Wed 5th Aug 2026, 3:09 am

পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের এসপি মাসুদকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ: 'দোযখ আর জাহান্নামের মধ্যে পার্থক্য কী, মাসুদ স্যার?'

পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের এসপি মাসুদকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ: 'দোযখ আর জাহান্নামের মধ্যে পার্থক্য কী, মাসুদ স্যার?'
সম্প্রতি পুলিশের অভিযান থেকে ছাদ লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলম এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এসপিকে উদ্দেশ্য করে রায়হান একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন: "দোযখ আর জাহান্নামের মধ্যে পার্থক্য কী, মাসুদ স্যার?"
গত রোববার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই পোস্টটি প্রকাশিত হলেও, বিষয়টি সোমবার (৩ জুলাই) জনসাধারণের নজরে আসে।
এর আগে নোয়াখালীতে একটি অভিযানে পুলিশ রায়হানকে প্রায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান। এই ঘটনার পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম মন্তব্য করেছিলেন যে, "রায়হান হয়তো জাহান্নাম দেখেনি, কিন্তু সে দোযখ দেখে ফেলেছে।"
ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ সুপারের এই পূর্ববর্তী মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়ই রায়হান ফেসবুকে উল্লিখিত পোস্টটি দিয়েছেন।
একই পোস্টে রায়হান নোয়াখালীর স্থানীয় কিছু বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি লিখেছেন: "ধন্যবাদ নোয়াখালী রংমালার মানুষদের। তারা এমন নিখুঁতভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।"
এই শীর্ষ সন্ত্রাসী আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিপদের সময়ে সব ধরনের মানুষই সাহায্যের প্রত্যাশা করে, যা তিনি নোয়াখালী থেকে পেয়েছেন। তিনি ভালো পথে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছেন, "বিপদ আসবেই, তাই বলে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই।"
এদিকে, সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম নিজেই সন্ত্রাসী রায়হানের এই ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি জনসমক্ষে আনেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বলেন, "আমরা তাকে ধরতে ওই এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চিরুনি অভিযান চালিয়েছিলাম। হয়তো কেউ তাকে পালিয়ে যেতে বা আত্মগোপনে সাহায্য করেছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া আমরা তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারব না।"
রায়হানের পোস্টে নোয়াখালীবাসীকে ধন্যবাদ জানানোর প্রসঙ্গে এসপি আরও বলেন, "পুরো নোয়াখালীবাসী তাকে সাহায্য করেনি। সম্ভবত গুটি কয়েক ব্যক্তি জেনে বা না জেনে তাকে আশ্রয় দিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"