বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিতে ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের নোটের আধিপত্য সুস্পষ্ট। ব্যাংক ও জনসাধারণের হাতে প্রচলিত মোট কাগজের মুদ্রার প্রায় অর্ধেক, সুনির্দিষ্টভাবে ৪৯ শতাংশই এই উচ্চমূল্যের দুটি নোট দ্বারা গঠিত। বিপরীতে, ২০০ টাকা মূল্যমানের নোটের প্রচলন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রদত্ত তথ্যানুসারে, গত জুন মাসের শেষ নাগাদ ৯৬৬ কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার ৪১৮টি বিভিন্ন মূল্যমানের কাগজের নোট দেশের অর্থনীতিতে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদানে সক্রিয় ছিল, যার মোট বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। এই বিশাল পরিমাণের প্রায় অর্ধেকই জুড়ে ছিল ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের নোট।
সংখ্যার বিচারে, ৫০০ টাকার নোট বাজারে সর্বাধিক প্রচলিত ব্যাংক নোট। বর্তমানে প্রায় ২৭০ কোটি ৫০০ টাকার নোট বাজারে সচল রয়েছে, যার সম্মিলিত আর্থিক মূল্য ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। অন্যদিকে, আর্থিক মূল্যমানের দিক থেকে ১০০০ টাকার নোট শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। গত জুন মাস শেষে, প্রায় ২০৩ কোটি ৭৮ লাখ ৮৫ হাজার ১০০০ টাকার নোট বাজারে বিদ্যমান ছিল, যার মোট আর্থিক মূল্যমান প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
বাজারে প্রচলিত কাগজের মুদ্রার মধ্যে ২০০ টাকার নোটের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে বাজারে ৫২ কোটি ৮৯ লাখ ২ হাজার ৩৪৯টি ২০০ টাকার নোট সচল ছিল, যার মোট আর্থিক মূল্যমান প্রায় ১০ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। লক্ষণীয় যে, ১০০ টাকা মূল্যমানের নোটের সংখ্যা ২০০ টাকার নোটের দ্বিগুণেরও বেশি, প্রায় ১১৭ কোটি ১৮ লাখ ৮৬ হাজারটি, যার সম্মিলিত আর্থিক মূল্যমান ১১ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেছেন যে, বাজারে বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের সংখ্যায় তারতম্যের মূল কারণগুলি হলো জনগণের দৈনন্দিন আর্থিক চাহিদা, নোটের প্রচলন গতি, স্থায়িত্ব এবং ছাপানোর পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব হিসাব এবং জরিপের মাধ্যমে কোন মূল্যমানের কত সংখ্যক নোট ছাপানো আবশ্যক, তা নির্ধারণ করে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের তুলনায় ছোট মূল্যমানের নোটের সংখ্যা কম। তিনি জানান, কাগজের স্বল্পতার কারণে সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী ২০ ও ১০০ টাকার নোট ছাপানো সম্ভব হয়নি। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ৫০০ ও ১০০০ টাকার মতো বড় নোটের সংখ্যাধিক্যের অন্যতম প্রধান কারণ। মূল্যস্ফীতির কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দৈনন্দিন কেনাকাটায় উচ্চমূল্যের নোটের চাহিদা বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক কেজির বেশি ওজনের ব্রয়লার মুরগি কিনতে এখন ২০০ টাকার অধিক প্রয়োজন হয়। এছাড়াও, ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথে সাধারণত ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট রাখা হয় এবং বড় অঙ্কের লেনদেন বা নগদ উত্তোলনে এই দুটি নোটের ব্যবহার ব্যাপক।
বর্তমানে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার কাগজের নোটের প্রচলন প্রায় বিলুপ্তির পথে, এবং এই মূল্যমানের ধাতব মুদ্রাও (কয়েন) জনগণ পকেটে বহন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। ফলস্বরূপ, বাজারে কার্যকর কাগজের নোটের মধ্যে ১০ টাকার নোটই সর্বনিম্ন মূল্যমানের হিসেবে বিবেচিত। রিকশাভাড়া, চা-নাশতার মতো ক্ষুদ্র লেনদেন এবং বাসভাড়ার ক্ষেত্রে ১০ টাকার নোটের হাতবদল সর্বাধিক পরিলক্ষিত হয়।
দৈনন্দিন ক্ষুদ্র কেনাকাটা ও লেনদেনে ২০ ও ৫০ টাকার নোটও উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, আর্থিক মূল্যমানে সামগ্রিক নোট প্রচলনে এদের অবদান তুলনামূলকভাবে কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বাজারে প্রচলিত ৯৬৬ কোটি ৫৪ লাখের অধিক কাগজের নোটের মধ্যে প্রায় ৩২৩ কোটি নোটই ১০, ২০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানের। আর্থিক মূল্যমানে এই তিন নোটের সম্মিলিত পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ৭ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। সুনির্দিষ্টভাবে, বাজারে প্রায় ১৫০ কোটি ১০ টাকার নোট, প্রায় ৯৪ কোটি ২০ টাকার নোট এবং ৭৯ কোটিরও বেশি ৫০ টাকার নোট প্রচলিত রয়েছে।
