Mon 3rd Aug 2026, 4:21 am

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম, বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাব্য সময়সীমা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম, বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাব্য সময়সীমা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বর্তমানে শেষ লগ্নে। আগামী মাস থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। এই সরবরাহের পূর্বে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ১২ মে প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্ব শেষ হলে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপকে ব্যবহার করে বাষ্প উৎপাদন করা হবে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে।

রূপপুর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন যে, পাঁচ মাসের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রথম ধাপে ২,০৪৬টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৯০টি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও ১৮টি জটিল পরীক্ষা বাকি রয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ধাপ যাচাই করে অনুমোদন প্রদান করছে। পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়েও বিভিন্ন পরীক্ষা চলতে থাকবে, যা ৭-৮ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সমস্ত পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর আগামী বছর একটি ইউনিট থেকে পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বিদ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা সমাপ্ত হলে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বিক্রিয়া শুরু করা হবে, যা থেকে উৎপন্ন তাপ বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘোরানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এর ফলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ৩৩তম স্থানে উন্নীত হবে। এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান গত শনিবার Desi Media Point-কে জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত সংবেদনশীল, জটিল ও নিরাপত্তা-নির্ভর। প্রতিটি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর এর ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। প্রয়োজনে সংশোধনী এনে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া হয়। তাই, উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা পূর্বেই নির্ধারণ করা কঠিন। সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যা তারা পর্যালোচনা করছে। তাদের অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ একক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর পরিচালনা দায়িত্বে রয়েছে। পাবনার রূপপুরে ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়েও বিভিন্ন পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে। এই পরীক্ষামূলক উৎপাদন ৭-৮ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। সমস্ত পরীক্ষা সমাপ্ত হলে আগামী বছর একটি ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রমতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। প্রতি দেড় বছর অন্তর নতুন জ্বালানি সংযোজন করতে হবে। জ্বালানি বর্জ্য অপসারণ, নতুন জ্বালানি প্রতিস্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণের সম্মিলিত প্রক্রিয়ায় একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে।

ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানিতে ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থ বিদ্যমান থাকে। বিশেষ নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করে এই জ্বালানি বর্জ্য রাশিয়ায় স্থানান্তরিত হবে। সেখানে এটি প্রক্রিয়াজাত করে ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থ মাটির ৪০০ মিটার গভীরে সংরক্ষণ করা হবে। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি বর্জ্য অপসারণের জন্য ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট মস্কোতে রাশিয়ার সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার আওতায় উভয় দেশ বর্জ্য গ্রহণে সম্মত হয়েছে।

তবে, এই বর্জ্য অপসারণের বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, জ্বালানি বর্জ্য অপসারণের পরপরই এটি পাঠানো সম্ভব নয়; বরং এটিকে নিরাপদে রেখে শীতল করতে হয়। প্রয়োজন হলে, রূপপুরেই এটি ১০ বছর পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ করা যাবে। তাই, বর্জ্য অপসারণের পূর্বে জাহাজ ভাড়া এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ হিসাব করে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। তাঁরা মনে করেন, তাড়াহুড়ো করে চুক্তি করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং রাশিয়া এতে অধিক লাভবান হতে পারে, যে কারণে সময় নেওয়া হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়ার টিভিএল কোম্পানি। প্রাথমিক নির্মাণ চুক্তির আওতায় প্রথম তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে প্রথম ধাপের জ্বালানি দেশে পৌঁছেছে। এই মেয়াদ শেষ হলে চুক্তি অনুযায়ী টিভিএল নিয়মিতভাবে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সূত্র জানিয়েছে যে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো operational মেয়াদের জন্য টিভিএল-এর জ্বালানি সরবরাহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে, বাংলাদেশ যেকোনো সময় এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার অধিকার রাখে। চুক্তিতে জ্বালানির নির্দিষ্ট কোনো মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি, বরং একটি সূত্র (formula) প্রদান করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক জার্নালগুলোতে প্রকাশিত পারমাণবিক জ্বালানির নিয়মিত দামের ভিত্তিতে এই সূত্র অনুসারে জ্বালানির মূল্য নির্ধারিত হবে। ২০০৭ সালে পারমাণবিক জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল; ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে চুক্তিতে দামের একটি উচ্চসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যাতে মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি না পায়।

ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে প্রকল্প ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট ব্যয়কে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার ও রাশিয়ান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রোসাটমের প্রকৌশল সংস্থা অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সাধারণ চুক্তি (General Contract) স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। গত বছরের ২০ জুন একটি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সময়সীমা দুই বছর বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে, গত জানুয়ারিতে আরও ছয় মাস বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বৃদ্ধি পেলেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রকল্প ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে বর্তমানে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের জটিলতা, যন্ত্রপাতি আমদানিতে সমস্যা, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আগমনে বাধা এবং বৈদেশিক মুদ্রার (ডলার) সংকটের কারণে বিল পরিশোধে বিলম্ব—এই সব কারণ সম্মিলিতভাবে কাজের অগ্রগতিতে বিলম্ব ঘটিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মতপ্রকাশ করেছেন যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেত। তবে, প্রকল্পের কাজ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে যাওয়ায় এই অর্থনৈতিক সুবিধা প্রাপ্তিতেও বিলম্ব ঘটছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাথে একটি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই মূল্য চূড়ান্ত করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন যে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ব্যয় বেশি হলেও এর জ্বালানি খরচ তুলনামূলকভাবে কম হবে। তাঁদের মতে, দেশের অন্যান্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুতের দাম বেশি হবে না।

পাওয়ার গ্রিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গ্রিড সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রমতে, ২০১৬ সালে পাওয়ার গ্রিড পিএলসি একটি রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় একটি সমন্বিত গ্রিড ব্যবস্থাপনা সমীক্ষা পরিচালনা করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিরাপদে গ্রিডে সংযুক্ত করার জন্য। সেই সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতেই সকল কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান Desi Media Point-কে বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গ্রিড সম্পূর্ণরূপে সক্ষম ও প্রস্তুত। তবে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পাওয়ার গ্রিড সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, 'স্পিনিং রিজার্ভ' নিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। স্পিনিং রিজার্ভ হলো এমন একটি অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা যা তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে প্রস্তুত থাকে এবং রূপপুর থেকে উৎপাদন বন্ধ হলে দ্রুত গ্রিডের ঘাটতি পূরণ করে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে সহায়তা করে। গ্যাসের সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এই স্পিনিং রিজার্ভ নিশ্চিত করতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম Desi Media Point-কে জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথমে অত্যন্ত কম হারে উৎপাদন শুরু হবে, তাই স্পিনিং রিজার্ভ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বড় সমস্যা হবে না।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় রূপপুর কর্তৃপক্ষ একটি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা ভাবছে, যেখানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যুক্ত থাকতে পারেন। পূর্বে জ্বালানি প্রবেশ করানোর সময় তাঁদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মতপ্রকাশ করেছেন যে, তখনো যদি সরকারপ্রধানরা যুক্ত থাকতেন, তাহলে দায়বদ্ধতা আরও বৃদ্ধি পেত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম Desi Media Point-কে বলেন, সরকারের পক্ষে উৎপাদনের নির্দিষ্ট সময়সীমা পূর্বেই ঘোষণা করা সম্ভব নয়। বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিরন্তর নজরদারি অত্যাবশ্যক। কর্তৃপক্ষ যখন সক্ষমতার বিষয়ে নিশ্চিত করবে, তখনই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে। কোনো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হলে প্রকল্পটি আবারও বিলম্বিত হতে পারে। এখন সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও জটিল সময়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিটি ত্রুটি-বিচ্যুতি নিবিড়ভাবে যাচাই করা অপরিহার্য। যা দেরি হওয়ার ছিল তা হয়ে গেছে; এখন তাড়াহুড়ো করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।