সাফের শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর শমিত সোম ও প্রবাসী ফুটবলাররা

সাফের শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর শমিত সোম ও প্রবাসী ফুটবলাররা
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর বসছে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্ট ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলাঙ্গনে দেখা যাচ্ছে নতুন উদ্দীপনা।

এবারই প্রথম সাফের মঞ্চে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে দেখা যাবে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম-এর মতো প্রবাসী ফুটবলারদের, যাদের প্রত্যেকেই মুখিয়ে আছেন দেশের জন্য শিরোপা জেতার জন্য। দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইতোমধ্যে সাফের প্রস্তুতি শুরু করেছেন কানাডা প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম।

আজ জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শমিত দৃঢ়তার সঙ্গে জানালেন, তাদের একমাত্র লক্ষ্য সাফের শিরোপা জয়। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।

২০২৫ সালের ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হয়েছিল শমিত সোমের। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই মিডফিল্ডার তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "আমরা সবার জন্য জিততে চাই।

আমি বুঝতে পারছি, এটা একটা বিশাল বড় টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশের সমর্থকদের সামনে খেলতে পারাটা সত্যিই দারুণ রোমাঞ্চকর।" প্রায় এক বছর পর জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলতে নামছে বাংলাদেশ দল।

এই মাঠে সর্বশেষ তারা ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল, যা দলের জন্য একটি সুখস্মৃতি। শমিত আশাবাদী যে, আসন্ন সাফেও ভারত কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও তারা ভালো ফল অর্জন করতে পারবে।

তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা এই স্টেডিয়ামে সর্বশেষ খেলেছিলাম এবং সেবার আমরা ভারতকে হারিয়েছিলাম। আশা করি, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও একই রকম ফল পাবো।" শমিত আরও বলেন, "দল ভালো করতে চায়, বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য, পুরো দেশের জন্য আমরা জিততে চাই।

দেখা যাক কী হয়; তবে, আমি আশাবাদী যে আমরা পারবো।" এদিকে, দলের জন্য একটি দুঃসংবাদ হলো ইনজুরির কারণে প্রবাসী তরুণ ফুটবলার রোনান সুলিভানকে সাফে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। কোচ থমাস ডুলি যাকে দিয়ে দলের ‘নাম্বার নাইন’ সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন।

রোনানের অনুপস্থিতিতে এখন অন্যান্য ফরোয়ার্ডদের ওপরই আস্থা রাখতে হবে তাকে। রোনানের দল থেকে ছিটকে যাওয়ার খবরে হতাশা প্রকাশ করে শমিত বলেন, "সে একজন ভালো খেলোয়াড়, একজন দারুণ তরুণ প্রতিভা।

আমরা তাকে অবশ্যই মিস করব। তবে আমাদের দলে আরও অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে এবং আক্রমণে বিকল্পও রয়েছে।

তাদের নিয়েই আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। আশা করি, ভবিষ্যতে সে আবার মাঠে ফিরতে পারবে।" অন্যদিকে, ভুটানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ হামজা চৌধুরী ও ফারহানকে ছাড়াই মাঠে নামবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে দলের অন্যদের আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করেন হামজা চৌধুরী। তিনি বলেন, "আমাদের আরও খেলোয়াড় আছে, যাদের ওপর আমার আস্থা রয়েছে।

তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারবে।" হামজা আরও যোগ করেন, "যদিও তা হয়তো হামজার মতো হবে না, কারণ প্রত্যেকের খেলার ধরন আলাদা। তবে ভুটানের বিপক্ষে ভালো ফল করার মতো আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে।"