বর্তমানে বাজারে প্রচলিত নোটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেশ পুরোনো ও জীর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক সময়মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে পুরোনো নোট বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নতুন নোট ছাড়তে ব্যর্থ হওয়ায়, ছেঁড়া, ফাটা ও জীর্ণ ব্যাংক নোটের কারণে লেনদেনে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান পুনরায় উল্লেখ করেছেন যে, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের তুলনায় ছোট মূল্যমানের নোটের সংখ্যা কম। তিনি জানান, কাগজের অপ্রাপ্যতার কারণে সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী ২০ ও ১০০ টাকার নোট ছাপানো যায়নি। এছাড়াও, ১০ টাকার নোটের অত্যধিক প্রচলনের কারণে দ্রুত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে, এবং এর বিপরীতে নতুন নোট বাজারে আসতে কিছুটা সময় লাগে। এই সমস্ত কারণ সম্মিলিতভাবে ছোট মূল্যমানের নোটের বর্তমান স্বল্পতার জন্য দায়ী।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ব্যাংক নোট ছাপানোর ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
এই প্রসঙ্গে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মন্তব্য করেছেন, "আমরা চাইছি যে জনগণ নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনে অধিক আগ্রহী হোক। এই লক্ষ্যে বাংলা কিউআর কোডও চালু করা হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি পেলে নোট ছাপানোর খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।"
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইচ্ছামতো বাজারে নতুন নোট বা কাগজের মুদ্রা ছাপিয়ে ছাড়তে পারে না। 'বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২'-এর ৩০ ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে যে পরিমাণ নোট ছাড়বে, তার সমপরিমাণ আর্থিক মূল্যের ভৌত ও আর্থিক সম্পদ জামানত হিসেবে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে বাজারে প্রচলিত ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৮৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার কাগজের নোটের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সমমূল্যের মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষিত আছে। এই সম্পদ সোনা, রুপা, বৈদেশিক মুদ্রা, সরকারি সিকিউরিটিজ এবং ধাতব কয়েন আকারে বিদ্যমান।
প্রচলিত নোটের বিপরীতে জামানত হিসেবে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ সর্বাধিক। মোট ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে, যা নোটের বিপরীতে মোট জামানত সম্পদের প্রায় ৮১ শতাংশ।
জামানতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশ হলো বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেজারি বিল ও বন্ড, যার পরিমাণ ৪৫ হাজার ৯৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে এই সরকারি সিকিউরিটিজগুলিকে ব্যাকআপ বা গ্যারান্টি সম্পদ হিসেবে জমা রাখে।
কাগজের টাকার বিপরীতে সোনা সংরক্ষণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর একটি প্রাচীন ও বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক পদ্ধতি। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নোটের বিপরীতে ২১ হাজার ৭৩৪ কোটি ১১ লাখ টাকা মূল্যমানের সোনা এবং ১২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যমানের রুপা বিদ্যমান, যা মোট জামানতের প্রায় ৬ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক বা সরকারি সংস্থাকে প্রদত্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ ও অগ্রিম সুবিধার একটি অংশকেও জামানত সম্পদের ব্যাকআপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা।
