Sat 29th Aug 2026, 10:14 am

অবৈধ ঋণদাতা ৩১ অ্যাপ ব্যবহার পরিহারের নির্দেশ: বিএফআইইউ'র কঠোর সতর্কবার্তা

অবৈধ ঋণদাতা ৩১ অ্যাপ ব্যবহার পরিহারের নির্দেশ: বিএফআইইউ'র কঠোর সতর্কবার্তা
ডিজিটাল মাধ্যমে সহজ শর্তে দ্রুত ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি একই সঙ্গে এই ধরনের অননুমোদিত ডিজিটাল উৎস থেকে যেকোনো ধরনের ঋণ গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিএফআইইউ এই সতর্কবার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে।

বিএফআইইউ কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ প্রদানের মিথ্যা প্রলোভন দেখাচ্ছে। এসব অনুমোদনহীন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তালিকা, ছবি এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, হুমকি-ধমকি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করার ভয় দেখানো এবং নির্ধারিতের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগও তাদের নজরে এসেছে। ফলস্বরূপ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বিএফআইইউ আরও দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট অথবা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে আইনত অনুমোদিত নয়।

এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ এবং মানি লন্ডারিংয়ের গুরুতর ঝুঁকি বহন করে। বিএফআইইউ বিশেষভাবে সতর্ক করেছে যে, ঋণের প্রলোভনে পড়ে অপরিচিত কোনো অ্যাপ্লিকেশন বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইলের যোগাযোগ তালিকা অথবা অন্য কোনো সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এছাড়াও, ঋণ প্রদানের পূর্বে অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি অথবা প্রসেসিং ফি দাবি করা হলে তাতে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে।

বিএফআইইউ কর্তৃক চিহ্নিত ৩১টি অবৈধ ও অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট এবং টাকানাও।

সংস্থাটি আরও অবহিত করেছে যে, যদি কেউ এই ধরনের অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতারিত হন অথবা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য জ্ঞাত থাকে, তবে তা দ্রুত বিএফআইইউকে অবহিত করে অভিযোগ দায়ের করা যাবে।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ একটি শাস্তিযোগ্য গুরুতর অপরাধ। এমতাবস্থায়, আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি সকলের প্রতি এ ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছে।