Thu 29th Oct 2026, 5:17 am
|

রাকসুর মেয়াদ উত্তীর্ণ: নতুন নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা ও জল্পনা

রাকসুর মেয়াদ উত্তীর্ণ: নতুন নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা ও জল্পনা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত সোমবার শেষ হয়েছে। তবে, নতুন নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আলোচনা বা দৃশ্যমান প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হলেও, রাকসুর ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাকসুর গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো বিধান না থাকায় বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সেই নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি (ভিপি) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদসহ মোট ২০টি পদে জয়লাভ করে।

একই সঙ্গে, হল সংসদগুলোর শীর্ষ পদগুলোতেও এই প্যানেলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন পর, ২৬ অক্টোবর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।

সেই তারিখ অনুযায়ী, গত সোমবারই রাকসুর বর্তমান কমিটির মেয়াদকাল শেষ হয়েছে। ১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে এই ছাত্র সংসদের যাত্রা শুরু হয়।

সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ রাখা হয়।

১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও, এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ছিল, যা গত বছর পুনরায় চালু হয়। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচনের সময়সূচি বা প্রস্তুতি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাবির সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ আলভি বলেন, “রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে। অথচ পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো আপডেট নেই।

এ নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রাকসু কোনো দয়া বা দান নয়, এটা আমাদের অধিকার। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়।

একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই রাকসু চাই। অন্যথায় রাজপথে দেখা হবে।

আমাদের অধিকার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।” রাকসু এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, “আমাদের সফলতা কেবল আমরা কী করতে পেরেছি বা পারিনি, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসুকে বাস্তবে রূপ দিতে পারা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঊর্ধ্বে থেকে মেয়াদ শেষ করতে পারাটাই আমাদের আসল সফলতা।” তিনি আরও যোগ করেন, “দীর্ঘদিন পর রাকসুর যাত্রা শুরু হওয়ায় পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার অভাবে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।

তবে, পরবর্তী সময়ে আমরা যা করেছি, তা থেকে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে। পরবর্তী রাকসু নির্বাচন ও নতুন সংসদের পথ সুগম করতে আমরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছি।” সালমান সাব্বির জানান, সর্বশেষ অধিবেশনে বর্তমান কোষাধ্যক্ষ স্যারকে গঠনতন্ত্র সংস্কার, নির্বাচনি তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে তাঁরা স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “পরবর্তী রাকসু অবশ্যই আদায় করে নিতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই, পরবর্তী রাকসু নির্বাচন কোনো প্রকার তালবাহানা না করেই প্রশাসন দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এটা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি আমরা।” শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “রাকসু সফল না ব্যর্থ—সে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আলোচনা করতে পারছেন, এটিও সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

কী করা প্রয়োজন এবং কী করা হয়নি, তা শিক্ষার্থীরা চিহ্নিত করতে পারছেন।” তাই পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন এবং রাকসু আদায়ের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “ভিসি স্যার পরবর্তী নির্বাচন দেবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

কিন্তু কার্যকরী সিদ্ধান্ত বা কোনো পদক্ষেপ আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি না।” তিনি আরও বলেন, “প্রথম থেকেই তো নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো আগ্রহ ছিল না। গতবার শিক্ষার্থীরা চারবার আন্দোলন করে নির্বাচন আদায় করেছে।” জাহিদ জানান, এবার যাতে সেটা করতে না হয়, সে বিষয়টি তাঁরা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

এরপরও যদি কোনো তালবাহানা করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁরা রাকসু আদায় করে নেবেন। নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর কথা নেই।

সে জন্য রাকসুর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। রাকসু ৩৫ বছর পর হয়েছে, আমরাও চাই রাকসু হোক।” তিনি আরও জানান, পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে, তখনই এর আয়োজন করা হবে।