Sun 25th Oct 2026, 2:30 pm
|

তিন মহাদেশে আজ হাইভোল্টেজ নির্বাচন: ব্রাজিল, সার্বিয়া ও বুলগেরিয়ার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ

তিন মহাদেশে আজ হাইভোল্টেজ নির্বাচন: ব্রাজিল, সার্বিয়া ও বুলগেরিয়ার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ
আজ রোববার ইউরোপের দুই দেশ সার্বিয়া ও বুলগেরিয়া এবং লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল—এই তিন দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। অন্যদিকে, সার্বিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনে এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আলেকসান্দার ভুসিচের বিরুদ্ধে লড়ছেন শিক্ষার্থীদের সমর্থিত প্রার্থীরা। একইসাথে, বুলগেরিয়াতেও চলছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের উত্তাপ। **ব্রাজিল**
ব্রাজিলে আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দফার ভোটগ্রহণ। প্রথম দফায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলাকে পেছনে ফেলেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। কোনো প্রার্থীই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ায়। শেষ মুহূর্তের জনমত জরিপগুলো দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আজকের এই ভোটে নির্ধারিত হবে, আগামী চার বছর ব্রাজিল বামপন্থী নেতৃত্বের অধীনে থাকবে, নাকি ডানপন্থীদের হাতে ক্ষমতা ফিরবে। চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়ছেন লুলা দা সিলভা, যা সম্ভবত তার শেষ নির্বাচনী লড়াই। আগামী সপ্তাহে ৮১ বছর পূর্ণ হবে এই বর্ষীয়ান নেতার। তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিস্তৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, ফ্লাভিও বলসোনারো অপরাধ দমনের পাশাপাশি সরকারি ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতি নিয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ দেখা যায়। লুলার সরকারের বিরুদ্ধে খাদ্যের উচ্চমূল্য ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও, তার সমর্থকরা বলছেন সরকারের সামাজিক কর্মসূচিগুলো দরিদ্র মানুষের জন্য বিশাল সহায়ক হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ২৭ বছরের কারাদণ্ড হয় এবং তিনি বর্তমানে গৃহবন্দী। ফ্লাভিও বলসোনারো জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে বাবাকে মুক্ত করা হবে তার প্রথম কাজ। **সার্বিয়া**
সার্বিয়ায় আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচের জন্য এটি এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা। প্রায় দুই বছর ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৪ সালে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নোভি সাদে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে। এই আন্দোলন দ্রুতই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা সরাসরি নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও, তাদের সমর্থিত তালিকায় ২৫০ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অভিনেতা, কৃষকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ। হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ইলিজা সারদানোভিচ এই তালিকার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জনমত জরিপগুলো ভুসিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি এবং শিক্ষার্থীদের সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও বিভিন্ন জরিপে তাদের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন। ভুসিচের সমর্থকরা মনে করেন, তার শাসনামলে দেশের অবকাঠামোতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে, যেমন নতুন মহাসড়ক, রেলপথ, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণ। তিনি পেনশন ও সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা দুর্নীতি দমন এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির অঙ্গীকার করেছেন। তাদের অনেক প্রার্থীরই রাজনীতিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। যদি শিক্ষার্থীদের সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হন, তাহলে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের এই বলকান দেশটির রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তন আসতে পারে। সার্বিয়ায় স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। **বুলগেরিয়া**
বুলগেরিয়ায় আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই গিউরভ এগিয়ে রয়েছেন। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োতোভা গত জানুয়ারিতে রুমেন রাদেভের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যখন রাদেভ পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন। আলফা রিসার্চের এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ইয়োতোভা ৪১ শতাংশ এবং গিউরভ ২৮ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। ইয়োতোভাকে সমর্থন করছেন রাদেভ, অন্যদিকে পশ্চিমাপন্থী ও সংস্কারপন্থী দলগুলো গিউরভের পক্ষে রয়েছে। বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও, এবারের নির্বাচনে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে দুই প্রার্থীর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক ড্রোন হামলার ঘটনাও এই নির্বাচনে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করেছে, যেখানে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় দুই ডজনের মতো আন্তর্জাতিক নাবিক নিহত হয়েছেন। গিউরভ ইউক্রেনের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কিয়েভের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে, ইয়োতোভা ও রাদেভ উভয়েই যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে। যদি ইয়োতোভা বিজয়ী হন, তবে তিনি হবেন বুলগেরিয়ার সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। কোনো প্রার্থী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে আগামী ১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।