উপরন্তু, বাজারে প্রচলিত ১, ২ ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সঞ্চিত থাকলে তা ব্যাংক নোটের ব্যাকআপ হিসেবে পরিগণিত হয়। নোটের বিপরীতে সঞ্চিত এই ধাতব মুদ্রার পরিমাণ ৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রদত্ত তথ্যানুসারে, গত জুন মাসের শেষ নাগাদ ৯৬৬ কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার ৪১৮টি বিভিন্ন মূল্যমানের কাগজের নোট দেশের অর্থনীতিতে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদানে সক্রিয় ছিল, যার মোট বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। এই বিশাল পরিমাণের প্রায় অর্ধেকই জুড়ে ছিল ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের নোট।
সংখ্যার বিচারে, ৫০০ টাকার নোট বাজারে সর্বাধিক প্রচলিত ব্যাংক নোট। বর্তমানে প্রায় ২৭০ কোটি ৫০০ টাকার নোট বাজারে সচল রয়েছে, যার সম্মিলিত আর্থিক মূল্য ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। অন্যদিকে, আর্থিক মূল্যমানের দিক থেকে ১০০০ টাকার নোট শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। গত জুন মাস শেষে, প্রায় ২০৩ কোটি ৭৮ লাখ ৮৫ হাজার ১০০০ টাকার নোট বাজারে বিদ্যমান ছিল, যার মোট আর্থিক মূল্যমান প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
বাজারে প্রচলিত কাগজের মুদ্রার মধ্যে ২০০ টাকার নোটের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে বাজারে ৫২ কোটি ৮৯ লাখ ২ হাজার ৩৪৯টি ২০০ টাকার নোট সচল ছিল, যার মোট আর্থিক মূল্যমান প্রায় ১০ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। লক্ষণীয় যে, ১০০ টাকা মূল্যমানের নোটের সংখ্যা ২০০ টাকার নোটের দ্বিগুণেরও বেশি, প্রায় ১১৭ কোটি ১৮ লাখ ৮৬ হাজারটি, যার সম্মিলিত আর্থিক মূল্যমান ১১ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেছেন যে, বাজারে বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের সংখ্যায় তারতম্যের মূল কারণগুলি হলো জনগণের দৈনন্দিন আর্থিক চাহিদা, নোটের প্রচলন গতি, স্থায়িত্ব এবং ছাপানোর পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব হিসাব এবং জরিপের মাধ্যমে কোন মূল্যমানের কত সংখ্যক নোট ছাপানো আবশ্যক, তা নির্ধারণ করে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের তুলনায় ছোট মূল্যমানের নোটের সংখ্যা কম। তিনি জানান, কাগজের স্বল্পতার কারণে সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী ২০ ও ১০০ টাকার নোট ছাপানো সম্ভব হয়নি। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ৫০০ ও ১০০০ টাকার মতো বড় নোটের সংখ্যাধিক্যের অন্যতম প্রধান কারণ। মূল্যস্ফীতির কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দৈনন্দিন কেনাকাটায় উচ্চমূল্যের নোটের চাহিদা বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক কেজির বেশি ওজনের ব্রয়লার মুরগি কিনতে এখন ২০০ টাকার অধিক প্রয়োজন হয়। এছাড়াও, ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথে সাধারণত ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট রাখা হয় এবং বড় অঙ্কের লেনদেন বা নগদ উত্তোলনে এই দুটি নোটের ব্যবহার ব্যাপক।
বর্তমানে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার কাগজের নোটের প্রচলন প্রায় বিলুপ্তির পথে, এবং এই মূল্যমানের ধাতব মুদ্রাও (কয়েন) জনগণ পকেটে বহন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। ফলস্বরূপ, বাজারে কার্যকর কাগজের নোটের মধ্যে ১০ টাকার নোটই সর্বনিম্ন মূল্যমানের হিসেবে বিবেচিত। রিকশাভাড়া, চা-নাশতার মতো ক্ষুদ্র লেনদেন এবং বাসভাড়ার ক্ষেত্রে ১০ টাকার নোটের হাতবদল সর্বাধিক পরিলক্ষিত হয়।
দৈনন্দিন ক্ষুদ্র কেনাকাটা ও লেনদেনে ২০ ও ৫০ টাকার নোটও উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে, আর্থিক মূল্যমানে সামগ্রিক নোট প্রচলনে এদের অবদান তুলনামূলকভাবে কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, বাজারে প্রচলিত ৯৬৬ কোটি ৫৪ লাখের অধিক কাগজের নোটের মধ্যে প্রায় ৩২৩ কোটি নোটই ১০, ২০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানের। আর্থিক মূল্যমানে এই তিন নোটের সম্মিলিত পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ৭ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। সুনির্দিষ্টভাবে, বাজারে প্রায় ১৫০ কোটি ১০ টাকার নোট, প্রায় ৯৪ কোটি ২০ টাকার নোট এবং ৭৯ কোটিরও বেশি ৫০ টাকার নোট প্রচলিত রয়েছে।
