Sat 11th Jul 2026, 12:19 am

পাঁচ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ঊর্ধ্বে, সাগর উপকূলে সতর্কসংকেত বহাল: বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি

পাঁচ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ঊর্ধ্বে, সাগর উপকূলে সতর্কসংকেত বহাল: বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি
দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বন্যা পরিস্থিতির চলমান গুরুতর অবস্থা নির্দেশ করে। তবে, গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে; যেখানে বৃহস্পতিবার ছয়টি নদীর পানি বিপদসীমার ঊর্ধ্বে ছিল, শুক্রবার তা কমে পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে। তবে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) জানিয়েছে যে আগামী দিনগুলিতে বন্যা পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি মূলত বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ও বন্টনের ওপর নির্ভরশীল হবে। এই তথ্য শুক্রবার সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রের প্রকাশিত বুলেটিনে নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে, দেশের চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজার উপকূলে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান Desi Media Point-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতির তুলনামূলক উন্নতি হয়েছে। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিশেষত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উজানের বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারিত হবে। কেন্দ্রের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে মোট ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে পাঁচটি নদীতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপরে অবস্থান করছে। মাতামুহুরী নদীর ক্ষেত্রে লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও, কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু পয়েন্টে মনু নদের পানি ৩৫ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। সবশেষে, হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদের পানি ৬০ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর স্টেশন; কুশিয়ারা নদীর শেরপুর; সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ; সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা; এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশনে পানির স্তর সতর্কসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ৪৩টিতে হ্রাস পাচ্ছে এবং অবশিষ্ট পাঁচটি স্টেশনে অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, উজান এবং দেশের ভেতরের বৃষ্টিপাতের ধারা আগামী দিনগুলিতে নদীর পানির গতিপ্রকৃতি এবং সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।