রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বাসাবাড়ি এবং শিল্পকারখানায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের ফলস্বরূপ রাজধানীর একাধিক সিএনজি স্টেশন তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। একই সাথে, বাসাবাড়িতে দিনের দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় নগরবাসীরা রান্নাবান্না ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, গ্যাসের চাপ না থাকায় বহু স্টেশন তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। যেসব স্থানে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ চালু রয়েছে, সেখানেও চালকদের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
এই গ্যাস সংকটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব এবং ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা মারাত্মকভাবে বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও অনেকে গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে তাদের দৈনন্দিন আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ধানমন্ডির একজন সিএনজিচালক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "আগে দিনে একবার গ্যাস ভরে সারাদিন গাড়ি চালানো যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস মেলে না। এতে আমাদের আয় বহুলাংশে কমে গেছে।"
এক ট্যাক্সিক্যাব চালক মিজান জানান, গ্যাসের অভাবে তাকে নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। যাত্রী ফিরিয়ে দিতে হওয়ায় চালক ও যাত্রী উভয়ই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
চানখাঁরপুল এলাকার সিএনজিচালক সবুজ আক্ষেপ করে বলেন, "কয়েকটি পাম্প ঘুরেও গ্যাস পাইনি। শেষ পর্যন্ত এখানে এসে দেখি স্টেশন বন্ধ। বাইরে ‘লাইনে গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। গাড়ি না চালালে আমাদের সংসার চালানো কঠিন।"
অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বহু এলাকায় বাসাবাড়িতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, ইনডাকশন চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের উপর নির্ভরশীল হচ্ছে, যা তাদের বাড়তি ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করছে।
মিরপুরের বাসিন্দা তাসলিমা বলেন, "সকালে চুলা জ্বলে না, দুপুরেও একই অবস্থা। রাতে সামান্য গ্যাস এলে তখন রান্না করতে হয়। একটি তরকারি রান্না করতেও অনেক সময় লাগছে।"
গ্যাসের স্বল্পচাপের প্রভাব শিল্পকারখানাতেও পড়েছে। অনেক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। কোথাও সীমিত পরিসরে উৎপাদন চললেও তাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহককে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপের মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশের চলমান গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। তবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হবে না। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, গ্যাসের চাপ না থাকায় বহু স্টেশন তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। যেসব স্থানে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ চালু রয়েছে, সেখানেও চালকদের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
এই গ্যাস সংকটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব এবং ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা মারাত্মকভাবে বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও অনেকে গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে তাদের দৈনন্দিন আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ধানমন্ডির একজন সিএনজিচালক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "আগে দিনে একবার গ্যাস ভরে সারাদিন গাড়ি চালানো যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস মেলে না। এতে আমাদের আয় বহুলাংশে কমে গেছে।"
এক ট্যাক্সিক্যাব চালক মিজান জানান, গ্যাসের অভাবে তাকে নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। যাত্রী ফিরিয়ে দিতে হওয়ায় চালক ও যাত্রী উভয়ই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
চানখাঁরপুল এলাকার সিএনজিচালক সবুজ আক্ষেপ করে বলেন, "কয়েকটি পাম্প ঘুরেও গ্যাস পাইনি। শেষ পর্যন্ত এখানে এসে দেখি স্টেশন বন্ধ। বাইরে ‘লাইনে গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। গাড়ি না চালালে আমাদের সংসার চালানো কঠিন।"
অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বহু এলাকায় বাসাবাড়িতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, ইনডাকশন চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের উপর নির্ভরশীল হচ্ছে, যা তাদের বাড়তি ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করছে।
মিরপুরের বাসিন্দা তাসলিমা বলেন, "সকালে চুলা জ্বলে না, দুপুরেও একই অবস্থা। রাতে সামান্য গ্যাস এলে তখন রান্না করতে হয়। একটি তরকারি রান্না করতেও অনেক সময় লাগছে।"
গ্যাসের স্বল্পচাপের প্রভাব শিল্পকারখানাতেও পড়েছে। অনেক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। কোথাও সীমিত পরিসরে উৎপাদন চললেও তাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহককে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপের মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশের চলমান গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। তবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হবে না। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
