Sun 26th Jul 2026, 3:12 am

রাষ্ট্রপতিদের অবসরের পর: আইন অনুযায়ী প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা

রাষ্ট্রপতিদের অবসরের পর: আইন অনুযায়ী প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা
আজ শুক্রবার দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসেন। পদত্যাগ সত্ত্বেও, আইনগত বিধান অনুযায়ী তিনি অবসরভাতা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধা উপভোগ করবেন।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির জন্য প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত বিবরণ ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’-এ সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত আছে।

উল্লিখিত আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে ন্যূনতম ছয় মাস দায়িত্ব পালন করে পদত্যাগ করেন অথবা মেয়াদ পূর্ণ করেন, তবে তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির শেষ মাসিক বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে অবসর ভাতা প্রাপ্ত হবেন। ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত)’ অনুসারে, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই হিসাবানুযায়ী, মো. সাহাবুদ্দিন অবসরের পর প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসর ভাতা পাবেন।

বিধি অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার পূর্বে অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ভাতা গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে তিনি পূর্বের অবসর ভাতা অথবা রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। যদি কোনো রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা গ্রহণকালে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁর বিধবা স্ত্রী অথবা ক্ষেত্রবিশেষে বিপত্নীক স্বামী তাঁর প্রাপ্য অবসর ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আজীবন মাসিক ভাতা পাবেন।

অবসর ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য কোনো প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি চাইলে অবসর ভাতার পরিবর্তে এককালীন আনুতোষিক গ্রহণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে, যোগ্যতার তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে তাঁকে আনুতোষিক গ্রহণের অভিপ্রায় লিখিতভাবে জানাতে হবে। আনুতোষিকের পরিমাণ নির্ধারিত হবে, এক বছরের প্রদেয় অবসর ভাতা রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকার বছর সংখ্যা দ্বারা গুণ করে। রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনের আংশিক বছরকেও সম্পূর্ণ বছর হিসেবে ধরা হবে।

যদি কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে ছয় মাসের অধিক সময় অধিষ্ঠিত থাকার পর আনুতোষিক গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ না করে অথবা অবসর ভাতা না নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন, তবে ধরে নেওয়া হবে যে তিনি আনুতোষিক প্রাপ্তির ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। এক্ষেত্রে, আইন অনুযায়ী আনুতোষিকের অর্থ মনোনীত ব্যক্তি অথবা উত্তরাধিকারীদের প্রদান করা হবে।

অবসরের পর মো. সাহাবুদ্দিন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আরও বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করবেন। আইন অনুযায়ী, তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন সেবাকর্মী (অ্যাটেনডেন্ট) পাবেন। এছাড়াও, তিনি দাপ্তরিক ব্যয় পাবেন, যার বার্ষিক পরিমাণ সরকার কর্তৃক পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত হবে। চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে, একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি একজন মন্ত্রীর সমপরিমাণ চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

এছাড়া, সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য তিনি বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। তাঁর বাসভবনে একটি টেলিফোন সংযোগ থাকবে, যার বিল সরকার নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত পরিশোধ করবে। একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি একটি কূটনৈতিক পাসপোর্টও প্রাপ্ত হবেন। দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের সময় তিনি সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুবিধা উপভোগ করবেন।

আইন অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রীও চিকিৎসা সুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনামূল্যে অবস্থানের সুবিধা পাবেন।

তবে, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনের পর যদি তিনি এমন কোনো দপ্তর, আসন, পদ বা মর্যাদায় নিযুক্ত হন যেখান থেকে নির্ধারিত তহবিল (সংযুক্ত তহবিল) থেকে বেতন বা অন্য কোনো সুবিধা গ্রহণ করেন, তবে তিনি রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

অবসর ভাতা প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জনের পর যদি কোনো প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আদালতের মাধ্যমে নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধে দণ্ডিত হন, তবে তিনি উল্লিখিত সুবিধাগুলি থেকে বঞ্চিত হবেন। এছাড়াও, যদি উচ্চ আদালত ঘোষণা করেন যে কোনো ব্যক্তি অসাংবিধানিক বা অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েছিলেন, তবে তিনিও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রাপ্য কোনো সুবিধা পাবেন না।