বর্তমানে বাজারে প্রচলিত নোটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেশ পুরোনো ও জীর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক সময়মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে পুরোনো নোট বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নতুন নোট ছাড়তে ব্যর্থ হওয়ায়, ছেঁড়া, ফাটা ও জীর্ণ ব্যাংক নোটের কারণে লেনদেনে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান পুনরায় উল্লেখ করেছেন যে, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের তুলনায় ছোট মূল্যমানের নোটের সংখ্যা কম। তিনি জানান, কাগজের অপ্রাপ্যতার কারণে সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী ২০ ও ১০০ টাকার নোট ছাপানো যায়নি। এছাড়াও, ১০ টাকার নোটের অত্যধিক প্রচলনের কারণে দ্রুত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে, এবং এর বিপরীতে নতুন নোট বাজারে আসতে কিছুটা সময় লাগে। এই সমস্ত কারণ সম্মিলিতভাবে ছোট মূল্যমানের নোটের বর্তমান স্বল্পতার জন্য দায়ী।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ব্যাংক নোট ছাপানোর ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
এই প্রসঙ্গে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মন্তব্য করেছেন, "আমরা চাইছি যে জনগণ নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনে অধিক আগ্রহী হোক। এই লক্ষ্যে বাংলা কিউআর কোডও চালু করা হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি পেলে নোট ছাপানোর খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।"
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইচ্ছামতো বাজারে নতুন নোট বা কাগজের মুদ্রা ছাপিয়ে ছাড়তে পারে না। 'বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২'-এর ৩০ ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে যে পরিমাণ নোট ছাড়বে, তার সমপরিমাণ আর্থিক মূল্যের ভৌত ও আর্থিক সম্পদ জামানত হিসেবে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে বাজারে প্রচলিত ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৮৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার কাগজের নোটের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সমমূল্যের মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষিত আছে। এই সম্পদ সোনা, রুপা, বৈদেশিক মুদ্রা, সরকারি সিকিউরিটিজ এবং ধাতব কয়েন আকারে বিদ্যমান।
প্রচলিত নোটের বিপরীতে জামানত হিসেবে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ সর্বাধিক। মোট ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে, যা নোটের বিপরীতে মোট জামানত সম্পদের প্রায় ৮১ শতাংশ।
জামানতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশ হলো বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেজারি বিল ও বন্ড, যার পরিমাণ ৪৫ হাজার ৯৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে এই সরকারি সিকিউরিটিজগুলিকে ব্যাকআপ বা গ্যারান্টি সম্পদ হিসেবে জমা রাখে।
কাগজের টাকার বিপরীতে সোনা সংরক্ষণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর একটি প্রাচীন ও বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক পদ্ধতি। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নোটের বিপরীতে ২১ হাজার ৭৩৪ কোটি ১১ লাখ টাকা মূল্যমানের সোনা এবং ১২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যমানের রুপা বিদ্যমান, যা মোট জামানতের প্রায় ৬ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক বা সরকারি সংস্থাকে প্রদত্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ ও অগ্রিম সুবিধার একটি অংশকেও জামানত সম্পদের ব্যাকআপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা।
উপরন্তু, বাজারে প্রচলিত ১, ২ ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সঞ্চিত থাকলে তা ব্যাংক নোটের ব্যাকআপ হিসেবে পরিগণিত হয়। নোটের বিপরীতে সঞ্চিত এই ধাতব মুদ্রার পরিমাণ ৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।