Tue 25th Aug 2026, 11:36 am

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের বহু প্রতীক্ষিত রায় আজ

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের বহু প্রতীক্ষিত রায় আজ
মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বহুল আলোচিত হাইকোর্টের রায় আজ ঘোষণা করা হবে।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) এই মামলার শুনানি সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে আসামিপক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

গত বছরের ৫ মার্চ রমজানের ছুটি চলাকালীন শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হন। এই জঘন্য অপরাধের মূল অভিযুক্ত ছিলেন তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ, যিনি শুধু ধর্ষণই করেননি, শিশুটিকে হত্যারও চেষ্টা চালান।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এই আট বছর বয়সী শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শোকাহত ভিকটিমের মা হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

২০২০ সালের ১৩ এপ্রিল এই আলোচিত মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রমের সূচনা হয় এবং ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

গত বছরের ৭ মে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং মাত্র ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। এক বছর পূর্বে ১৩ মে, মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত হওয়ার পর একই বছরের ১৭ মে নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণা করা হয়।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়।

আদালতের রায়ে অন্য তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিম্ন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ উচ্চ আদালতের অনুমোদনের জন্য মামলার সকল নথি প্রেরণ করা বাধ্যতামূলক। এই বিধান অনুসারে, গত বছরের ২১ মে এই মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সকল প্রকার যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে প্রেরণ করা হয়।

পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে প্রেরণ করা হয়। এরপর এটি শুনানির জন্য একটি বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়।