Sun 26th Jul 2026, 3:11 am

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকেই মনোনীত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকেই মনোনীত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে কে হচ্ছেন দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি, সেই প্রশ্নে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরু থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এলেও, বিগত দুই দিনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় নতুন কিছু নাম যুক্ত হয়েছে। তবে, দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা বর্তমানে অনেকটাই সংক্ষিপ্ত হয়ে এসেছে।

সরকার ও বিএনপির নীতি নির্ধারণী মহলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একটি সূত্র গতকাল Desi Media Point-কে নিশ্চিত করেছে যে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি দলের বাইরে থেকে নয়, বরং বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকেই মনোনীত হতে পারেন। যদিও দলীয় পর্যায়ে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শুরু হয়নি, সূত্রটি জানিয়েছে যে সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রস্তুতি বিএনপির শীর্ষ মহলে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলছে।

১৭ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় আসে। এদের মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্যতম। এছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নামও বেশ আলোচিত হয়েছে। সম্প্রতি এই তালিকায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও যুক্ত হয়েছে। তবে বিএনপি দলীয় এবং দলের বাইরের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে যে, শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য বেশ কিছু বিবেচনার কারণে বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির আলোচনা থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। গত দুই দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম বিশেষভাবে জোরালো হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি পদে নতুন নতুন মুখের আলোচনার মধ্যেও, দলের অভ্যন্তরে একটি অংশ বিভিন্ন কারণে মির্জা ফখরুল ইসলামকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

একই সাথে, রাজনৈতিক পরিধির বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলামের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে অত্যন্ত যোগ্য মনে করছেন। এদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিজেদের এই মত প্রকাশ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলামকে 'সেরা প্রার্থী' হিসেবে অভিহিত করেছেন। গতকাল 'বাংলাদেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন?' শিরোনামে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন: "আমার মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই পদের জন্য একজন অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে হাল ধরেছিলেন, বহু নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং অসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি একজন মধ্যপন্থী, সদাচারী এবং সুবক্তা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।" অধ্যাপক আসিফ নজরুলের মতে, "বিএনপিতে উপযুক্ত আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। তবে আমার ব্যক্তিগত মতে, সার্বিক দিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুলই সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন। যদি রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হয়, তবে তিনিই সম্ভবত সেরা প্রার্থী।" এর আগে ব্র্যাক, বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ একটি ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন কেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে অন্যদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য প্রার্থী।

গতকাল মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর, সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। যেহেতু সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলের মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিগত কয়েক দিনে বিএনপির নেতা-কর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য এখনও কিছুটা সময় বাকি আছে। রাজনীতির বাস্তবতায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হতে পারে। অতএব, আজ যাঁরা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন, সময়ের সাথে সাথে তাঁদের অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। এই সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।