Thu 6th Aug 2026, 3:18 am

৪ দিনের ছুটির ভাইরাল দাবি: সরকারি বিধিমালায় বড় বিভ্রান্তি উন্মোচন

৪ দিনের ছুটির ভাইরাল দাবি: সরকারি বিধিমালায় বড় বিভ্রান্তি উন্মোচন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে যে, আগামী ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) মাত্র একদিনের ছুটি গ্রহণ করলে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পাবেন। তবে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই প্রচারণার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বিভ্রান্তি রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন। কারণ, সরকারি ছুটি বিধির শর্ত অনুযায়ী, দুটি ছুটির মধ্যবর্তী কর্মদিবসে ‘অর্জিত ছুটি’ গ্রহণ করলে তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী সংযুক্ত ছুটির যেকোনো একটি পর্বও অর্জিত ছুটি হিসেবে গণনা করা হয়। ফলে বিষয়টি যতটা সরলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তবতা ততটা সহজ নয়।

সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট (বুধবার) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে। এর পরদিন ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) একদিনের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি গ্রহণ করলেই ৭ ও ৮ আগস্টের (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ মিলবে। একই ধরনের আলোচনা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ২৬ আগস্টের ছুটিকে ঘিরেও চলছে। এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) একদিনের ছুটি নিলে ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চার দিন ছুটি পাওয়া যাবে।

তবে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করে বলছেন যে, মাঝখানের কর্মদিবসে অর্জিত ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর) বা সরকারি ছুটি বিধিমালায় সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বা সাপ্তাহিক ছুটির মাঝখানে কোনো কর্মচারী অর্জিত ছুটি গ্রহণ করলে, তার আগে বা পরের সংযুক্ত ছুটির যেকোনো একটি অংশও ওই কর্মচারীর ‘অর্জিত ছুটি’র হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হবে।

উদাহরণস্বরূপ কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেন, ৫ আগস্ট (বুধবার) সাধারণ ছুটি, ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) একটি কর্মদিবস এবং ৭ ও ৮ আগস্ট (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। যদি কোনো কর্মচারী ৬ আগস্ট অর্জিত ছুটি নেন, তবে বিধি অনুযায়ী ৬ আগস্টের ছুটির পাশাপাশি ৫ আগস্টের এক দিন অথবা ৭ ও ৮ আগস্টের দুই দিনের যেকোনো একটি অংশ তাঁর পাওনা অর্জিত ছুটি থেকে কেটে নেওয়া হবে। বাইরে থেকে এটিকে টানা চার দিনের ছুটি মনে হলেও, বাস্তবে কর্মচারীর ছুটির হিসাব থেকে একাধিক দিনের ছুটি কাটা পড়ে। তাই এটিকে ‘অতিরিক্ত বা বিশেষ চার দিনের ছুটি’ হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয় বলে তাঁদের অভিমত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তফা জামান বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছুটি নিয়ে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, বিষয়টি আসলে তেমন নয়। দুটি ছুটির মাঝখানে অর্জিত ছুটি নিলে তার আগে বা পরের সংযুক্ত ছুটিও ওই কর্মচারীর পাওনা অর্জিত ছুটির হিসাবেই গণনা করা হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, “অনেকেই মনে করেন একদিন ছুটি নিলেই টানা চার দিন ‘ফ্রি’ ছুটি পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে এর সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটে। একদিনের ছুটি নিতে গিয়ে আগে বা পরের সংযুক্ত ছুটিও হিসাব থেকে কাটা যায়, ফলে কর্মচারীদের জন্য এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।”

তিনি আরও বলেন, এভাবে মাঝখানে ছুটি নেওয়ার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। সবাইকে একসঙ্গে ছুটি দিলে দাপ্তরিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এসব হিসাব-নিকাশের কারণেই বাস্তবে খুব কমসংখ্যক কর্মচারী এই পদ্ধতিতে ছুটি নিয়ে থাকেন।