Thu 29th Oct 2026, 11:07 am
|

সরকারি প্রাথমিকে উচ্চশিক্ষিতদের ভিড়: ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারী এখন শিক্ষকতায়

সরকারি প্রাথমিকে উচ্চশিক্ষিতদের ভিড়: ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারী এখন শিক্ষকতায়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার প্রতি উচ্চশিক্ষিতদের আগ্রহ এখন চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি আইপিইএমআইএস-এর পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ইউনিসেফ ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই পেশায় বিভিন্ন উচ্চ ডিগ্রিধারীদের যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ক আইপিইএমআইএস-এর সর্বশেষ (২৮ অক্টোবর) তথ্যে দেখা গেছে, প্রকৌশল, কৃষি, আইন, কম্পিউটারবিজ্ঞান, এমনকি চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকেও শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও এই শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। গত ২৮ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৪ জন শিক্ষক মাস্টার্স ডিগ্রিধারী।

এরপরেই ৯৯ হাজার ৯৭৭ জন শিক্ষক স্নাতক (পাস) ডিগ্রি নিয়ে শিক্ষকতা করছেন। এছাড়া, স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারী ২০ হাজার ৯৬৯ জন এবং এইচএসসি পাস করা শিক্ষক আছেন ৪২ হাজার ২৪২ জন।

বিভিন্ন ধরনের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিতদের মধ্যে ১৩ হাজার ১৪৯ জন বিএসএস ডিগ্রিধারী, ৮ হাজার ৫৬৩ জন এসএসসি পাস, এবং ৭ হাজার ৭১৯ জন এমবিএ ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন। ধর্মীয় শিক্ষায় পারদর্শী ৪১২ জন দাখিল, ১২৩৮ জন আলিম, ১৮৯৭ জন ফাজিল এবং ৫৭৪১ জন কামিল পাস শিক্ষকও প্রাথমিকে শিক্ষাদান করছেন।

প্রকৌশল ও কৃষিক্ষেত্রে শিক্ষিতরাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। ১ হাজার ৬১৭ জন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী, ২৫৮ জন বিএসসি ইন অ্যাগ্রিকালচার এবং ৪৯ জন ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন।

আইন বিষয়ে এলএলএম সম্পন্ন করেছেন ৩৮৬ জন ও এলএলবি ডিগ্রিধারী ৩১৬ জন শিক্ষক। এছাড়াও নার্সিংয়ে ২৩ জন, বিডিএস (ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি) ৪ জন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রিধারী ২১ জন ও এমএসসি ডিগ্রিধারী ১৭ জন শিক্ষক রয়েছেন।

শিক্ষাবিষয়ক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৩৬৭ জন এমএড, ২৮৭ জন বিএড (অনার্স) এবং ২৫৮ জন বিএড ডিগ্রিধারী শিক্ষক আছেন। বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করা ৪৩৮ জন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী ১২৬ জন, ম্যাটস ডিগ্রিধারী ৪১ জন, বিপিএড ডিগ্রিধারী ২৮ জন, বিএজিইডি ডিগ্রিধারী ১০ জন এবং ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার টেকনোলজি ডিগ্রিধারী ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন।

সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে ৪২ জন এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রিধারীও এই পেশায় যুক্ত আছেন। শিক্ষকদের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষকের সংখ্যা সর্বাধিক, ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৬ জন।

এরপরেই ৪৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮২ জন। ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ৮২ হাজার ৮৬০ জন, আর ৫৬ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষকের সংখ্যা ২৪ হাজার ৫৮৭ জন।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষকের সংখ্যা পুরুষ শিক্ষকের প্রায় দ্বিগুণ।

মোট ৬৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৫ জন নারী শিক্ষক কর্মরত আছেন, যেখানে পুরুষ শিক্ষকের সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ১৩৪ জন। শতকরা হিসাবে, ৬৬.৮৮ শতাংশ নারী শিক্ষক এবং ৩৩.০৯৮ শতাংশ পুরুষ শিক্ষক প্রাথমিক স্তরে শিক্ষাদান করছেন।