীয় কমিশন ২০০০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ইউরোপজুড়ে ‘ইউরোপিয়ান কার–ফ্রি ডে’ আয়োজন করে। একই বছর কার বাস্টার্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ও সংগঠনকে ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গাড়িমুক্ত দিবস পালনের জন্য উন্মুক্ত আহ্বান জানায়। ওয়ার্ল্ড কার–ফ্রি নেটওয়ার্কের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপের গাড়িমুক্ত দিবসের সঙ্গে মিল রেখেই ২২ সেপ্টেম্বরকে বিশ্বব্যাপী পালনের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

এরপর ২২ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাড়িমুক্ত দিবস পালনের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ২০০১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বের ৩৩টি দেশের এক হাজারের বেশি শহর আন্তর্জাতিক গাড়িমুক্ত দিবস পালনে অংশ নেয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো শহরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।

আরও পড়ুনঢাকার রাস্তায় কোন রুটে কোন কোম্পানির বাস চলবে তা নিয়ে কাজ চলছে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

১৮ জুন ২০২৬বাংলাদেশে ২০০৬ সাল থেকে বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস পালন শুরু হয়। সরকারি উদ্যোগে দিবসটি পালন শুরু হয় ২০১৬ সালে। সে বছর প্রথমবারের মতো ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সমন্বয়ে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ঢাকা শহরের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

গত বছর ‘সমাজ, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার সীমিত করি’—এ স্লোগানে ৬২টি সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে দেশে দিবসটি পালিত হয়। তবে এ বছর দিবসটি পালনে ডিটিসিএর কোনো কর্মসূচি নেই বলে সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা Desi Media Pointকে নিশ্চিত করেছেন।

দেশে এই দিবস পালনের সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত আছে বেসরকারি সংগঠন ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট। সংগঠনটি এবার ‘কম গাড়ি, বাসযোগ্য নগরী’ প্রতিপাদ্যে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে। সংগঠনটির পরিচালক গাউস পিয়ারী Desi Media Pointকে বলেন, ‘বিশেষ করে ঢাকার সড়ক পরিবহন পরিস্থিতি ভয়ংকর। এ পরিস্থিতি বদলের লক্ষ্যে সচেতনতা তৈরিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বছরের একটি দিন (বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস) যদি আমরা ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করি, তাহলে সেদিনই এর একটি বড় ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হবে। ঢাকায় যানজট কম থাকবে। শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ কম হবে। পরিবেশ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক দিনের এই পরিবর্তনের গুরুত্ব অনেক। এমন দিন যত বাড়বে, ঢাকা তত বসবাসযোগ্য হবে।’

আরও পড়ুনঢাকায় যানজটের মূল সমস্যাটা কোথায়?

২৮ এপ্রিল ২০২৬গাউস পিয়ারীর মতে, ঢাকাকে বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত হলো এই নগরে একটি টেকসই গণপরিবহনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান Desi Media Pointকে বলেন, ‘ঢাকায় গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যানজট কমানোর একমাত্র টেকসই ও সহজ সমাধান হলো রুট ফ্রাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক-উন্নত মানের বাস সার্ভিস চালু করা।’

ঢাকার সড়কের বর্তমান সংকটের সমাধানে গণপরিবহনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন নগর–পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান ও রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ঢাকায় মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ ছোট পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মেট্রোরেলের পাশাপাশি গণপরিবহনের ক্ষেত্রে রুটভিত্তিক (রুট র‍্যাশনালাইজেশন) বাস সার্ভিস চালু করতে হবে। লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি বা গণপরিবহনের স্টেশন থেকে যাত্রীর গন্তব্য পর্যন্ত শেষ অংশের যাতায়াতব্যবস্থা হিসেবে প্যারাট্রানজিট কার্যকর করতে হবে, যা সড়কে রিকশা, মোটরসাইকেলের মতো ছোট বাহনের সংখ্যা কমাতে ভূমিকা রাখবে; পাশাপাশি হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত ফুটপাতের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঢাকা শুধু নামেই মহানগর, দ্রুত বড় হচ্ছে, বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে

১০ জানুয়ারি ২০২৬আরও পড়ুনঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