Tue 25th Aug 2026, 4:23 am

বাংলা কিউআরে লেনদেনের নজিরবিহীন উল্লম্ফন: দৈনিক ১১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেল

বাংলা কিউআরে লেনদেনের নজিরবিহীন উল্লম্ফন: দৈনিক ১১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেল
‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ার অভিলক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ‘বাংলা কিউআর’ (কুইক রেসপন্স) সেবাটি দেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় গত জুলাই মাস থেকে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব কিউআর কোডের পরিবর্তে একক ‘বাংলা কিউআর’ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা কার্যকর হওয়ায়, ক্রেতা ও সেবাদাতা উভয় পক্ষই বাংলা কিউআর ব্যবহার করে দ্রুত আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে উৎসাহিত হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ‘বাংলা কিউআর’ এর মাধ্যমে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বর্তমানে ১১০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। একই সাথে, মার্চেন্ট বা বিক্রেতাদের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আজ এই যুগান্তকারী তথ্য প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের ১লা জুলাই থেকে সমস্ত নিজস্ব বা প্রোপ্রাইটরি কিউআর কোডের স্থলে একক ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করা হয়। এই বাধ্যবাধকতার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে এর ব্যবহার দ্রুত প্রসার লাভ করেছে। জুলাইয়ের শুরু থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ এবং লেনদেনের আর্থিক মূল্য প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এর কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

বিশেষত, জুলাই মাসে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার, যা গত সপ্তাহের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বেড়ে ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক মূল্যের দিক থেকে, জুলাইয়ের শুরুতে দৈনিক লেনদেন ৩৭ কোটি টাকা থাকলেও, তা বর্তমানে অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১১০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও উল্লেখ করেছে যে, ‘এক দেশ এক কিউআর’ নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মার্চেন্টদের একাধিক কিউআর কোড সংরক্ষণের জটিলতা হ্রাস পেয়েছে। একইসাথে, সাধারণ গ্রাহকরাও যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করে অতি সহজে কেনাকাটার বিল পরিশোধ করতে পারছেন। এই যুগান্তকারী উদ্যোগে বেসরকারি ব্যাংকগুলির পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারি ব্যাংকগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা দেশের ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।