Mon 26th Oct 2026, 11:56 am
|

সার্বিয়ার নির্বাচনে আলেকসান্দার ভুচিসের ভরাডুবি: তরুণদের ঐতিহাসিক জয়

সার্বিয়ার নির্বাচনে আলেকসান্দার ভুচিসের ভরাডুবি: তরুণদের ঐতিহাসিক জয়
ইউরোপের দেশ সার্বিয়ার সাম্প্রতিক নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। এর মাঝেই দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক আলেকসান্দার ভুচিস পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন।

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ফলাফল যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে চলেছে। এই নির্বাচনে ভুচিসের ভরাডুবি সার্বিয়ার তরুণদের প্রায় দুই বছর ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তরুণদের মনোনীত প্রার্থীরা পার্লামেন্টের এই আগাম নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে জয়ের পথে রয়েছেন। ভুচিস নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, বিরোধী জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসনে জয় পেতে পারে, যেখানে তাঁর দল ১০৫টির মতো আসন পাবে।

সার্বিয়ার পার্লামেন্টে মোট আসন সংখ্যা ২৫০টি। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়েছে।

সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ভোটার উপস্থিতির হার ৬৪.৯ শতাংশে পৌঁছায়, যা ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিলুপ্তির পর সর্বোচ্চ ভোটের হার। চূড়ান্ত ফলাফল আসার আগেই আলেকসান্দার ভুচিস ঘোষণা করেন, “এটা স্পষ্ট, আমরা এ নির্বাচনে হেরে গেছি।” আলেকসান্দার ভুচিসের এই ঘোষণার পর ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’-এর কার্যালয়ে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

সমর্থকেরা নেচে-গেয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন। ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ জোটের প্রার্থী রাদোমির সাইসিস তার ভাষণে বলেন, প্রাথমিক ফলাফলে প্রায় সব কেন্দ্রেই শিক্ষার্থীদের মনোনীত প্রার্থীরা নিশ্চিতভাবে এগিয়ে আছেন।

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা জিতেছে। সার্বিয়ায় ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মর্যাদা সুনিশ্চিত হবে, সে আশাও জিতেছে।

আজ রাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হোক।” মূলত, সার্বিয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে চলা দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’-এর উত্থান হয়। নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তরুণরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল।

আলেকসান্দার ভুচিস ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয় মেয়াদের সুযোগ না থাকায় তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চেয়েছিলেন।

তবে এখানেই তিনি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ, ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ (সিআরটিএ) জানিয়েছে, ৫০০টি ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে তাদের পর্যবেক্ষকেরা প্রায় এক-তৃতীয়াংশে ভোটার বা নির্বাচনী কর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছেন।

এছাড়া, ‘সেন্টার ফর ফ্রি ইলেকশনস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ ব্যালট পেপারের ছবি তোলা, দলবদ্ধভাবে ভোট দেওয়া এবং পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জটিলতার মতো প্রায় ২৬০টি সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে। আলেকসান্দার ভুচিস পরাজয় স্বীকার করে নেওয়ার পর সার্বিয়াজুড়ে বিজয়োৎসব শুরু হয়।

বেলগ্রেডের আকাশ রঙিন আতশবাজির আলোকচ্ছটায় ভরে যায় এবং হাজারো মানুষ প্রধান সড়কে নেমে আসেন। ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’-এর সমর্থকেরা গাড়িতে করে ঘুরে বেড়ান, অনবরত হর্ন বাজিয়ে উদযাপন করেন এবং ‘আলেকসান্দার বিদায় নিয়েছেন’ স্লোগান দেন।

বেলগ্রেডের পার্লামেন্ট ভবন ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের মাঝামাঝি একটি পার্কে প্রায় ১৮ মাস ধরে এসএনএস-এর সমর্থকেরা যে তাঁবু টানিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন, গতকাল জনতা সেসব তাঁবু ভেঙে দিয়েছে।